সত্য প্রেম | প্রেমোপন্যাস

প্রচ্ছদ

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, রমণে রমণীয় হয় রমণী এবং রত্নশিল্পীর কলাকৌশলে নীল পাথর হয় নীলকান্তমণি। কিংবদন্তি হলেও রত্নবনিকরা বিশ্বাস করে এবং বাতাসে কানাঘুষো, নীলগিরির গুপ্ত গুহায় সংগুপ্ত নবরত্ন আছে। তা শুনে কেউ কেউ বলে কোটারি যেমন কর্ণকুহরে প্রবেশ করতে পারে তদ্রুপ নীলগিরিতেও রত্নের খনি থাকতে পারে, এর মানে সত্যাসত্য জানার জন্য সন্ধানী হলে প্রকৃত তথ্য এবং রত্নের সন্ধান মিলবে। যেমন, অনুধ্যানে আত্মান্বেষীরা আত্মদর্শন করে এবং পরমসত্যান্বেষণে সত্যান্বেষীরা চিন্ময় হয়। তত্ত্বানুসন্ধানে সমাজতাত্ত্বিক না হতে পারলেও মনস্তাত্ত্বিক অথবা প্রত্নতাত্ত্বিক হওয়া যায় এবং আপখোরাকির জন্য স্বার্থান্বেষীরা তক্কেতক্কে ঘুরায়। এমন এক অন্বেষক জাঁকজমকপূর্ণ সামাজিক অনুষ্ঠানের অলোক-সুন্দরী উপস্থাপিকার কণ্ঠহারের মধ্যমণি দেখে নবরত্নের অন্বেষক হয়। তার নাম আনীল। বই অভিধান ঘেঁটে নবরত্নের নাম জানলেও নিশ্চিত হতে পারেনি, নীলাচলের নীলগিরি না ওড়িশার নীলগিরিতে তা লুক্কায়িত। গূঢ়তত্ত্ব জানার জন্য উপস্থাপিকার সাথে তথ্য লেনদেন করতে যেয়ে আপাতদৃষ্টে ভালোবাসার সূত্রপাত হয়। তথ্য চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত হলে, স্থিরচিত্তে সিদ্ধান্ত করে অভিযাত্রী বেশে বেরিয়ে দেশের নিগূঢ়তম প্রদেশে প্রবেশ করে ব্যস্ততার মিছিলে মিশে অদৃশ্য হলে তার অপেক্ষায় উপস্থাপিকা অপেক্ষিত হয়। বিশ বাইশ বছর পর ভরদুপুরে নীলা নামক যুবতীর মুখোমুখি হলে উদ্ভট কাণ্ড ঘটে। ভয়বিস্ময়ে ভিরমি খেয়ে নীলা এলিয়ে পড়লে আনীল চোখ বুজে অগ্নিমন্ত্র জপে বাতাসে হাত বুলায়। তার হাতের ছায়া মুখের উপর পড়লে চোখ মেলে তার মাথার উপর সূর্যকে দেখে নীলা চিৎকার করে। লোকজন জড়ো হলে নিলীয়মান আনীলের কণ্ঠ নীলার কানে প্রতিধ্বনিত হয়, ‘নভোনীল শাড়ি পরে নীলা হয়েছ তুমি নীলিমা হতে পারনি। আনীলে নীল মিলে নীলিমা হলেও নীলাঞ্জনাকে নীলা ডাকা যায় না। অলোক-সুন্দরীর নয়ন নীল হলে ওকে নীলনয়না না ডেকে নীলা ডাকা মানানসই।’
বিস্মায়াভিভূত নীলার জন্ম নীলাচল, লেখাপড়ার জন্য সিলেট এসেছে। অনিল নামক যুবকের সাথে চোখাচোখি হলে তার বন্ধুরা ইয়ারকি করে বলে, নীলাকে তুই পাবে না। নীলাকে পেতে হলে আনীল হতে হবে। বন্ধুদের ব্যঙ্গোক্তি শুনে অনিলের মন টলে। অসহায়ের মত নীলার দিকে তাকিয়ে বুক কাঁপিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। সাদরে দাদি তাকে অনিল ডাকেন। আনীল ডাকার জন্য কত মিনতি করেছে কিন্তু দাদি তাকে অনিল নামেই ডাকেন। নীলনয়ানারা নাকি কুহকিনী। নীলনয়নাদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য তাকে আদেশ করেছেন। নীলা আড়চোখে তাকালে চোখ বুজে শিউরে উঠে এবং তার কানে আদেশাজ্ঞা প্রতিধ্বনিত হয়। তো যাক, গ্রীষ্মের ছুটিতে দাদা দাদিকে দেখার জন্য গ্রামে পৌঁছে পরিবেশ এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঐতিহাসিক ভদ্রলোক সাজে। ফজরের নামাজ পড়ে জানালা খুলে পরিপার্শ্বে তাকিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছিল। সূর্যতাপে কোয়াশা বাষ্প হয়ে আস্তেধীরে পরিবেশ পরিষ্কার হয়। বারোমাসি বড়ুইর ডালে নতুন পাতা গজিয়েছে। শিশিরধৌত ফুল কুঁড়িরা শীতল বাতাসের স্পর্শে ফুরফুরে হয়। হিজলডালে বসে পাখিরা ভোরাই গায়। টোনাটুনির টুনটুন ভোরকে প্রাণবন্ত করে। হঠাৎ ছোট্ট পাখি তার সামন দিয়ে ওড়ে যায়। দেখতে সোনা চড়াইর মত। টুনটুনি ভেবে চকিত হলেও পরক্ষণে অত্যাশ্চর্য হয়। ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে দ্রুত দরজা খুলে ঘর থেকে বেরোয়। সাতসকালে হন্যের মত হাঁটতে দেখে দাদি হেঁকে বললেন, ‘অনিল, কোথায় যাচ্ছিস? পাকঘরে আয়, আমার সাথে নাস্তা খাবে।’
‘জি দাদিজান আসছি।’ বলে অনিল দৌড়ে পাকঘরে যেয়ে বলল, ‘দাদিজান, আমাদের গ্রামে নুরি আসলো কোথা থেকে?’
‘পূবের বাড়ির নুরির কথা বলছিস নাকি? তোকে দেখার জন্য এসেছে হয়তো। তোর পছন্দ হলে এখুনি বিয়ের প্রস্তাব উত্থাপন করব।’
‘ইয়া আল্লাহ আমাকে তরাও, বোকার মত বকবক করে আজ আমি বিপাকে পড়েছি।’
‘গরম চা ঠাণ্ডা হচ্ছে, মুখে বুজে গণ্ডে-পিণ্ডে গিল। মনে রাখিস, বেপাড়ায় মস্তানি করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।’ বলে দাদি বিদ্রুপ হাসেন। অনিল কথা না বলে চার আনা তিন সিকি মানত করে নাস্তা খেয়ে পাকঘর থেকে বেরিয়ে বেড়াতে যায়। বন বাগানে কাঁচপোকারা ভনভন করছিল, বভ্রু ফুলের সাথে ভ্রমরীরা ভাব জামাতে ব্যস্ত। দোরসা জমিতে ধান এবং রাই চাষ করা হয়েছে। ধানের শিষে ঢেউ তুলে রাই রেনুর সুবাসে সুবাসিত বাতাসে অনিল প্রাণবন্ত হয়। পল্লি বাংলার প্রাকৃতিক পরিবেশে কত জীবনীশক্তি আছে তা অনুভব করতে হলে বাংলার বাতাসে মন ভাসাতে হয়। অনিল তাই করেছে এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিমুদ্ধ হয়ে হাঁটছিল। পাড়াকুঁদুলি নুরি তখন তাইরে নাইরে করে নেচে বেড়াচ্ছিল। দুজন চোখাচোখি হলে ভ্রু দিয়ে ইশারা করে চোখ টেপে নুরি বলল, ‘বাতাস বন্ধু, এক কাহনে কয় কড়া বলতে পারলে তোকে আমি বিয়ে করব না।’
অনিল দৌড়াতে চাইলে খিল খিল করে হেসে নুরি বলল, ‘উত্তর ভুল হলে বাসর-ঘরে ঠিকঠাক করব।’
‘ঠিকাছে, তুই এখন দক্ষিণ পূর্বে যা হিসাব কষে উত্তর পশ্চিম থেকে তারবার্তাপাঠাব।’ বলে অনিল বিড়বিড় করে, ‘কার্ষাপণের অর্থ ষোলো পণ অথবা এক কাহন। এক পণে কুড়ি গণ্ডা। কুড়ির অর্থ বিশ এবং গুণ্ডার অর্থ চার। কুড়ি গণ্ডায় চব্বিশ না আশি? মহা সমস্যা, নুরির বাসরে বসতে চাই না রে মনা।’

সত্যপ্রেমের_গল্প

তারপর পড়ার জন্য অথবা ডাউনলোড করার জন্য ক্লিক করুন ….

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s