অনুত্তরিত প্রশ্নের উত্তর

অনুত্তরিত_প্রশ্নের_উত্তর

‘কুরআনের আয়াতাংশ থেকে অনুত্তরিত প্রশ্নের উত্তর’

অনেকে হা হা করে হেসে বলে, অনাথ অসহায় এবং মুসলমানকে হত্যা করা হচ্ছে আল্লাহর কাছ থেকে সাহায্য আসে না কেন? চারপাশে হাহাকার! অনাহারে মানুষ মরছে আল্লাহ কেন সকলকে ভরপটে খাবার দিচ্ছেন না? অন্যায় অত্যাচার আর অভিচারে সমাজ এখন ধ্বংসপ্রায়, সীমালঙ্ঘনকারিকে আল্লাহ শাস্তি দিচ্ছেননা কেন?

[ ]
আমাদের অন্যায় কাজের কারণে আল্লাহ আমাদেরকে পাকড়াও করলে ভুপৃষ্ঠে চলমান কোন কিছুকেই ছাড়তেন না। আকাশের শূণ্য গর্ভে নিয়ন্ত্রণাধীন পাখি আমাদের জন্য নিদর্শন, আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে সবকিছু। আল্লাহ আমাদেরকে আদেশ করেছেন, আত্নীয়-স্ব জন, অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকে তাদের হক দেওয়ার জন্য এবং কিছুতেই অপব্যয় না করার জন্য।
[ ]
মানবকূলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী এবং সুখ সুম্পদ। দুনিয়ার জীবন ছলনাময় ধোঁকা ব্যতীত কিছুই নয়। পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আল্লাহর নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়। আল্লাহই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নেন এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন আর যাকে ইচ্ছা অপমান করেন। আল্লাহর হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
[ ]
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তিনি সবকিছু করতে সক্ষম। আমাদের অন্তর আমাদেরকে যে কুমন্ত্রনা দেয় তা আল্লাহ জানেন। আল্লাহ আমাদের ঘাড়ের শাহ রগ অপেক্ষায় নিকটতর। আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোন বিপদই আপতিত হয় না এবং যে আল্লাহকে বিশ্বাস করে তিনি তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। আমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তো তোমাদেরই হাতের কামাইয়ের ফল এবং আমাদের অনেক অপরাধ তিনি ক্ষমা করেন।
[ ]
মনে রাখার জন্য আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহর বন্ধুদের না কোন আশঙ্কা আছে, আর না তারা বিষণ্ণ হবে। আল্লাহর যিকিরেই অন্তর প্রশান্ত হয়। যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, কল্যাণ ও শুভ পরিণাম তাদেরই। তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের প্রভু। তিনি ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই। অতএব, আল্লাহকেই কর্মবিধায়ক রূপে গ্রহণ করার জন্য। আল্লাহর পৃথিবী প্রশস্ত; সুতরাং আমরা যেন আমারই ইবাদত করি। জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রাহণকারী; অতঃপর আমরা আল্লাহরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হব।

আল্লাহ যা করার জন্য বলেছেন তা কি আমরা করি?

[ সুরা ফুরকান ২৫:৬৩ ] রহমান-এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন মুর্খরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা বলে, সালাম। [ ২৫:৬৪ ] এবং যারা রাত্রি যাপন করে পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হয়ে ও দন্ডায়মান হয়ে; [ ২৫:৬৫ ] এবং যারা বলে, হে আমার পালনকর্তা, আমাদের কাছথেকে জাহান্নামের শাস্তি হটিয়ে দাও। নিশ্চয় এর শাস্তি নিশ্চিত বিনাশ; [ ২৫:৬৬ ] বসবাস ও অবস্থানস্থল হিসেবে তা কত নিকৃষ্ট জায়গা। [ ২৫:৬৭ ] এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অযথা ব্যয় করে না কৃপণতাও করে না এবং তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী।

[ সুরা ইউসুফ ১২:৫৩ ] আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না। নিশ্চয় মানুষের মন মন্দ কর্মপ্রবণ কিন্তু সে নয়-আমার পালনকর্তা যার প্রতি অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় আমার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু।

আমিন।

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s