জহ্নু | ছোট গল্প

অলোকসুন্দরী জহ্নু মা বাবার সাথে পার্বত্য অঞ্চলে থাকে। তাদের বাড়ি পহাড়ের উপর। বনচারীরর মত দিনমান বনবন ঘোরে। পিঠে তির ধনু। কোমরে ভোজালি এবং শঙ্খ বাঁধা। ডরে ভয়ে বদরা ওর সাথে বদমাশি করে না। জহ্নুকে দেখলে তাদের স্নায়ুবিকার হয়। জহ্নু শখ করে বনমোরগ এবং তিতর পোষে। শালিকের সাথে মারামারি করে ডাগরডোগর মোরগা মরার পর থেকে বেড়াজালে ঘের-বেড় দিয়েছে। মা বাবা বেরিয়ে গেলে পাখিকে আধার-পানি দিয়ে শবরী বেশে বেরোয়। দলছুট ধনেশ পাখি দেখে ধুনতে তির জোড়ে তাক করলে শালিক আক্রমণ করে। ধনু নামিয়ে ডান হাতে ভোজালি বার করে জহ্নু কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়। চোখের সামনে ওর স্বপ্নের সুপুরুষ।
“সহিষ্ণু, উড়ে আয়।” পুরুষ হেঁকে বললে শালিক উড়ে যেয়ে তার কাঁধে বসে।
জহ্নু তির ধনু তাক করে বললো… “এই বদমাশ আমার মোরগা খুন করেছে। একে আমি শিকে পুড়ে খাব।”
পুরুষ হাসতে হাসতে বললো… “তোমার মোরগার গলায় আমি দা লাগিয়েছিলাম। তির মারতে চাইলে আমার বুকে মারো।”
জহ্নু দাঁত কটমট করে ধনু টানিয়ে বললো… “তোমার বুকে তির মারব কেন? এই খুনিকে আমি এখুনি খুন করব।”
পুরুষ বুক পেতে বললো… “প্রেমে পড়লে মন পুড়ে। বিরহানলে জ্বলে পুড়ে মরতে চাই না।”
জহ্নু মাথা কাত করে অপলকদৃষ্টে তাকিয়ে বললো… “দেখো কেমন ইতরের মতো তাকিয়ে আছে। দাঁড়া, আজ তোর ইতরামি বার করব।”
পুরুষ শরীর কাঁপিয়ে হেসে বললো… “এবারের মত প্রাণভিক্ষা দিলে পরের বার তিতর খুন করবে।”
জহ্নু কপাল কুঁচকে বললো… “এই পাহাড়ের ধারেপাশে চোরচোট্টা আসে না। কেন এসেছ?”
পুরুষ মাথা নেড়ে বললো… “খালি মারামারি। আধমরা হয়ে জংলায় এসেছি। আমার বিশ্বাস, বাঘরা আমার সাথে খাবার ভাগাভাগি করবে।”
জহ্নু কথা না বলে কপাল কুঁচ করে। পুরুষ ডান হাত কাঁধের কাছে নিলে, শালিক উড়ে যেয়ে বসে। পুরুষ জহ্নুর দিকে তাকিয়ে শালিক উড়িয়ে দিয়ে বললো… “তাকে খুঁজে বার কর যে আমার মন চুরি করেছে।”
শালিক উড়ে যেয়ে জহ্নুর কাঁধে বসলে, পুরুষ হাঁটতে শুরু করে বললো… “তোমার নামে মামলা করার জন্য আমি এখন থানায় যাব।”
জহ্নু :.. “শালিক নিয়ে যাও।”
পুরুষ কিছু না বলে হাঁটতে থাকলে জহ্নু হেঁকে বললো… “বিদেশি! নাম বলে যাও।”
জহ্নু :.. “এখন থেকে আমার নাম বিদেশি।”
জহ্নু :.. “কেন এসেছিলে?”
বিদেশি :.. “ওরা বলেছিল জহ্নুপুরে প্রবেশ করলে কেউ জীবিত ফিরে যায় না।”
জহ্নু :.. “আমি জানতে চেয়েছিলাম তুমি কেন এসেছিলে?”
বিদেশি :.. “জহ্নুকে দেখার জন্য।”
জহ্নু :.. “দেখেছ?”
বিদেশি :.. “হ্যাঁ, প্রাণভরে দেখেছি।”
জহ্নু :.. “তোমার শালিক নিয়ে যাও।”
বিদেশি ডান হাত উঠিয়ে নাড়তে নাড়তে হেঁকে বললো… “সহিষ্ণু, জহ্নুকে দেখে রাখিস।”
জহ্নু রেগে দাঁত কটমট করে ধুন টেনে তির ছেড়ে বললো… “বিদেশি! আমার আনন্দ ফিরিয়ে দাও।”
পায়ের পাশে তির গাঁথলে পিছন ফিরে বিদেশি বললো… “তুমি আমার আনন্দ। আমার সুখস্বপ্নের নাম জহ্নু।”
জহ্নু :.. “বিদেশি! বেশি বাড়াবাড়ি করলে কলিজা বার করব।”
বিদেশি :.. “বুকে তির মারার জন্য মিনতি করেছিলাম।”
জহ্নু :.. “বিদেশি!”
বিদেশি :.. “জহ্নুপুরে আমি আর আসব না। খুঁজে বার করতে পারলে আমি তোমাকে বিয়ে করব। সহিষ্ণু! জহ্নুর কিছু হলে আমি তোকে শিকে পুড়ে খাব।”
শালিক উড়াউড়ি করলে, জহ্নু মাথা উঠিয়ে চারপাশে তাকিয়ে দৌড়াতে শুরু করে বললো… “বিদেশি! টুকি দিয়ে লুকাও, আমি তোমাকে খুঁজে বার করব।”
বিদেশি হেঁকে বললো… “জহ্নু! তোমাকে ভালোবেসে আমি অনামিক হয়েছি।”
জহ্নু থমকে দাঁড়িয়ে বললো… “তোমাকে বিয়ে করার জন্য আমিও মরণপণ করেছি।”
বিদেশি :.. “বাজুতে জোর থাকলে তির মারো।”
জহ্নু :.. “দূর হ বল্লা কোথাকার।”
বিদেশি পিছু হটে বললো… “কী হলো! চেঁচিয়ে উঠলে কেন?”
জহ্নু কোমর থেকে শঙ্খ খুলে ছোড়ে মেরে বললো… “বনে চোরাশিকারি আছে। বিপাকে পড়লে শঙ্খ বাজাবে। তুমি বেঘোরে মরলে আমি অশরীরিণী হব।”
বিদেশি শঙ্খ লোফে বললো… “তোমার শক্তিমত্তা দেখার জন্য এসেছিলাম।”
জহ্নু :.. “আসো, এখুনি একহাত হবে।”
বিদেশি হাত নেড়ে দৌড়াতে শুরু করে বললো… “আজ না আরেকদিন।”
জহ্নু রেগে বিরক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে বৃহদাকার বাজপাখি জালে আটকে বেড় প্যাঁচ খেয়ে নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়। শালিক ক্যাঁচর ম্যাচর শুরু করলে দৌড়ে যেয়ে মোরগ এবং তিতর বার করে ভোজালি হাতে নিয়ে মাথা কাত করে বাজপাখির দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে বললো… “ইস! বিদেশির মতো তুইও ক্লীব হয়েছিস। তোদের ক্লেশে ক্লিশ্যমান হয়ে আমি ক্ল্যাসিকাল কষ্টে ক্লিষ্ট হয়েছি।”
শালিক উড়ে যেয়ে মোরগার সাথে মারামারি শুরু করলে, জহ্নু চিৎকার করে বললো… “রে শালিকের বাচ্ছা! এণ্ডাওয়ালা মুরগিকে ঠুকরালে আমি তোকে জানে মেরে ফেলব।”
শালিক উড়ে গাছের ডালে বসে এবং বাজপাখি কাতরাতে শুরু করলে, জহ্নু কপালে আঘাত করে বললো… “নাজানি কোন অনামুখোর মুখ দেখে আজ সূর্য উঠেছিল? দুনিয়ার সকল আপদ বিপদ এককাট্টা করে আমার মাথার উপর খাড়া হয়েছে। এই বাজের বাচ্ছাকে মুক্ত করব কেমনে? ওরে আলাইর পাল, করজোড়ে মিনতি করছি দয়া করে আমাকে নিস্তার দাও।”
মোরগা এবং শালিক আবার মারামারি শুরু করলে জহ্নু কাঁধ ঝুলিয়ে বেসে শালিক এবং মোরগার মারামারি দেখে তাজ্জব হয়। মোরগারা আনতাবড়ি দৌড়ালে কপালে আঘাত করে জহ্নু বললো… “ভুসি খাইয়ে ভুষ্টিনাশ করেছি। একটা শাকিল দশটা মোরগাকে মেরে আধমরা করেছে। আজ থেকে আর শিকারে যাব না। রোজ একটা মোরগা শিকে পুড়ে খাব। দুর্বলের দল, আমার সম্মুখ থেকে দূর হও।”
বাজপাখি কাতরালে চোখ পাকিয়ে দাঁত কটমট করে জহ্নু বললো… “বাজের বাচ্ছা তুই চোপ কর। আমার এতদিনের কষ্ট এক ঠুকরে নষ্ট করেছে। বেশি কোঁতালে গলায় ভোজালি লাগাব। হায় হায়, এণ্ডাবাচ্ছা শালিকের সাথে আড়াই গণ্ডা মোরগায় পারেনি। এই খবর যে শুনবে সে হাসবে।”
বাজপাখি নড়াচড়া করলে বিরক্তোক্তি করে ভোজালি দিয়ে জাল কেটে জহ্নু দৌড়ে দূরে যায়। বাজপাখি মাতালের মত হেঁটে ডানে বাঁয়ে তাকায়। শালিক উড়ে জহ্নুর কাঁধে বসে। জহ্নু চিন্তিত হয়ে বাজপাখির দিকে তাকিয়ে দৌড়ে ঘরের ভিতর যেয়ে তাগারি হাতে বেরিয়ে উঠানে রেখে দৌড়ে সরে। বাজপাখি পানি পান করে ডানা ঝাপটালে জহ্ন চোখ বুজে শিউরে ওঠে। শালিক ক্যাঁচর ম্যাচর শুরু করলে চিন্তিতকণ্ঠে জহ্নু বললো… “এত বড় বাজ বাপের জন্মে দেখিনি। ভালো করে তাকিয়ে দেখ, চালিশার দোষ দূর হবে। তোর মতো হাজার শালিকে তার এক গ্রাস হবে না। ক্যাঁচর ম্যাচর বন্ধ কর নইলে আমাকে সুদ্ধ খেয়ে ফেলবে।”
বাজ মাতালের মত টলে তাল সামলে এগুলে, জহ্নু কপালে আঘত করে বললো… “ইতর তিতরকেও নিস্তার দেবে না। হয়া রে হায়, কেন যে এত কষ্ট করেছিলাম।”

[ ] বাজপাখি ডানা ঝাপটিয়ে উড়াল না দিয়ে ডানা গুটালে, জহ্নু চিন্তিত হয়ে আস্তেধীরে অগ্রসর হয়। বাজপাখি নম্রকণ্ঠে ডাকলে, জহ্নু চোখ বুজে শিউরে উঠে। বাজপাখি নম্রকণ্ঠে ডাকতে থাকলে, জহ্নু বুক ভরে শ্বাস টেনে আবার অগ্রসর হয়। শালিক উড়ে যেয়ে ওর কাঁধে বসে। বাজপাখি মাথা নত করে ডানা মেলে। জহ্নু কপাল কুঁচকে পাশে গেলে, বাজপাখি ডানা ঝাপটায়। [ ]

জহ্নু হাত বাড়িয়ে সানন্দে বললো… “তুই সত্যি কৃতজ্ঞ। তোর হাবভাবে আমি অবাক হয়েছি। এখন চাইলে উড়ে যেতে পারবে অথবা বিশ্রাম করতে পারবে। এই খুনির নখ থেকে ওদেরেকে বাঁচাবার জন্য জাল দিয়ে বেড়া দিয়েছিলাম। দয়া করে রাগ করিস না।”

[ ] বাজপাখি ডানা মেলে ঝাপটে ডাকাডাকি করলে জহ্নু চিন্তিত হয়। শালিক ক্যাঁচর ম্যাচর শুরু করলে, জহ্নু দৌড়ে যেয়ে ধনুতে তির জোড়ে ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে কিছু না দেখে উঠানের সীমান্তে যেয়ে ধনু টানিয়ে তির ছাড়ে। পুরুষ চিৎকার করে ল্যাংড়িয়ে দৌড়ে পালায়। [ ]

জহ্নু অপলকদৃষ্টে বাজপাখির দিকে তাকিয়ে বললো… “আমি তোকে বহরি ডাকব। আর শোন! তুই চাইলে সেগুনগাছে বাসা বানাত পারবে। মাই বাপু বারণ করবে না। তুই আশে পাশে থাকলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব। চারপাশে তাকিয়ে দেখ, স্বয়ম্ভর হও‍য়ার জন্য এই বনে যথেষ্ট সম্পদ আছে। বাপ দাদার সম্পদ একলা সামলাতে পারব না। কাপুরুষরা চারপাশ থেকে আক্রমণ করে।”
বাজপাখি ডানা ঝাপটে ডাকাডাকি করে উড়াল দেয়।
জহ্ন সানন্দে হাত নেড়ে বললো… “প্রয়োজনে আমি তোকে ডাকব।”
বিদেশি তখন বনে ঘোরাফেরা করছিল, হঠাৎ চোরাশিকারিরা আক্রমণ করলে সে শঙ্খ বাজায়। শালিক ক্যাঁচর ম্যাচর শুরু করলে, জহ্নু চোখ বুজে দুহাত উঠিয়ে উচ্চকণ্ঠে বললো… “বহরি! ফিরে আয়।”
পলকে বাজপাখি ফিরে জহ্নুর দুহাত ধরে উড়াল দেয়। শালিক তাদেরকে অনুসরণ করে। দুহাতে বাজের ঠ্যাং ধরে জহ্নু চোখ বুজে মনশ্চক্ষে বিদেশিকে দেখে ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে বললো… “বহরি, সামনে আমার বর। তাকে সাহায্য করতে হবে।”
বাজপাখির ডাক শুনে বিদ্রূপ হেসে চোরাশিকারিদের দিকে তাকিয়ে বিদেশি বললো, “দৌড়ে পালাও নইলে তোদেরকে আজ বাজের ভোজন বানাবে।”
চোরাশিকারিরা দৌড়াতে শুরু করলে শালিক তাদেরকে তাড়া করে। জহ্নুকে নামিয়ে বাজপাখি ডালে বসে ডাকাডাকি করে। শালিক উড়ে যেয়ে বিদেশির কাঁধে বসে। জহ্নু দৌড়ে যেয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো… “মারধর করেনি তো?”
বিদেশি :.. “ওরা বলেছিল এই বনে দানবী আছে। ওরা বলেছিল বাগে পেলে কলিজা বার করে খাবে। ওরা বলেছিল জহ্নুপুরের আরেকনাম যমপুর।”
জহ্নু :.. “তুমি তাদেরকে কী বলেছিলে?”
বিদেশি :.. “আমি বলেছিলাম দানবীকে স্বচক্ষে দেখতে চাই।”
জহ্নু :.. “কানে-শোনা বিষয় স্বচক্ষে দেখেছ কি?”
বিদেশি :.. “তন্নতন্ন করে খুঁজে আমি ওর হদিশ পাইনি।”
জহ্নু দাঁত কটমট করে বললো… “আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। না বললে বাজের ভোজন বানাব।”
বিদেশি শঙ্খ এগিয়ে দিয়ে শরীর কাঁপিয়ে হেসে বললো… “চাইলেও তুমি দানবী হতে পারবে না। সহিষ্ণু, চল ফিরে যাই।”
জহ্নু চোখ বুজে শঙ্খ বাজালে যুবক যুবতীরা রুখে দাঁড়ায়। বিদেশি তাদের দিকে তাকিয়ে চোখ কপালে তুলে বললো… “ওরা তাইলে সব সত্য বলেছিল?”
জহ্নু :.. “আমরা স্বয়ম্ভর। এই বন আমাদের রাজ্য। আমাদের রাজ্যে অন্যায় অত্যাচার হয় না। আমাদের রাজ্যে যা আছে তা ব্যাবহার করে আমরা জীবনযাপন করি। চোরাশিকারিরা এসে আমাদেরেক মারধর করে।”
বিদেশি চারপাশে তাকিয়ে বললো… “বনাঞ্চল সংরক্ষণের জন্য আমি এসেছিলাম। তোমাদের আচার-আচরণ এবং জীবনযাপনে আমি আকৃষ্ট হয়েছি।”
জহ্নু :.. “আমরা মারামারি করি না। বনে আগর চন্দন আছে। আছে অলোক-সুন্দর পশুপাখি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে সকলের মঙ্গল হবে।”
বিদেশি হাসার চেষ্টা করে বললো… “চোরাশিকারিরা আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। তুমি না আসলে আমাকেও পুঁতে রাখতো এবং পুলিশরা আমার লাশ খুঁজে পেত না। ধন্যবাদ, আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।”
জহ্নু হাবভাব বদলিয়ে গম্ভীরকণ্ঠে বললো… “তুমি চলে যাবে নাকি?”
বিদেশি :.. “হ্যাঁ, আমার দায়িত্ব কর্তব্য শেষ হয়েছে।”
জহ্নু একপাশে সরে দাঁড়িয়ে বললো… “কর্তব্য-অকর্তব্যের বিচার আমরা করি না। বাছ-বিচার করে আমরা চলি না। ছোঁয়াছুঁয়ি এবং এঁটোকাঁটার অর্থ আমরা বুঝি না। তুমি চলে যেতে চাইলে চলে যেতে পারবে, কেউ তোমাকে বাধা দেবে না।”
বিদেশি মৃদু হেসে জহ্নুর চোখের দিকে তাকিয়ে বললো… “আমিও বাছাবাছি করি না। তোমার মা বাবার সাথে দেখা করার জন্য আমার মা বাবা আসবেন। তুমি হয়তো খেয়াল করনি, আমাদের মত সহিষ্ণুর বিয়ের বয়স হয়েছে।”
জহ্নু :.. “সাফসাফ করে বলো।”
বিদেশি কপট হেসে বললো… “তুমি চাইলে একুনি আমাকে বিয়ে করতে পারবে।”
জহ্নু মাথা নেড়ে পিছু হটে দৌড়াতে শুরু করে বললো… “তোমার সাথে কথা বলতে চাই না। তুমি নিষ্ঠুরের মত আমার মনকে কাঁদিয়েছ।”
বিদেশি দৌড়ে যেয়ে জহ্নুর হাত ধরে থামিয়ে করজোড়ে বললো… “মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে এসেছিলাম। সত্যাসত্য দেখা সত্ত্বেও বাস্তবতা বিশ্বাস হচ্ছে না।”
জহ্নু পলকে তাকে কাবু করে গলায় ভোজালি লাগিয়ে দাঁত কটমট করে বললো… “বেশি ভাঁড়ামি করলে গলার রগ কেটে ফেলব।”
বিদেশি :.. “আমার গলার রগ কেটে কাঁচা রাঁড়ি হতে চাইলে, হাতে ধরে আমি তোমাকে থামাব না।”
জহ্নু মুখ বিকৃত করে বললো… “পথ পালটে উলটা পথে দৌড়াও নইলে কিলিয়ে কাহিল করব, বদ কোথাকার।”
বিদেশি দু হাত মেলে বললো… “পিঁজরা ভেঙে স্বাধীন করে দিলাম। যত দূর যেতে চাও উড়ে যাও। পায়ে শিকল বাঁধা, আমি আর বাধা দবে না, পারলে তুমি উড়াল দাও।”
জহ্নু :.. “আমি পোষ্য নই। আমাকে তুমি পিঁজরায় ভরতে পারবে না। আমি বাতাসের মত স্বাধীন!”
বিদেশি কথা না বলে তাকিয়ে থাকলে, জহ্নু বললো… “পলক মারো। অপলক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকলে ভয় পাবে।”
বিদেশি কথা না বলে বিদ্রূপ হেসে তাকিয়ে থাকে। জহ্নু ভূঃ বলে কোঁদা দিলে, বিদেশি চমকে উঠে। জহ্নু দৌড়াত শুরু করে হেঁকে বললো.. “তোমার মতো ভিতুকে আমি আর বিয়ে করব না।”
বিদেশি হাসতে হাসতে জহ্নুকে অনুসরণ করে।

-সমাপ্ত –

© Mohammed Abdulhaque

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s