সুতনুকা | ভালোবাসার গল্প

ভালোবাসার_গল্প

সায়ংকালে সূর্য ডুবতে শুরু করেছিল। ভাসমান মেঘের সাথে চাঁদ লুকোচুরি খেলছিল। পরিবেশে মৃদুমন্দ বাতাস বইছিল। এক উদাসী তার প্রিয়তমার জন্য অপেক্ষা করছিল। নিঃসঙ্গ এবং মর্মাহত, সাগরসৈকতে হাঁটছিল এবং কড়ি কুড়াচ্ছিল। যা তার মনকে বিবেশ করছিল। যথেষ্ট কড়ি কুড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে বসে অগণ্য ঢেউ গোনছিল। অবুঝের মত পানিতে হাত দিয়ে চাঁদকে স্পর্শ করবে এমন সময় এক অপরূপা তার সামনে আবির্ভূত হয়ে বলল, ‘কা’র জন্য অপেক্ষা করছ?’
উদাসী চমকে ওর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমি আমার প্রিয়তমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’
অপরূপা একটা পাথরে বসে তার দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে। উদাসী এগিয়ে যেয়ে বলল, ‘আমি জানতে ইচ্ছুক, তুমি কে বা কী?’
‘বিরহিণী আমি আমার প্রিয়তমের জন্য অপেক্ষা করছি। আমার পাশে বসো।’
উদাসী মাথা নেড়ে বালিতে বসে কড়ি নিয়ে খেলতে শুরু করে আড়দৃষ্টে তাকিয়ে বলল, ‘ইতিপূর্বে তোমাকে দেখিনি।’
‘এখানে কি সচরাচর আসো?’
‘হ্যাঁ।’
‘তুমি কি নিঃসঙ্গ?’
‘হ্যাঁ।’
‘তোমার হাবভাবে মর্মব্যথা বিদ্যমান, কেন বলবে?’
উদাসী দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, ‘প্রেম একটা শব্দ মাত্র, তাই না?’
‘হ্যাঁ, প্রেম একটা শব্দ মাত্র।’ বলে অপরূপা বিচলিত হয়ে মাথা দুলায়। উদাসী পাথরে পিঠ রেখে সাগরে কড়ি ছুঁড়ে বলল, ‘প্রেম আরাধ্য এবং কাম ঘৃণ্য। কামিনীর কামনায় বারার কামার্ত হই।’
‘তুমি সত্যি মর্মাহত, তাই না?’
‘হ্যাঁ, আমাকে আমার প্রিয়তমা মর্মাহত করেছে।’
‘আমিও মর্মাহত।’ বলে অপরূপা দাঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করে। উদাসী চোখ বুজে চিৎকার করে বলল, ‘কেন প্রেমে মজেছিলাম বিরহানলে দগ্ধ হওয়ার জন্য?’
অপরূপা পিছন ফিরে বলল, ‘প্রমা নন্দে ভরপুর এবং প্রেম হল নন্দিত হওয়ার জন্য।’
‘সত্যাসত্য না জেনে আমি নন্দিত হওয়ার মানসে সানন্দে নিরানন্দ হয়েছি।’
‘আক্রোশে নিরাশ হলে তুমি নিষ্প্রতিভ হবে, সাঁতারুর জন্য নিষ্ফল আক্রোশ নিষ্প্রয়োজন।’
‘নিরাশ আমি মর্মাহত। স্বপ্নহীন শয়ন আমার জন্য কষ্টদায়ক, বিচ্ছেদের রাত স্যতি যন্ত্রনাদায়ক।’
অপরূপা পিছু হেঁটে বলল, ‘আমি তোমাকে কী ডাকব?’
উদাসী ঝম্পে ওঠে বলল, ‘কী ডাকতে চাও?’
অপরূপা দুষ্টুহাসি হেসে বলল, ‘প্রেমী ডাকি?’
‘আহ, বড্ড লেগেছে।’
‘আমি কী করলাম?’ বলে অপরূপা খিল খিল করে হাসে।
‘আমি জানি তুমি নরফাঁদ। দয়া করে ভোঁয়া ধরে টান দিয় না, সত্যি কষ্ট হয়।’
‘আমার প্রেমী আর কখনো ফিরবে না।’
‘আমিও অপেক্ষা করছিলাম মাত্র।’
‘কার জন্য?’
‘উদাসিনীর জন্য।’
‘কেন?’
‘আমি চাই দুঃখ ব্যথার ভাগ করি।’
‘আমার সাথে ভাগ করবে?’
‘প্রমা তুমি আমার জন্য দৃষ্টিভ্রম।’
অপরূপা হাসতে হাসতে বলল, ‘তুমি আমাকে প্রিয়তমা ডাকতে পারবে।’
উদাসী বুকের বামপাশে হাত রেখে বলল, ‘এখন তুমি আমার হৃদয় ধরে টানছ এবং আমার পেটে কাতুকুতু হচ্ছে।’
‘কেন?’
‘প্রিয়দর্শিনী তুমি স্বপ্নচারিণী।’
‘হয়তো। কিন্তু, তুমি হলে হস্থপূর্ণ এবং আমি তোমার বাহুতে আবদ্ধ হেত চাই। দয়া করে এগিয়ে এসে বলো, রূপসী আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
‘আমি বলতে চাই কিন্তু তুমি মানবিকা।’
‘নিঃসঙ্গ আমি অলোকসুন্দরী মাত্র।’
‘যৌবনমদমত্তা…।’
‘আমাকে একটা কবিতা শুনাও।’
‘আমি এক ব্যর্থ প্রেমিক।’
অপরূপা কাছে যেয়ে অনুপলে তার অধর চুমে বললল, ‘এখন কী?’
উদাসী ধপাস করে বালিতে বসে বললাম, ‘ওটা কী ছিল গো?’
অপরূপা অট্টহাসি হেসে বলল, ‘প্রেমচুম্বন।’
উদাসী দুহাত উঁচিয়ে বলল, ‘আমাকে আমার গন্তব্যে নিয়ে যাও।’
অপরূপা হাসতে হাসতে বলল, ‘সবাই বাঁচার জন্য মরনপণ করে। তুমি মরতে চাও কেন?’
‘আমি মরতে চাই, কারণ…।’
‘কথাগুলো বলো।’
উদাসী হাসতে হাসতে বলল, ‘আমাকে তোমার সাথে কাম করতে দাও। আমি তোমার কামনাকে ক্লান্ত করব, তুমি নন্দিতা হবে প্রাণবন্ত।
‘হে অনামিক।’
উদাসী হাঁটতে শুরু করে হাত নেড়ে বলল, ‘আমাকে প্রিয়তম ডাকো, ফিরে তাকাব।’
‘তোমার নাম বলো, হাত ধরে হেঁটে আমরা নিধুবনে যাব।’
‘আমি চাই আমার প্রিয়তমা আমার সাথে প্রেম করুক, আমি যেমন করে প্রেম করতে চাই।’
অপরূপা ডেকে বলল, ‘আমাকে ভালোবাসা শিখালে আমি তোমাকে ভালোবাসব।’
‘প্রেমে ঘাটের-মড়া মনকে উজ্জীবীত করে এবং প্রিয়তমা হলো প্রেমের জন্য।’
‘ফিরে তাকাও, দৌড়ে তোমার উরে আসব।’
‘পথচারী আমি পথ চলছি, পৃথিবী এখন প্রেমহীন, উদাস আমি হতাশ, প্রিয়তমা হলো আনন্দদায়িনী, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
‘তোমার দুঃস্বপ্নের ভিতর প্রবেশ করে আমি তোমাকে ভয় দেখাতে চাই না। পিছন ফিরে তাকাও এবং আমাকে উরে টানো।’
‘ডান হাত বুকের উপর রেখে গলার জোরে বলো, পথিক আমি তোমাকে ভালোবাসি। ভালোবাসো আমাকে যেমন করে আমি ভালোবাসা চাই এবং নিঃসঙ্গতা সমাপন হবে ভালোবাসায়।’
অপরূপা দৌড়ে যেয়ে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘ভালোবাসি তোমাকে আমি ভালোবাসা চাই তুনপরশ।’
উদাসী ওর মুখের দিকে তাকিয়ে দুষ্টুহাসি হেসে বলল, ‘জেল্লায় উজ্জ্বল পরমা সুন্দরী মদলসা মোহিনী তুমি দুধে আলতা রূপে ধনি চিকনবরণী, আপাতদৃষ্টে তোমাকে দেখে আমি আকৃষ্ট হয়েছিলাম মোহিত। কামনা মনে কামেচ্ছা, চোখে নেশা, অধরমধু পান করিয়ে মাতোয়ালা করো আমাকে। তোমাকে হাসাবার জন্য ঝাঁপটে ধরে চাঁদকে টিপ বানিয়ে দেব কপালে। বাহুতে আসো, কামনার নিবৃত্তি করে দাও উদাসিপনার পরিসমাপ্তি, হাত ধরো বরণ করব, কলঙ্ক হবে না কেচ্ছা। কামর্ত আমি মনে কামেচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে দুজনার মনের ইচ্ছা। দুষ্ট পাজি লক্ষ্মীছাড়া অপদার্থ নই আমি নচ্ছার। দোহাই সদয় হয়ে বলো আচ্ছা। সুখিত হতে চাই আমি তোমার আঁজলায় রাখতে চাই আশায় পূর্ণ পেয়ালা, মনকে বানাব তোমার প্রহরী। দোহাই তুমি গাঁইগুইঁ কর না, অনেকে বলে প্রেম আজকাল অচল হয়েছে, ছলে বলে আমি তোমাকে রাজি করতে চাই না, তবে দুনিয়ার যত বাজে জিনিস দোকানিরা আমাকে দেয় গছিয়ে, একগাদা টাকা গেল সাথে দিতে চাই না আর গচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে দুজনার মনের ইচ্ছা।’
‘মনের বনে বিয়ের ফুল ফুটেছে, মেন্ধি গাছে নতুন পাতা গজিয়েছে দেখেছি আমি বনফুলে বরণ মালা গেঁথেছি। তুমিও যৌবনা হয়েছ, সাথি প্রয়োজন, জীবন পথ একা চলা যায় না। সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করার জন্য মরমি চাই, বান্ধব হব বান্ধবী হলে, মনে মনে মিলে কুষ্টির মিল করতে চাইলে গুরুজনরা শুভেচ্ছা প্রকাশ করবেন আশিস, নিশি ঘনাচ্ছে, সুখবাসরে তনুমিলন হবে দুহে, জানি কামর্তার মনে কামেচ্ছা।’
‘আমার মনে দানেচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে দুজনের মনের ইচ্ছা। অপরিসীম স্বাধীনতা ভোগের অলৌকিক শক্তি আছে মনে ভোগেচ্ছা পূর্ণ করার ক্ষমতা, নরীর ধর্মনষ্ট করা যায় বল খাঁটিয়ে ভালোবাসা আদায় করা যায় না। আমি তোমাকে ভালোবাসি, মরণপণ করেছি দেখো বরণ মালা হাতে, এগিয়ে আসো পবিত্র মনে বিশ্বাস করো আমাকে, হাতে রেখে হাত যা জানতে চাও জিজ্ঞেস করো যদি তোমার মনে থাকে পৃচ্ছা, দোহাই প্রকাশ করো না অনিচ্ছা। কামর্তের মনে কামেচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে দুজনের মনের ইচ্ছা। কামাজ্বরে তনে জ্বলছে কামাগ্নি, তাপে কামনা বাষ্প হবে ঘাম, স্বেচ্ছাচারকারী নই আমি উচ্ছৃঙ্খল, নিজ ইচ্ছার বশবর্তী হয়ে আমি নিজের খেয়ালখুশিতে কাজ করি, কাম করি না বিনাবেতনে, বরণ করে সাংসারী হলে দুজন সেবায় যুক্ত হব, সাধ কামনা মনে অভিলাষ আছে, শখ করে সাধে ধরা দাও স্বেচ্ছায় নিজের ইচ্ছা বাসনা পুরণ হবে সদিচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে মনের ইচ্ছা।’

-সমাপ্ত –

বইর নাম — আঠারোটা অসমাপ্ত প্রমোপন্যাস

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

নীলকমল | রোমাঞ্চকাহিনী

প্রচ্ছদ

আগামী মাসে দ্বাদশশ্রেণীর পরীক্ষা শুরু হবে। ছাত্র ছাত্রীদের শঙ্কিল মনে বেজায় আতঙ্ক। অনাবশ্যক এবং অত্যাবশ্যক শব্দের অর্থ জেনে ওরা প্রয়োজনে কথা বলে অপ্রয়োজনে একে অন্যকে এড়িয়ে চলে। পাঠানু-রাগী ছাত্র ছাত্রীরা পাঠাগারে বসে পাঠ্যক্রমানুযায়ী পঠন-পাঠনে ব্যস্ত। কলেজাঙ্গনে তাদের দেখা না পেয়ে আস্তেব্যস্তে অন্যরা যেয়ে এককাট্টা হয়। কারো হাতে মিঠা শরবত, কারো হাতে ঠাণ্ডামিঠাই। ইদানীং গায়ে পড়ে তাদের সাথে ভাব জমাতে সবাই মহাব্যস্ত। তা শুধু পরীক্ষা নাম্নী বিপদসংকেত বাতাসে প্রতিধ্বনিত হলে হয় এবং বরাবরই পরীক্ষাপত্রে শেষ অক্ষর লিখে, কলমের ভাবী কলমিলতা, পুঁথিশালার দুলাভাই চশমাআলা, এসব বলে কটূক্তি করে বিধায় বইপোকারা এবার লাই দিচ্ছে না। কলেজ কামাই করে যারা শিকে পোড়ে ঘুঘু খেয়ে গায়ে মাস লাগিয়েছিল, ওরা একপাশে বসে ভোঁতা বুদ্ধি ধারাবার জন্যে নিদিধ্যাসন করছে। চিন্তার সাগরে থই নেই বিধায় ওরা ঠাঁই পাচ্ছেনা এবং আক্কেলের বালোকাবেলায় বসে ভোঁতা বুদ্ধি ধারাতেও পারছে না।
কয়েক চশমাআলা এক বেঞ্চে বসে ঘি-চমচম চিবাচ্ছিল আর শরীর কাঁপিয়ে হাসছিল। হঠাৎ কাকতালীয় কণ্ঠস্বর বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়, ‘পরীক্ষাপত্রে প্রশ্নোত্তর লিখতে হবে না, শুধু প্রশ্ন-নম্বর বললে আমার চোদ্দোপুরুষ উদ্ধার হবে। পরীক্ষা পাশ করলে তোদেরকে আর ভড়কাব না।’
ওরা ঝম্পে ওঠে বেঞ্চের পিছনে যেয়ে সভয়ে বলল, ‘মুহীব, তুই এখানে কী করছিস?’
পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি লম্বা মল্লের মত তাগড়া মস্তান দাঁড়িয়ে পাছা ঝাড়তে ঝাড়তে উদাসকণ্ঠে বলল, ‘বই মেললে ছাপারাক্ষরে প্রিয়তমার অবয়ব স্পষ্ট হয়। বিমনা হয়ে চোখ বুজলে, মনশ্চক্ষে মানসীর মুখচ্ছবি দেখি। মনশ্চাঞ্চল্যে বিচঞ্চল হলে, প্রাণোচ্ছল হয়ে খলখল করে হাসে। উদাসদৃষ্টে শূন্য হাতের দিকে তাকালে দেখতে পাই, মেন্দির রঙ্গে রাঙ্গা প্রেয়সীর হাত ধরে বনবাসে যাচ্ছি।’
একজন সভয়ে বলল, ‘এসব কীসব বলছিস বুঝিয়ে বল।’
মুহীব বিদ্রুপহেসে মাথা নেড়ে বলল, ‘ইউনিভার্সিটির উঠানে তোদের সাথে সাক্ষাৎ না হলে, বাপের জন্মে তোরা আর পরীক্ষার দেয়াল টপকাতে পারবে না।’
‘কেন?’
‘ভূতপূর্ণিমায় তোদেরকে আমি পাগল বানাব। পাগল হয়ে তোরা ছাগলের সাথে ঢুসা-ঢুসি করবে। গল্পগাছায় হাত পা বেঁধে আমি তোদেরকে দিকদারি দেব।’ বলে মুহীব শরীর কাঁপিয়ে হাসলে এক চশমাআলা সভয়ে বলল, ‘কাগজ কলম থাকলে জলদি দে।’
‘পরীক্ষা আগামী মাসে, এখন কাগজ কলম দিয়ে কী করবে?’
‘প্রশ্ন-নম্বর লিখে দেব।’
‘তা তুই কেমনে করবে?’ বলে মুহীব বোয়াল মাছের মত হাঁ করে তাকায়।
‘গূঢ়তত্ত্বে তাত্ত্বিক হওয়ার তথ্য জন্মসূত্রে পেয়েছি।’ চশমাআলা চশমা ঠিক করে বললে মুহীব হতাশ হয়ে কাঁধ ঝুলিয়ে বলল, ‘আমি পুরাতাত্ত্বিক হতে চাই না, টুকলি না করে শুধু পরীক্ষায় পাশ করতে চাই।’
‘অবশেষে আসল বিষয় তুই বুঝেছিস, এখন বাসায় যেয়ে আদেশ-নির্দেশাদি মেনে পাঠ্যক্রমানুযায়ী পাঠ্যপুস্তক পাঠে অভ্যাস্ত হলে প্রশ্নোত্তর মুখস্থ করতে বেশি সময় লাগবে না।’
‘কালন্দরের মত দোলে দোলে পড়া মুখস্থ করা সত্যি জবর জটিল কাজ।’
‘পরীক্ষায় গোল্লা পেলে তোর বাবা তোকে আর মহিষীকে লাঙলে জোড়ে হাল চাষ করাবেন, আঁতেল হতে চাইলে আথালে কাজ করাবেন।’
‘প্রশ্নোত্তর মুখস্থে ব্যস্ত হলে প্রিয়তমার বিধুবদন দেখার সুযোগ পাব না, আহ।’
‘এক নম্বরে টপকালে ভাব জমিয়ে তোর সাথে পিরিতি করবে।’
‘সত্যি বলছিস?’

নীলকমলর_গল্প

তারপর পড়ার জন্য অথবা ডাউনলোড করার জন্য ক্লিক করুন ….

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

অপ্সরা | রোমাঞ্চকাহিনী

প্রচ্ছদ

মানসসুন্দরী শর্মী ব্যাধিনী বেশে বনগহনে ঘোরে বেড়াচ্ছিল। হঠাৎ অলীক পরিবেশে প্রবেশ করে কৌতূহলোদ্দীপক হয়। সূর্যাস্তের শুরুতে চাঁদের আলোয় পরিবেশ স্বপ্নীল হলে আকস্মিকভাবে বিদ্রুপাত্মক বাক্য পরিবেশে ভাসে, ‘ও লো শর্মী! মরি-মরি জপে লজ্জায় লাল হওয়ার জন্য জংলায় এসেছিন কেন?’
‘রে কুক্কুট! তোদের একটাকে মেরেকেটে শিকে পোড়ে খাওয়ার জন্য যথেষ্ট মশলাপাতি সঙে এনেছি। মনে রাখিস! তীক্ষ্ণ তির বুকে বিঁধলে হাঁকাহাঁকির পালা পলকে সাঙ্গ হবে।’ দাঁত কটমট করে বলে শর্মী তন্ময় হয়ে কান পেতে ডানে বাঁয়ে তাকায়। অপ্সরা তখন মোহনসুরে গান গেয়ে হাঁটছিল…
‘হিরণবরন পাখি জিয়নে মরণে হয়েছে মোর সখি, সুখিনী হওয়ার জন্য হতে চাই সখার মুখোমুখি।’
অপলকদৃষ্টে তাকিয়ে শর্মী বলল, ‘নিগূঢ় রহস্যে রূপসী হয়েছে রহস্যময়ী আর পরিবেশ হয়েছে রহস্যময়। মোহ এবং মায়ার প্রভাবে উপবন হয়েছে মায়াময়।’
এমন সময় বাতাসে বাঘের হুংকার প্রতিধ্বনিত হলে অপ্সরা পরিবেশে অদৃশ্য হয়। শর্মী চমকে ধনুতে তির সংযোগ করে চারপাশে তাকায়। কিছু দেখতে না পেয়ে হাঁক দেয়, ‘টাট্টু! দৌড়ে আয়।’
ঘোড়ার খুরের আওয়াজ বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়। চিকচিকে কালো এবং তেজি আরবি-ঘোড়া সামনের ঠ্যাং তুলে হ্রেষাধ্বনি করে বশ্যত্বের প্রমাণ দিয়ে স্থির হয়ে মাথা নেড়ে কান শরীর ঝাড়ে।
‘বাঘের কান্দন শুনেছিলাম।’ বলে শর্মী দক্ষ আরোহীর মত লাগাম ধরে রেকাবে পা রেখে টপকি দিয়ে উঠে বসে সামনে তাকিয়ে কপাল কুঁচকে কান পাতে। কিছু শুনতে না পেয়ে ধনুতে তির সংযোগ করে গায়ের জোরে টানিয়ে ছেড়ে লাগাম ধরে উত্তেজিত কণ্ঠে বলল, ‘টাট্টু! দৌড়া।’
হ্রেষাধ্বনি করে ঘোড়া মহাবেগে দৌড়ে। দু পা দিয়ে আঘাত করে বার বার ঘোড়াকে উসকানি দেয়, ‘টাট্টু! আরো রোষে।’
তির গাছে বিঁধলে লাগাম টেনে ঘোড়াকে থামিয়ে ঝম্পে নেমে ঘোড়ার চোখের দিকে তাকিয়ে মুখ বিকৃত করে শর্মী বলল, ‘ভুসি তুষ খেয়ে তুই খোদার খাশি হয়েছিস! রোষ-জোশের লেশ তোর মাঝে নেই। নিস্তেজ কোথাকার!’
হ্রেষাধ্বনি করে ঘোড়া মাথা নাড়ে। অনতিদূরে শ্বেতকায় বাঘ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে গোঙাতে দেখে কোষ থেকে ভোজালি বার করে চারপাশে তাকিয়ে কিছু দেখতে না পেয়ে কান পাতে। বাঘ গর্জিয়ে গোঙালে কিছু লোক আছাড়ি পিছাড়ি খেয়ে দৌড়ে পালায়।
‘কাঙালের দল! ধরতে পারলে তোদেরকে আমি আচ্ছা করে ঠ্যাঙাব মনে রাখিস!’ রাগান্বিতকণ্ঠে বলে শর্মী ভোজালি কোষে রেখে ঘোড়ার লাগাম ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে বলল, ‘আপোশে পোষ মানলে আশেপাশে থাকতে পারবে নইলে আজীবন আপসোস করবে। টাট্টু! আগ বাড়, বাগুরা ভেঙে বাঘকে মুক্ত করতে হবে। মুক্ত হয়ে অকৃতজ্ঞের মত আক্রমণ করলে কী করব?’
ঘোড়া আগপিছ করে বার বার মাথা নাড়ে।
‘আমারে কামড়াতে হলে দৌড়ে তোর লেঙুর ধরতে হবে। কামড়াকামড়ি করার জন্য ল্যাংড়া এখন দাঁড়াতে পারবে না। ডরের কারণ নেই, আমিও বাঘ বানর ডরাই।’ বলে শর্মী অনুপল চিন্তা করে মেনি বিড়ালকে আদর করছে এমন শব্দ করে অগ্রসর হয়। বাঘ হুংকার করলে কয়েক পা পিছিয়ে মুখ বিকৃত করে শর্মী বলল, ‘হুলোর নাতি শার্দূল! তুই আস্ত একটা গর্দভ।’
বাঘ হিংস্র শব্দ করলে অনুতপ্ত হয়ে ঘোড়ার গায়ে হেলান দিয়ে চোখ পাকিয়ে দাঁত খিচিয়ে শর্মী বলল, ‘ওই! আমাকে ভড়কালে ওরা তোর চামড়া বেচবে। সচেতনভাবে বুঝার চেষ্টা কর, বুঝেশুঝে কেউ কখনো বাঘের ভোজন হবে না। আমি তোকে সাহায্য করতে চাই, কামড়াকামড়ি করলে বেঘোরে মরবে। আমার পোষ্য হলে নিজের পছন্দমতো খাবার পাবে। মুখ বুজে চোপ-চাপ বস, আমি তোকে মুক্ত করব।’
ধমক কোঁদায় বাঘ শান্ত হয়। শর্মী ধীরে ধীরে হেঁটে গাছে হেলান দিয়ে বসে বাঘের সাথে কথা বলে, ‘তোর নাম কী? জানি তুই কথা বলতে পারিস না। শোন! আমার সঙে চল, ভাঙা ঠ্যাঙে পট্টি বাঁধলে হাড় জোড়া লাগবে নইলে ল্যাংড়িয়ে ল্যাংড়িয়ে মরে যাবে।’
শর্মীর কথায় কান না দিয়ে বাঘ অন্যদিকে তাকায়।

অপ্সরার_গল্প

তারপর পড়ার জন্য অথবা ডাউনলোড করার জন্য ক্লিক করুন ….

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

ধাধসপুরে বারবেলা | রোমাঞ্চকাহিনী

প্রচ্ছদ

অসত্য জেনেও বাল্যকালে দত্যিদানো এবং রাক্ষসখোক্কসের গল্প পড়েছি। বয়সের সাথে বাস্তবিক হয়ে জেনেছি, বাড়াবাড়ি করার জন্য বরাবর বারোটায় ভূতপ্রেত্নীর সাথে কেউ দেখা করতে চায় না এবং পুরাণ কথা পুনরায় লিখে নামের আগে নকুলে লাগাতে চাই না, বিধায় সমন্বয়সাধনে স্বকপোলকল্পিত গল্প লিখতে চাই। সমস্যা হল, সামঞ্জস্যসাধন ল্যাংড়ার হাতে লাঠি নয় এবং মেঘালয়ের তরাই থেকে কোঁদাকুঁদি করলে কুঁদরুবন থেকে কুঁদুলি তেড়ে আসবে, বেশি কোঁতাকুঁতি করলে ভয়ে কুঁজড়া হতে হবে, এসব ভেবে ভাবুক হওয়ার দুর্ভাবনা বাদ দিয়ে বটতলে বসেছিলাম। দূরের দৃশ্যপটে ঝাঁঝাঁ রোদের প্রখর তাপে মাটি থেকে ভাপ উঠছিল। বরাবর মাথার উপর সূর্য আসার সাথে সাথে রৌদ্রাভাবে আকাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পরিবেশ ঝঞ্ঝাসমাকুল হয়। ঘনঘন বিজলি চমকে কড়কড় কড়াৎ শব্দে বাজ ফেটে ভূমিকম্পবলয় থেকে খপুষ্পরা বেরিয়ে অপচ্ছায়ার মত অস্পষ্টালোকে লুকালে, শুরু হয় ধাধসপুরে বারবেলা।
অবিশ্বাস্য ভাবে ভূতাত্মাদের আবির্ভাবে ভূতাবিষ্ট লোকজনের অসংগত এবং অবান্তর ব্যবহারে পরিপার্শ্বে ক্রমবিপর্যয় দেখা দেয়। আরশোলা পাখির মত ওড়ে, নেংটি ইঁদুররা নির্ভয়ে দৌড়ে। বন্যকুকুর এবং নেকড়েরা বনগহন থেকে বেরিয়ে আসে। স্কুল কলেজ ছুটি হয়েছে। ছাত্র ছাত্রীদের মনে পালাই ভাব। কেউ তড়বড় করছে, কেউ তরতর করে হাঁটছে, কেউ একছুটে বাড়ি পৌঁছেছে। কলেজের সামনে গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভার দোনোমনো করে। কলেজের বাগানে এক জোড়া শ্যামা আধার খাওয়ায় ব্যস্ত। হঠাৎ অলোক থেকে ফস করে দাঁড়কাক উড়ে যেয়ে একটাকে ছোঁ মেরে ধরতে চায়। ছোবল থেকে ফসকে আড়ংবাড়ং করে উড়ে অন্যটার সামনে দিয়ে গেলে দুটা মিলে কাক ধাওয়া করে বাতাসে হাপিশ হয়। পরিস্থিতি এবং পরিবেশে অস্থিরতা অনুভব করে পেশিবহুল ওজস্বী যুবক ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে বিড়বিড় করছিল, ‘জিন অজিন কালাজিন। জিনের তৈরি পাতলুন পিন্ধে জয়শীল জোয়ান ঘোড়ার পিঠের জিনে বসে যুযুৎসা জিনের মুখোমুখি হয়।’
এমন সময় বিধুবদনা চিকনবরণী কলেজ থেকে বেরিয়ে ডাকাডাকি করে, ‘আয়মান ভাই, আয়মান ভাই; তুমি কোথায়?’
‘কী হয়েছে, হাঁকাহাঁকি করছিস কেন?’
‘আমার ভয় হচ্ছে। দৌড়ে আসো।’
‘তুই চলে যা আমি পরে যাব।’
‘এখন কোথায় যাবে?’
‘আমার অনেক কাজ আছে। ড্রাইভার, সরসীকে নিয়ে বাড়ি যাও।’
‘ড্রাইভারকে চলে যেতে বলো, আমি তোমার সাথে যাব।’ বলে সরসী অগ্রসর হয়ে থমকে দাঁড়ায়। কিছু ওর পথরোধ করে। হতবাক হয়ে হাতড়ে অদৃশ্য দেয়ালের মত কিছু অনুভব করে পিছু হেঁটে গাড়িতে উঠে বসলে ড্রাইভার দ্রুত চালিয়ে চলে যায়। আয়মান নিম্নকণ্ঠে সুরা নাস পড়ে। ফকিরামালা হাতে এক ফকির তার নিকটবর্তী হয়ে গম্ভীরকণ্ঠে বললেন, ‘অবিশ্বাস্য হলেও দত্যিদানো আছে। সুরা আল জিনের অনুবাদ পড়লে সত্যাসত্য জানতে পারবে। সব বিশ্লেষিত আছে। নির্ধূম আগুনে সৃষ্ট গুপ্ত সত্তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে বসবাস করে। তাদের মাঝে আস্তিক নাস্তিক পাষাণ এবং পাষণ্ড আছে।’
আয়মান সাধারণকণ্ঠে বলল, ‘আদম আঃকে সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে অত্যন্ত সূক্ষ্ম হয়ে অতুষ্ণ বায়ূতে পরিণত আগুন থেকে আবুল জিন্নাত সামূমকে সৃষ্টি করে আল্লাহ তার কামনা জানতে চাইলে বলেছিল, আমরা সবাইকে দেখব কিন্তু আমাদেরকে যেন কেউ না দেখে এবং আমরা যেন পৃথিবীতে অদৃশ্য হতে পারি আর আমাদের বৃদ্ধরা যেন যুবক হয় মৃত্যুর পূর্বে। তার দুই কামনা পূরণ করা হয়। জিনরা বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুর পূর্বে আবার যুবক হয়। পাঁচ প্রজাতের জিন আছে। জিন হল জিন্নাত বা জিনজাতির এক বিশেষ প্রজাতি। আমির মানুষের সাথে থাকে। আরওয়াহ মানুষের সামনে আসে। শয়তান হল অবাধ্য। ইফরীত্ব শয়তানের চাইতেও বিপজ্জনক। ইফরীত্ব শব্দের অর্থ ভূত। জিনদের দেহ সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম। ওরা চাইলে যেকোনো কঠিন পদার্থের বাধা অতিক্রম করতে পারে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে বিশেষ কিছু কথা ও কাজ শিক্ষা দিয়েছেন। যদ্বারা ওরা আকৃতি বদলিয়ে রূপ দেখে রূপান্তরিত হতে পারে। বেশিরভাগ সময় ওরা সর্পাকৃতিতে চলাফেরা করে। মানবজাতির আবির্ভাবের আগে জিনরা পৃথিবীতে রাজত্ব করত। অবাধ্যতার অপরাধে উৎখাত হয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীতের নির্জন স্থানসমূহে ওরা বসবাস করছে। আঙুলের মতো ক্ষুদ্রকায় বালখিল্য সম্বন্ধেও জেনেছি।’
‘অর্থাৎ, মৌলিক এবং দুর্জ্ঞেয় তত্ত্বে তুমি তত্ত্বজ্ঞ হয়েছ।’ বলে ফকির মৃদু হেসে মাথা দুলালে আয়মান বলল, ‘যা জেনিছি তা যথেষ্ট নয়। আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু জানার আছে।’
‘সজ্ঞানে যা জেনেছি এবং বাস্তবে যা অভিজ্ঞতা করেছি তা তোমাকে বলব। জ্ঞাতব্য জেনে অভিজ্ঞতা অর্জন করলে তুমি জ্ঞানী এবং অভিজ্ঞ হবে। কী জানতে চাও?’

ধাধসপুরে_বারবেলার_গল্প

তারপর পড়ার জন্য অথবা ডাউনলোড করার জন্য ক্লিক করুন ….

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

অসমাপ্ত প্রমোপন্যাস | গল্প সমগ্র

গল্প_সমগ্র

পড়ার জন্য ই-বই ডাউনলোড করুন ….

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র