সুতনুকা | ভালোবাসার গল্প

ভালোবাসার_গল্প

সায়ংকালে সূর্য ডুবতে শুরু করেছিল। ভাসমান মেঘের সাথে চাঁদ লুকোচুরি খেলছিল। পরিবেশে মৃদুমন্দ বাতাস বইছিল। এক উদাসী তার প্রিয়তমার জন্য অপেক্ষা করছিল। নিঃসঙ্গ এবং মর্মাহত, সাগরসৈকতে হাঁটছিল এবং কড়ি কুড়াচ্ছিল। যা তার মনকে বিবেশ করছিল। যথেষ্ট কড়ি কুড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে বসে অগণ্য ঢেউ গোনছিল। অবুঝের মত পানিতে হাত দিয়ে চাঁদকে স্পর্শ করবে এমন সময় এক অপরূপা তার সামনে আবির্ভূত হয়ে বলল, ‘কা’র জন্য অপেক্ষা করছ?’
উদাসী চমকে ওর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমি আমার প্রিয়তমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’
অপরূপা একটা পাথরে বসে তার দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে। উদাসী এগিয়ে যেয়ে বলল, ‘আমি জানতে ইচ্ছুক, তুমি কে বা কী?’
‘বিরহিণী আমি আমার প্রিয়তমের জন্য অপেক্ষা করছি। আমার পাশে বসো।’
উদাসী মাথা নেড়ে বালিতে বসে কড়ি নিয়ে খেলতে শুরু করে আড়দৃষ্টে তাকিয়ে বলল, ‘ইতিপূর্বে তোমাকে দেখিনি।’
‘এখানে কি সচরাচর আসো?’
‘হ্যাঁ।’
‘তুমি কি নিঃসঙ্গ?’
‘হ্যাঁ।’
‘তোমার হাবভাবে মর্মব্যথা বিদ্যমান, কেন বলবে?’
উদাসী দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, ‘প্রেম একটা শব্দ মাত্র, তাই না?’
‘হ্যাঁ, প্রেম একটা শব্দ মাত্র।’ বলে অপরূপা বিচলিত হয়ে মাথা দুলায়। উদাসী পাথরে পিঠ রেখে সাগরে কড়ি ছুঁড়ে বলল, ‘প্রেম আরাধ্য এবং কাম ঘৃণ্য। কামিনীর কামনায় বারার কামার্ত হই।’
‘তুমি সত্যি মর্মাহত, তাই না?’
‘হ্যাঁ, আমাকে আমার প্রিয়তমা মর্মাহত করেছে।’
‘আমিও মর্মাহত।’ বলে অপরূপা দাঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করে। উদাসী চোখ বুজে চিৎকার করে বলল, ‘কেন প্রেমে মজেছিলাম বিরহানলে দগ্ধ হওয়ার জন্য?’
অপরূপা পিছন ফিরে বলল, ‘প্রমা নন্দে ভরপুর এবং প্রেম হল নন্দিত হওয়ার জন্য।’
‘সত্যাসত্য না জেনে আমি নন্দিত হওয়ার মানসে সানন্দে নিরানন্দ হয়েছি।’
‘আক্রোশে নিরাশ হলে তুমি নিষ্প্রতিভ হবে, সাঁতারুর জন্য নিষ্ফল আক্রোশ নিষ্প্রয়োজন।’
‘নিরাশ আমি মর্মাহত। স্বপ্নহীন শয়ন আমার জন্য কষ্টদায়ক, বিচ্ছেদের রাত স্যতি যন্ত্রনাদায়ক।’
অপরূপা পিছু হেঁটে বলল, ‘আমি তোমাকে কী ডাকব?’
উদাসী ঝম্পে ওঠে বলল, ‘কী ডাকতে চাও?’
অপরূপা দুষ্টুহাসি হেসে বলল, ‘প্রেমী ডাকি?’
‘আহ, বড্ড লেগেছে।’
‘আমি কী করলাম?’ বলে অপরূপা খিল খিল করে হাসে।
‘আমি জানি তুমি নরফাঁদ। দয়া করে ভোঁয়া ধরে টান দিয় না, সত্যি কষ্ট হয়।’
‘আমার প্রেমী আর কখনো ফিরবে না।’
‘আমিও অপেক্ষা করছিলাম মাত্র।’
‘কার জন্য?’
‘উদাসিনীর জন্য।’
‘কেন?’
‘আমি চাই দুঃখ ব্যথার ভাগ করি।’
‘আমার সাথে ভাগ করবে?’
‘প্রমা তুমি আমার জন্য দৃষ্টিভ্রম।’
অপরূপা হাসতে হাসতে বলল, ‘তুমি আমাকে প্রিয়তমা ডাকতে পারবে।’
উদাসী বুকের বামপাশে হাত রেখে বলল, ‘এখন তুমি আমার হৃদয় ধরে টানছ এবং আমার পেটে কাতুকুতু হচ্ছে।’
‘কেন?’
‘প্রিয়দর্শিনী তুমি স্বপ্নচারিণী।’
‘হয়তো। কিন্তু, তুমি হলে হস্থপূর্ণ এবং আমি তোমার বাহুতে আবদ্ধ হেত চাই। দয়া করে এগিয়ে এসে বলো, রূপসী আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
‘আমি বলতে চাই কিন্তু তুমি মানবিকা।’
‘নিঃসঙ্গ আমি অলোকসুন্দরী মাত্র।’
‘যৌবনমদমত্তা…।’
‘আমাকে একটা কবিতা শুনাও।’
‘আমি এক ব্যর্থ প্রেমিক।’
অপরূপা কাছে যেয়ে অনুপলে তার অধর চুমে বললল, ‘এখন কী?’
উদাসী ধপাস করে বালিতে বসে বললাম, ‘ওটা কী ছিল গো?’
অপরূপা অট্টহাসি হেসে বলল, ‘প্রেমচুম্বন।’
উদাসী দুহাত উঁচিয়ে বলল, ‘আমাকে আমার গন্তব্যে নিয়ে যাও।’
অপরূপা হাসতে হাসতে বলল, ‘সবাই বাঁচার জন্য মরনপণ করে। তুমি মরতে চাও কেন?’
‘আমি মরতে চাই, কারণ…।’
‘কথাগুলো বলো।’
উদাসী হাসতে হাসতে বলল, ‘আমাকে তোমার সাথে কাম করতে দাও। আমি তোমার কামনাকে ক্লান্ত করব, তুমি নন্দিতা হবে প্রাণবন্ত।
‘হে অনামিক।’
উদাসী হাঁটতে শুরু করে হাত নেড়ে বলল, ‘আমাকে প্রিয়তম ডাকো, ফিরে তাকাব।’
‘তোমার নাম বলো, হাত ধরে হেঁটে আমরা নিধুবনে যাব।’
‘আমি চাই আমার প্রিয়তমা আমার সাথে প্রেম করুক, আমি যেমন করে প্রেম করতে চাই।’
অপরূপা ডেকে বলল, ‘আমাকে ভালোবাসা শিখালে আমি তোমাকে ভালোবাসব।’
‘প্রেমে ঘাটের-মড়া মনকে উজ্জীবীত করে এবং প্রিয়তমা হলো প্রেমের জন্য।’
‘ফিরে তাকাও, দৌড়ে তোমার উরে আসব।’
‘পথচারী আমি পথ চলছি, পৃথিবী এখন প্রেমহীন, উদাস আমি হতাশ, প্রিয়তমা হলো আনন্দদায়িনী, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
‘তোমার দুঃস্বপ্নের ভিতর প্রবেশ করে আমি তোমাকে ভয় দেখাতে চাই না। পিছন ফিরে তাকাও এবং আমাকে উরে টানো।’
‘ডান হাত বুকের উপর রেখে গলার জোরে বলো, পথিক আমি তোমাকে ভালোবাসি। ভালোবাসো আমাকে যেমন করে আমি ভালোবাসা চাই এবং নিঃসঙ্গতা সমাপন হবে ভালোবাসায়।’
অপরূপা দৌড়ে যেয়ে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘ভালোবাসি তোমাকে আমি ভালোবাসা চাই তুনপরশ।’
উদাসী ওর মুখের দিকে তাকিয়ে দুষ্টুহাসি হেসে বলল, ‘জেল্লায় উজ্জ্বল পরমা সুন্দরী মদলসা মোহিনী তুমি দুধে আলতা রূপে ধনি চিকনবরণী, আপাতদৃষ্টে তোমাকে দেখে আমি আকৃষ্ট হয়েছিলাম মোহিত। কামনা মনে কামেচ্ছা, চোখে নেশা, অধরমধু পান করিয়ে মাতোয়ালা করো আমাকে। তোমাকে হাসাবার জন্য ঝাঁপটে ধরে চাঁদকে টিপ বানিয়ে দেব কপালে। বাহুতে আসো, কামনার নিবৃত্তি করে দাও উদাসিপনার পরিসমাপ্তি, হাত ধরো বরণ করব, কলঙ্ক হবে না কেচ্ছা। কামর্ত আমি মনে কামেচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে দুজনার মনের ইচ্ছা। দুষ্ট পাজি লক্ষ্মীছাড়া অপদার্থ নই আমি নচ্ছার। দোহাই সদয় হয়ে বলো আচ্ছা। সুখিত হতে চাই আমি তোমার আঁজলায় রাখতে চাই আশায় পূর্ণ পেয়ালা, মনকে বানাব তোমার প্রহরী। দোহাই তুমি গাঁইগুইঁ কর না, অনেকে বলে প্রেম আজকাল অচল হয়েছে, ছলে বলে আমি তোমাকে রাজি করতে চাই না, তবে দুনিয়ার যত বাজে জিনিস দোকানিরা আমাকে দেয় গছিয়ে, একগাদা টাকা গেল সাথে দিতে চাই না আর গচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে দুজনার মনের ইচ্ছা।’
‘মনের বনে বিয়ের ফুল ফুটেছে, মেন্ধি গাছে নতুন পাতা গজিয়েছে দেখেছি আমি বনফুলে বরণ মালা গেঁথেছি। তুমিও যৌবনা হয়েছ, সাথি প্রয়োজন, জীবন পথ একা চলা যায় না। সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করার জন্য মরমি চাই, বান্ধব হব বান্ধবী হলে, মনে মনে মিলে কুষ্টির মিল করতে চাইলে গুরুজনরা শুভেচ্ছা প্রকাশ করবেন আশিস, নিশি ঘনাচ্ছে, সুখবাসরে তনুমিলন হবে দুহে, জানি কামর্তার মনে কামেচ্ছা।’
‘আমার মনে দানেচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে দুজনের মনের ইচ্ছা। অপরিসীম স্বাধীনতা ভোগের অলৌকিক শক্তি আছে মনে ভোগেচ্ছা পূর্ণ করার ক্ষমতা, নরীর ধর্মনষ্ট করা যায় বল খাঁটিয়ে ভালোবাসা আদায় করা যায় না। আমি তোমাকে ভালোবাসি, মরণপণ করেছি দেখো বরণ মালা হাতে, এগিয়ে আসো পবিত্র মনে বিশ্বাস করো আমাকে, হাতে রেখে হাত যা জানতে চাও জিজ্ঞেস করো যদি তোমার মনে থাকে পৃচ্ছা, দোহাই প্রকাশ করো না অনিচ্ছা। কামর্তের মনে কামেচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে দুজনের মনের ইচ্ছা। কামাজ্বরে তনে জ্বলছে কামাগ্নি, তাপে কামনা বাষ্প হবে ঘাম, স্বেচ্ছাচারকারী নই আমি উচ্ছৃঙ্খল, নিজ ইচ্ছার বশবর্তী হয়ে আমি নিজের খেয়ালখুশিতে কাজ করি, কাম করি না বিনাবেতনে, বরণ করে সাংসারী হলে দুজন সেবায় যুক্ত হব, সাধ কামনা মনে অভিলাষ আছে, শখ করে সাধে ধরা দাও স্বেচ্ছায় নিজের ইচ্ছা বাসনা পুরণ হবে সদিচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে মনের ইচ্ছা।’

-সমাপ্ত –

বইর নাম — আঠারোটা অসমাপ্ত প্রমোপন্যাস

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s