মানবতাবাদ

মানবতাবাদ

শুধু ভাগ্যগুণে নয় মুসলমানরা সদগুণে গুণী এবং সাধারণ জ্ঞানে জ্ঞানী। ইসলাম ধর্ম মানবকে মানবতাবাদ শিক্ষা দেয়। মুসলমানরা একত্বাবদী, শান্তিকামী এবং বিশ্বস্ত। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য মুসলমানরা সদা সেচেষ্ট। একাত্মতা মুসলমনাদের শক্তি এবং শান্তির উৎস। ভুখা পিয়াসি মুসলমানের সামনে অন্যের পানি খানি অদৃশ্য বস্তু। মুসলমানরা সত্যনিষ্ঠ এবং সজ্ঞানে অন্যের সম্মান সম্পদ নষ্ট করে কারো মনঃকষ্টের কারণ হয় না। আত্মশুদ্ধির জন্য মুসলমানরা সাধ্যসাধনা করে। পড়শি এবং পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মুসলমানরা অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ করে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব বিশ্বাসঘাতকে ভরে যাচ্ছে। অন্যায়াত্যাচার নিত্যকৃত্য হচ্ছে। প্রভাবপ্রতিপত্তির জন্য প্রতারকরা এতিম অনাথ হত্যা করছে। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, মানুষ সামাজীক জীব এবং পরহিতৈষণা হলো কর্তব্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত। জীবনে সফল হতে হলে, জারিজুরি চুরিচামারি ছেড়ে সদগুণাবলি অনুশীলন করতে হবে। স্বাভাবিক গুণে গুণান্বিত হওয়ার জন্য ধর্মের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

আমরা যে সভ্য

আমরা_যে_সভ্য

এখন সময় হয়েছে, আমরা যে সভ্য হয়েছি তা প্রমাণ করার। জাত ধর্ম বাদ দিয়ে আমাদেরকে বিশ্বাস করতে হবে আমরা মানুষ এবং ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য আমাদেরকে এক হতে হবে। বরফ গলতে শুরু করেছে, বনাঞ্চল জ্বলছে, মরুভূমির সীম বাড়তেই আছে। বাধ্য হয়ে এখন আমাদেরকে এক হয়ে কাজ করতেই হবে, আর তার কারণ হলো লবণাক্ত পানিতে ভাসলে পিপাসা সবাই মরে যাব।#বৈশ্বিক_উষ্ণায়ন এবং #জলবায়ু_পরিবর্তন হস্যকর বিষয় নয়।

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

কাব্যরসিকা | সামাজিক উপন্যাস

প্রচ্ছদ

অসাধ্য সাধনযোগ্য হয় সাধ্যসাধনায় এবং সাধনচাতুর্যে দুঃসাধ্য হয় সহজসাধ্য। অকষ্টকল্পনা হলো কল্পনাবিলাসের উৎস এবং অকষ্টবদ্ধ শব্দের অর্থ জানলে অত্যন্ত বিপদগ্রস্ত কেউ হবে না। বিনাচেষ্টায় কিচ্ছু হয় না। সচেষ্টরা সফল হয়। অচেষ্টরা বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করে। স্বভাবে কাব্যিক হলেও কাব্যিকতা সকলে পছন্দ করে না। সত্যাসত্য জেনে সৃজনী সাত্ত্বিক হয়েছে এবং সাহিত্যসাধক নানার সংস্পর্শে থেকে কাব্যকলা শিখেছে। লাবণ্যচঞ্চল পরমা সুন্দরীর চঞ্চলদৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আজো কেউ প্রেমদৃষ্টে তাকিয়ে প্রেম নিবেদন করতে পারেনি, দোরঙা গোলাপ ছুড়ে প্রেমবাণ মারাতো দূরের কথা। সাতপাঁচ ভেবে চ্যাংড়ারাও দূরত্ব বজায় রাখে। ছুটি কাটাবার জন্য দেশে আসার পর অস্বাভাবিকভাবে ভাবভঙ্গি এবং দেহভঙ্গিমা বদলেছে। পূর্বাহ্নে কাব্যের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে কাব্যিক স্বভাবে শাড়ি পরে কাব্যময় ভঙ্গিমায় বাগানে হাঁটছিল। অপলকদৃষ্টে তাকিয়ে নানা উচ্চকণ্ঠে বললেন, ‘কবিকল্পনার রূপলাবণ্যবতী, চটকদার হয়েছে ডাকের সুন্দরী।’
সৃজনী রেগে গজগজ করে দাঁত খিঁচিয়ে বলল, ‘বিয়ে আরেকখান করতে চাও নাকি?’
‘পরিণতবয়সে বিয়ে করলে শেষ পরিণতি ভালো হবে না।’ বলে নানা হেসে কুটিপাটি হলে রেগে ফোঁসে হাতে কিছু দিয়ে চোখ পাকিয়ে সৃজনী বলল, ‘পূর্ণতাপ্রাপ্তির জন্য মুখে বুজে ধুস্তুরী চিবাও।’
‘বাপের জন্মে তোরে আর ডাকের সুন্দরী ডাকব না লো সুন্দরী।’ বলে নানা দু হাত নেড়ে হাসতে থাকলে রেগেমেগে সৃজনী বলল, ‘বুড়ো হলেও স্বভাবদোষ যায় না। অবলার সাথে লটরপটর করা অভীকের মজ্জাগত দোষ এবং থুত্থুড়ে হলেও শিরা উপশিরায় রিপুরা হতভম্বের মত দৌড়ে। বোড়ায় বেড় দিলেও বেয়াড়া বুড়া ভড়কে না এবং বুড়োবুড়ি জড়ো হলে মজ্জায় মজ্জায় মিলে আলোকোজ্জ্বল হয়।’
‘তা তো অভ‍্যাসমাফিক কার্মকাণ্ড।’ বলে নানা কপট হাসলে নানি মাথা দুলিয়ে বললেন, ‘এটাই সাংসিদ্ধিক অথবা স্বাভাবিক।’
নানার দিকে তাকিয়ে সৃজনী বলল, ‘বেশবিন্যাসে ভাব এমন, হাতে যেন স্বর্গের চাবি, যখন ইচ্ছা তখন প্রবেশ করতে পারবে। ঠিকাছে, তাই যেন হয়। শুধু এতটকু বলব, একটিবার নিজের ছায়াকে জিজ্ঞেস করো, স্বর্গোপযোগী কি হয়েছ? ছায়া নিরুত্তর থাকার কারণ, স্রষ্টা সরাসরি সৃষ্টির সাথে কথা বলেন না। কষ্টেসৃষ্টে স্রষ্টাকে সন্তুষ্ট করলে স্বর্গ হবে গন্তব্য।’
নানা মৃদুহেসে বললেন, ‘পাগলের সাথে পাগলামি করলে পাগলে ধাওয়া করে। সকল পাগল স্বর্গে যাবে না, বেশিরভাগ পাগল নামাজ কাজা করে। ছায়াবাজি দেখার জন্য ছায়াতরুর ছায়ে বসে ছায়ার নিগূঢ় রহস্য জেনেছি, ছায়া কখনো বাসি হয় না।’
সৃজনী…‘আজ নিশ্চয় অপচ্ছায়ার ভর পড়েছে অথবা অশরীরীর ছায়া মাড়িয়েছেন।’
নানা…‘ভক্তিবলে অন্তর্ভুক্ত হলেও ভুক্তভোগী ভক্তরা বিভক্ত করে, কাব্যের ভর উঠলে লবেজান কবির ভোগের প্রবৃত্তি বাড়ে।’
‘খামোখা চিন্তা করে মন সংশয়গ্রস্ত হয়েছে। মাথার কী যে অবস্থা মুখে বলতে পারব না, স্বস্তির সাথে আশ্বস্ত হওয়ার জন্য আমি আমার কামরায় যাচ্ছি।’ বলে সৃজনী গায়ের জোরে হেঁটে চলে যায়। নানা ডান হাত উঁচালে নানি যেয়ে বাজু ধরেন। হাঁটতে শুরু করে নানা বললেন, ‘কখন যে মাটির দেহ নিথর হবে জানি না। সময়ের সাগর পারি দেওয়ার সময় হয়েছে। পারানি এখনো জোগাড় করতে পারিনি। আমাদের সাথে আমাদের সংসার বিলীয়মান হবে।’
‘তা তো স্বাভাবিক। জানেন, আমার মন বেজার হলে মুখ ভেংচিয়ে বলে, তুমি অনুপ্ত নও।’ বলে নানি সামনে তাকালে নানা অবাককন্ঠে বললেন, ‘এত শব্দ কোথায় যে পায়? ভেবে আমি তজ্জব হই।’

কাব্যরসিকার_গল্প

তারপর পড়ার জন্য অথবা ডাউনলোড করার জন্য ক্লিক করুন ….

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

জাতে বাংলাদেশি | সামাজিক উপন্যাস

প্রচ্ছদ

একজোড়া নরনারী ভালো বাসা খুঁজার জন্য চাল-চিঁড়ে গাঁটে ভরে কাকভোরে বেরিয়েছিল। কায়ক্লেশে ক্লান্ত দুজন মধ্যাহ্নের শেষ অথবা অপরাহ্নের শুরুতে ত্বরিতাহার্যের দোকানে প্রবেশ করে খাদ্যতালিকা দেখে পছন্দের খাবার দেওয়ার জন্য বলে সামনাসামনি টেবিলে বসে। স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মাথা তুলে তাকিয়ে চোখা-চোখি হলে, অপরিকল্পিত ভাবে ভালোবাসার কাঁইবিচি তাদের অন্তর-জোতে উপ্ত হয়। এমন সময়, আধা ফেলে আধা খাই জপে আধানেংটা টেটিয়া একটা দোকানে প্রবেশ করে। হাতে বালা নাকে ফুল গলায় টোটকা-তাবিজ দেখে অবসাদগ্রস্তরা বিষাদ ভুলে রহস্যসন্ধানী হয়। আকস্মিকভাবে তার মোবাইলে অস্বাভাবিককণ্ঠে রিং বাজে, ‘না খাইছে বাঘে, না খাইছে রাক্ষসে, দুর্বলের দল কি হাপিশ হয়েছে?’
বাম হাতে ট্রাউজার্স টেনে ডান হাতে মোবাইল কানে লাগিয়ে কর্কশকণ্ঠে টেটিয়া বলল, ‘গূঢ়তত্ত্ব ফাঁশ হয়েছে, ক্ষমতাসীনরা অক্ষমকে গুম করেছে।’
টেটিয়ার হাঁটাহাঁটি এবং নাটুকে কথা কাটাকাটি শুনে দোষদর্শীদের মাথায় ঠাঠা পড়ে আক্কেলগুড়ুম হয়। তার দিকে তাকিয়ে নিম্নকণ্ঠে নর বলল, ‘এই লোকটা আজ নিজের ইজ্জত মেরে অন্যকে বেইজ্জত করবে। পেন্টালুন নামিয়ে নেংটি টানে। এই উবরা উপরে পড়লে ঠাট বাটের বারোটা বাজবে। জান্তায় জানে, খেলুড়িয়া থাকে খেলার চিন্তায় আর ভাতুড়িয়া থাকে ভাত মারার চিন্তায়।’
নারী কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে মির্মির দৃষ্টে নরের দিকে তাকায়। কর্মচারিরা তাদের সামনে খাবার রেখে গেলে কথা না বলে দুজন খেতে শুরু করে।
‘ইকড়ি মিকড়ি কুঁকড়ি মুকড়ি কামড়া কামড়ি, আমি ডরাই।’ বলে টেটিয়া নারীর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে নেংটি টেনে আধা খেয়ে আধা ফেলে বেরিয়ে যায়। খাবার খেয়ে আধা কুলি পানক গিলে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে নিম্নকণ্ঠে নর বলল, ‘ইয়া আল্লাহ, আমি আপনার উপাসনা করি। উপায়ান্তর হলে কী করতে আমি জানি না। আশ্রয় এবং আহার্যের জন্য আমি কখনো দুশ্চিন্তা করিনি। সূর্য নামতে শুরু করেছে, আশ্রয়ের আয়োজন এখনো হয়নি।’
নারী তখন টিসুতে মুখহাত মুছে অস্পষ্ট শব্দে আলহামদুলিল্লাহ বলে দাঁড়ালে আবার দুজন চোখা-চোখি হয়। নারী মাথা নত করে দ্রুত হেঁটে বেরোতে চাইলে নর দরজা খুলে হাত দিয়ে ইশারা করে বলল, ‘After you.’
‘Thank you very much.’ বলে নারী হাসার চেষ্টা করে বেরোলে নর নিম্নকন্ঠে বলল, ‘অনবদ্য শব্দ ধন্যবাদ থেকে বাদ বাদ দিলে ধন্যা সৌভাগ্যশালী হয়।’
ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে নিম্নকন্ঠে নারী বলল, ‘স্বস্তি এবং স্বাচ্ছন্দ্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যাকে সে সৌভাগ্যশালী করেছে।’
দোকানের দেওয়াল-বিজ্ঞাপনে Flat to let (couple only) লিখিত দেখে দুজন হতাশ্বাস হয়ে কাঁধ ঝোলায়। নর রেগে বিরক্ত হয়ে বলল, ‘আক্কেলমন্দের নাতি বেআক্কেল কোথাকর, বেচেবর্তে থাকার জন্য আমি এখন বউ পাব কোথায়?’
নারী দাঁতে দাঁত পিষে বলল, ‘অভদ্র কোথাকার! জোড়াতাড়া দিয়ে জড়াজড়ি করাবার জন্য তুমি জোড়াজুড়ি খুঁজতে থাকো। ভালোমানুষ জুটি হলে ভালো বাসার ভাড়া তার সাথে ভাগ করব।’
কপাল কুঁচকে নারীর দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে নর বলল, ‘এমন সম্মোহক কিছুর সম্মুখীন আমি কখনো হইনি। হয়তো সত্যপ্রেমের মুখোমুখি হয়েছি? সত্যাসত্য জানার জন্য সুন্দরীকে প্রশ্ন করে সম্মোহিত হলে, সামান্যতম ভুলের জন্য উত্তমরূপে দুরস্ত করা হবে। শুনেছি সুন্দরীদের নাকের ডগায় রাগ থাকে। গায়ে পড়ে ভাব জমাতে চাইলে অত্যহিত হবে। বিপদগ্রস্ত হলে গাছতলে বসে ভেবেচিন্তে সহজে স্থিরসিদ্ধান্ত করতে পারবে। আমার মুখ থেকে যুগলমিলনের ভবিষ্যদ্বাণী শোনলে খালি পায়ে দৌড়াবে।’
তার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে অস্পষ্টকণ্ঠে নারী বলল, ‘বিপাকে পড়ে সেও কি আমার মত ভালো বাসা খোঁজাখুঁজি করছে, জিজ্ঞেস করব? দেখতে টেটন মনে হচ্ছে। লন্ডনের বাতাস গিলে নিশ্চয় ভাবপ্রকাশে বিপর্যাস হয়েছে। ওটার মত হলে মঙ্গলকামীর অমঙ্গল হবে।’
অনিমিখে নারীর আপাদমস্তক দেখে অস্পষ্টকণ্ঠে নর বলল, ‘গড়ন-গঠনে রূপলাবণ্যবতী। কথার সাথে কাজের সংগতি। হাবভাবে আশ্বস্ত হয়েছি সুন্দরী এখনো কুমারী। আমি বিশ্বাস করি, নিয়তির নিয়ন্ত্রণে নিয়তাত্মা।’
‘তার চোখের দিকে তাকালে আমার অন্তরাত্মা আশ্বস্ত হয়। আচার-আচরণে সংযমীরাই প্রকৃত কৃতাত্মা।’ বলে নারী আড়চোখে তাকালে দৃঢ়কণ্ঠে নর বলল, ‘বেশি ঘাবড়ালে সাহসীরা বলেন, সাহসের নাম লক্ষ্মী। অসমসাহসীর মত প্রস্তাব করব?’

জাতে_বাংলাদেশির_গল্প

তারপর পড়ার জন্য অথবা ডাউনলোড করার জন্য ক্লিক করুন ….

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

হাজিবাবা | সামাজিক উপন্যাস

প্রচ্ছদ

একমাত্র সন্তানরা নাকি শান্তশিষ্ট, বিধায় বিশিষ্ট হওয়ার জন্য হৃদয় ইংলিস মাধ্যমে লেখাপড়া করেছে। বন্ধুরা তাকে অনেক নামে ডাকে। কেউ ডাকে রিক, কেউ ডাকে রিকি, কেউ ডাকে রক, কেউ ডাকে রকি। সহপাঠীরা তাকে সহ্য করতে পারে না এবং সে-ও খামোখা ভাঁড়ামি করে। গ্রীষ্মের ছুটি শেষে ইউনির সামনে এক ছাত্রীর মুখোমুখি হলে নিজেকে সামলিয়ে হৃদয় বলল, ‘I’m very sorry. Please forgive me.’
ছাত্রী কিছু না বলে পাশ কেটে যেতে চাইলে হাত প্রসারিত করে হৃদয় বলল, ‘You can call me Mister Rick.’
ছাত্রী কথা না বলে কপাল কুঁচকে তাকালে, অপলকদৃষ্টে তাকিয়ে হৃদয় বলল, ‘I’m talking to you.’
‘নিষ্ণাতে নিষ্পত্তি হলে, নিষ্পেষণ নিষ্প্রয়োজন। নিষ্কারণে নিষ্প্রাণ ভাবপ্রকাশ নিষ্ফল হয়েছে। আমি নিষ্পাপ নই, নিষ্পুণ্য শব্দে আবেগ নিষ্প্রবাহ হয়। তোমার হাবভাব নিষ্পাদক এবং সূর্য এখনো নিষ্প্রভ হয়নি।’
‘I’m very sorry, are you talking to me?’ সভয়ে বলে হৃদয় চোখ কপালে তুললে ছাত্রী বলল, ‘নিষ্ঠুর তুমি নিষ্ঠাবান হওয়ার চেষ্টা করলে অন্তরাত্মা সন্তুষ্ট হবে। লোকাচার শব্দের অর্থ জানলে সমাজের রীতিনীতি অনুযায়ী সামাজিক প্রথা পালন করতে পারবে এবং সকলের মঙ্গল হবে।’
‘Someone please help me.’ বলে হৃদয় দুহাতে মাথা চেপে ধরে ডানে বাঁয়ে তাকালে ছাত্রী বলল, ‘প্রবাহিত সময়ের সাথে পাথরের ছায়া নড়ে। চাইলেও আমি অনড় হতে পারব না।’
আরেক ছাত্রী ডেকে বলল, ‘এই নদী, কী হয়েছে?’
‘মূল্যবান সময় নষ্ট করার জন্য বোকার সাথে বকবক করছিলাম।’ বলে নদী মাথা নেড়ে দ্রুত চলে যায়। অন্য ছাত্রীর দিকে তাকিয়ে অবাককণ্ঠে হৃদয় বলল, ‘Who is she and where is she from?’
‘ওরে অবাঙাল, বাংলা শিখে বাঙাল হওয়ার চেষ্টা করলে অন্তত তোর মঙ্গল হবে।’
‘নদীর একটা কথাও আমি বুঝিনি। আমার বাপ-দাদাকে বকাবকি করেছিল নাকি?’
‘আমার দেরি হচ্ছে, নদীকে জিজ্ঞেস কর যেয়ে।’ বলে ছাত্রী দ্রুত চলে গেলে হৃদয় ক্লাসে যায় এবং ছুটি হলে সিঁড়িতে বসে গুনগুন করে। নদী বেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় আড়চোখে তাকিয়ে মুখ বিকৃত করে নিম্নকণ্ঠে বলল, ‘সংস্পর্শ তো দূরের কথা তোমার সংস্রবে আমার সর্বনাশ হবে। সত্বর সংস্ক্রিয়া করলে শান্তি এবং স্বস্তি সংস্থিত হবে।’
‘নদী, দাঁড়াও।’ বলে হৃদয় ঝম্পে দাঁড়িয়ে দৌড়ে গেলে নদী চমকে বুকে থুতু দিয়ে বলল, ‘হঠাৎ ঠাঠা পড়ে আটানব্বই সের আটার ভুষ্টিনাশ হয়েছে।’
‘আমাকে বাংলা শিখাবে? আমি বাঙাল হতে চাই।’
‘তুমি অবাঙাল নাকি?’
‘Unfortunately I was made in Bangladesh.’ বলে হৃদয় বোকার মত হাসলে দাঁত কটমট করে নদী বলল, ‘অধশ্চৌর এবং সিঁধকাঠির অর্থ কী?’
‘শুনেছি জায়ফল বেশি কষা এবং ভল্লুকরাজ মধু পছন্দ করে।’ বলে হৃদয় কপট হাসলে তার চোখের দিকে তাকিয়ে নদী বলল, ‘এক খড়িশের বিষে আঠাশটা খাটাশ মরেছিল, বিষবৃক্ষের জর জাপটে দাঁড়াশ নির্বিষ হয়েছিল।’
বোকার মত হেসে হৃদয় বলল, ‘সালম-মিছরি আনার জন্য বেজির ভাশুর কবিরাজের বাড়ি গিয়েছিল।’
‘বুঝেছি, প্রভাবপ্রতিপত্তির জন্য কূটবুদ্ধির প্রয়োগ করতে হবে।’ বলে নদী হাঁটতে শুরু করলে পথরোধ করে হৃদয় বলল, ‘ছাব্বিশের অর্ধেক ছাপ্পান্ন হলে তিরাশির অর্ধার্ধ কত?’
‘আমার সম্মুখ থেকে সরে দাঁড়াও, তোমার ছায়ায় পাড়া মারলে আওসা বেমার হবে।’
‘মোটামুটি সঠিক উত্তর হল, সাতাশ দশমিক ছেষট্টি।’
‘দশমিক দুইর ভরতুকি কে করবে?’ বলে নদী মাথা দিয়ে ইশারা করে পাশ কেটে হাঁটতে শুরু করলে হৃদয় বলল, ‘নদী, শরম ভরম শব্দের অর্থ আমি জানি।’
নদী…‘অর্ধম্য কাজে ধর্মনাশ হয়।’
হৃদয়…‘আমি অধার্মিক নই।’

হাজিবাবার_গল্প

তারপর পড়ার জন্য অথবা ডাউনলোড করার জন্য ক্লিক করুন ….

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র