গুণমণি | সামাজিক উপন্যাস

প্রচ্ছদ

জ্যৈষ্ঠের প্রথম দুপুর। ফেরিওয়ালার হাঁক-পাঁক এবং আইস্ক্রিমওয়ালার ঘণ্টার শব্দে ঝিঙের ফুল পর্যন্ত আইঢাই করছিল। গ্রৈষ্মিক গরমে তাপক্লান্ত যুবক অনিচ্ছাসত্ত্বেও হাঁটছিল। ঘামে জবজব শার্ট বলিষ্ঠ দেহে অষ্টে-পৃষ্ঠে এঁটেছিল। হঠাৎ থমকে ডান উরুর রগে মালিশ করে বাতাসে ঘ্রাণ শুঁকে ডানে বাঁয়ে তাকায়। বাসার প্রবেশদ্বারে লেখা বিভাসালয়। কপালের ঘাম মুছে হাতে সূর্য আড়াল করে কাঁঠাল গাছের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘হে কাঁঠালগাছ! আমাকে একটা কাঁঠাল দাও, জাতীয় ফল খেয়ে চাঙা হব। পেটের ভুখে পা প্রায় নিশ্চল। গ্রীষ্মাবকাশে দেশে এসে নিরবকাশ হয়েছি। বাংলাদেশ যে কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির অন্তর্ভুক্ত তা আজ তাপক্লিষ্ট হয়ে জেনেছি।’
ঠাঠাপড়া রোদের তাপে মাঠি থেকে ভাপ ওঠছিল। আকাশছায়ে বসে গল্পগুজব করার অবসর কারো নেই। মুখের দিকে তাকিয়ে মতিগতি আন্দাজ করা দুষ্কর। মনের কথা কেউ খুলে বলতে চায় না। যুবক চারপাশে তাকিয়ে কিছু ঠাহর করার চেষ্টা করে। তার হাবভাবে উদ্গ্রীবতা এবং দিগ্ভ্রান্তির দুশ্চিন্তা চোখে মুখে স্পষ্ট। কেউ তার দিকে তাকায় না। নিজ বিষয়-আশয় নিয়ে সবাই ব্যস্ত। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নিম্নকণ্ঠে বলল, ‘হে সভ্যতা, তুমি আমাকে হতাশ্বাস করেছ। গরমের কালে আহাল শুরু হয়েছে। বিষাদিত বাতাসে মন বিষাক্ত হচ্ছে। আমি অবাকদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি। অনেকে বলে আমার বুদ্ধিতে ঘুণ ধরেছে। হয়তো সত্য, তাই আমি খোনা গলায় গান গাই। কবে কে যেন কানেকানে বলেছিল, কোনোএক কালে তুমি নাকি অসভ্য ছিলে? সত্যাসত্য জানার জন্য সত্যান্বেষী হয়ে জেনেছি সভ্যতা বলতে কিচ্ছু নেই, অত্যন্ত দুর্দান্তের দুর্দশা দেখে বিদ্বান ব্যক্তি দুশ্চিন্তিত এবং বরফট্টাই ঠাটবাটে তল্লাটের বড়লাট হওয়ার হিড়িক পড়েছে।’
এমন সময় বাসার সামনে গাড়ি থামে এবং তার দিকে তাকিয়ে চালক সকাতরে বললেন, ‘বাবা, দয়া করে গেট খুলে দিলে তোমার জন্য দোয়া করব।’
গেট খুলে দিলে কিছু না বলে উনি দ্রুত চালিয়ে ভিতরে যান। গেট লাগিয়ে গাছের দিকে তাকিয়ে কপাল কুঁচকে হাঁটতে শুরু করে যুবক বলল, ‘বলেছিলেন গেট খুলে দিলে দোয়া করবেন। খুলে দিলে দোয়া তো দূরের কথা ধন্যবাদও বলেননি। কচি গাছের কাঁচা কাঁঠাল আমি আর খাব না।’
উনি দৌড়ে গেটের পাশে যেয়ে ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে তাকে ডেকে বললেন, ‘যুবক, ফিরে আসো।’
‘এখন আবার কী কাজ করাতে চান?’ বলে যুবক ঘুরে কপাল কুঁচকে বলল, ‘আমাকে ডেকেছেন নাকি?’
‘হ্যাঁ, দয়া করে ফিরে আসো।’
যুবক দ্রুত গেলে তার মুখের দিকেয়ে তাকিয়ে উনি বললেন, ‘কিছু খেয়েছ?’
‘জি না।’
‘আমিও খাইনি। ভিতরে আসো, আমার সাথে খাবে।’
‘অনেক ধন্যবাদ। কাজ করাতে চান নাকি?’
‘ভিতরে আসো, খাবার টেবিলে বসে কথা বলব।’ বলে উনি হাঁটতে শুরু করেন। যুবক মাথা নেড়ে অনুসরণ করলে হাতের ইশারায় পাশে ডেকে উনি বললেন, ‘আমার পাশে আসো।’
পাশে গেলে উনি বললেন, ‘তোমার নাম কী?’
‘আমার আম্মা আমাকে মঞ্জু ডাকতেন।’
‘আমিও ডাকব।’
‘আপনার ইচ্ছা। চাইলে ডাকতে পারবেন।’
‘কোথায় থাকো?’
‘বিতাড়িত হয়ে ভবঘুরে হয়েছি। আমার বাবা আমাকে গলাধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বার করেছেন। উদ্বাস্তু হয়ে আপন গরজে ঘুরে বেড়াচ্ছি।’ বলে মঞ্জু মুখ বেজার করে। তার আপাদমস্তক নিরীক্ষা করে গম্ভীরকণ্ঠে উনি বললেন, ‘কেন?’
‘আমি জানি না। আমি নাকি কুলাঙ্গার।’
‘কুলাঙ্গার শব্দের অর্থ কী?’

গুণমণির_গল্প

তারপর পড়ার জন্য অথবা ডাউনলোড করার জন্য ক্লিক করুন ….

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s