মানসী | প্রেমোপন্যাস

প্রচ্ছদ

আকাশ ঝামরিয়ে পরিবেশ মেঘাচ্ছন্ন হলেও বনবাদাড়ে বসন্তোৎসব। লীলাচঞ্চলে পুষ্পসুবাস। পরিযায়ী পাখিরা তামাবিলে নেমে জলকেলি করছিল। ছাদের উপর দাঁড়িয়ে তুহিন গুনগুন করে চারপাশে তাকায়। আশেপাশে লোকজন নেই। চোখ বুজে গানে টান দেবে এমন সময় মেঘডম্বর ফেটে তামাবিলে বাজ পড়ে ছ্যাঁৎ করে ওঠলে পাখিরা উড়াউড়ি করে। তুহিন বুকে থু থু দিয়ে মাথা তুলে সামনের বাসার দিকে তাকায়। সালোয়ার কামিজ পরিহিত যুবতী তড়বড় করে গাড়ি থেকে নেমে ভোঁ দৌড়ে বাসায় প্রবেশ করার সাথে সাথে ঝিরঝিরে বৃষ্টি অঝােরধারে ঝরে, যেন একবারের বর্ষণে বান ডাকবে। বাজের ডাকে দাঁত কটকট করে তুহিন দৌড় দিতে চেয়ে সামনের বাসার ছাদের দিকে তাকিয়ে নিম্নকন্ঠে বলল, ‘আনন্দময়ী নিশ্চয় অলোকসুন্দরী?’
যুবতী তখন ছাদে ওঠে দু হাত মেলে মনোল্লাসে বৃষ্টিস্নান করছিল। বৃষ্টিসজল উজ্জ্বলাকে দেখে কাব্যরসিকের মতো ভাববোলাকণ্ঠে কবিতাবৃত্তি করে, ‘বৃষ্টিতে ভিজে জেল্লাময়ী পরিপার্শ্বে কামানল জ্বালিয়েছে। বৃষ্টিভেজা বিতনুকে দেখে মিনমিনে মন চনচনে হতে চাইছে। হে বৃষ্টিবিলাসিনী! তোমাকে বাহুতে পাওয়ার জন্য আমি অপেক্ষমাণ। বরণ করলে অবিস্মরণীয় হবে বর্ষণমুখর বাদলসন্ধ্যা।’
মনের কথা মানসীর কানে না পৌঁছে ঝমঝম বৃষ্টির শব্দে অস্পষ্ট হয়। আনন্দোদ্ভাসিত বৃষ্টিবিলাসিনীর প্রাণবন্ত চাঞ্চল্যে তুহিন জীবনীশক্তির সন্ধান পেয়ে আনন্দবিহ্বল হয়ে অপলকদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। তাকে হাসতে দেখে বাদলবরিষণ ঝরিয়ে নীলিমা মুচকি হাসে। বৃষ্টি এবং বৃষ্টিবিলাসিনীকে ধন্যবাদ বলে দ্রুত নেমে গোসলখানায় প্রবেশ করে এবং মাথা ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছতে মুছতে বেরিয়ে উচ্চকন্ঠে বলল, ‘এক কাপ গরম চা চাই।’
এমন সময় বার কয়েক বিজলি চমকালে আনন্দোচ্ছল যুবতী সন্ত্রস্তা হয়। তুহিন শুকনো কাপড় পরে আস্তেধীরে হেঁটে জানালার পাশে যায় এবং দু হাতে কপাট খুলে চৌকাঠে ঠেক দিয়ে সামনের বাসার দিকে তাকায়। বৃষ্টিবিলাসিনী তখনও বৃষ্টিস্নান করছিল। তুহিন মৃদু হেসে শিউরে হাতে হাত মলে দু হাতে মুখ ঢেকে হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’বলে আরো কয়েকটা হাঁচি দিয়ে ডান হাতে নাক ঘষে এবং আরো হাঁচি আসতে চাইলে কাঁধ ঝুলিয়ে হতাশকণ্ঠে বলল, ‘এ কী সর্বনাশ করেছি?’
চা’র কাপ হাতে বৃদ্ধা প্রবেশ করে বলল, ‘সাহেব, আপনার চা। রাতের রান্না সেরেছি। আমি এখন চলে যাব।’
তুহিন কাপ হাতে নিয়ে সামনের বাসার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘অমনি অথবা শূন্য হাতে কুটুমবাড়ি গেলে ভূতে কিলায়। অমন করে কেউ অমনি অমনি কথা বলে না। বিমনা হলেও মন অমনি বিক্রীত হয় না। ঢিল না মারলে গাছ থেকে বেল অমনি মাথায় পড়ে না।’
বৃদ্ধা কপাল কুঁচকে বলল, ‘সাহেব, মাঘের মেঘে ভিজে এমনি অমনি কথা বলছেন কেন?’
তুহিন বুক ভরে শ্বাস টেনে বলল, ‘অমৎসর হতে চাই আমি জানি আমার মনে অমতি। বরাবর বারোটায় রোজ বারবেলা শুরু হয়। ঘরেবারে হাঁটি আমি আত্মার আত্মিয়ার দেখা না পাই। মিনমিনে মন যাকে দেখে চনচনে হয়েছে তার সাথে মন বিনিময় করতে চাই।’
‘সাহেব, আজ আপনার কী হয়েছে?’
‘আম্মা!’ বলে চিৎকার করে তুহিন কান পেতে বলল, ‘সোনাসংসার আজাড় হলে মধুর বুলি ভীষণ শব্দে প্রতিধ্বনিত হয়। পরিবেশ নিস্তব্ধ হলে আমার কলিজাকে ধুনখারা বানিয়ে কে যেন তোলো ধুনে। ধুনুরিকে আমি কখনো দেখিনি। কোথাও শান্তি নেই। শান্তি এবং স্বস্তির জন্য আত্মার আত্মিয়ার পাশে বসে খোশগল্প করতে চাই।’
‘সাহেব, আপনি তো জানেন আপনার সব কথা আমি বুঝি না।’
‘একে একে সবাই অমরাবতী চলে গিয়েছেন। শুধু আমি অবশিষ্ট, নীরবে নিপীড়িত এবং নিষ্পেষিত হওয়ার জন্য।’
‘সাহেব, একটা কথা বলি, দয়া করে রাগবেন না।’
‘ঠিকাছে রাগব না।’
‘বিয়ে করছেন না কেন?’

মানসীর_গল্প

তারপর পড়ার জন্য অথবা ডাউনলোড করার জন্য ক্লিক করুন ….

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s