ধাধসপুরে বারবেলা | রোমাঞ্চকাহিনী

অনলাইন পড়ার জন্য অথবা ডাউনলোড করার জন্য ক্লিক করুন ….

অসত্য জেনেও বাল্যকালে দত্যিদানো এবং রাক্ষসখোক্কসের গল্প পড়েছি। বয়সের সাথে বাস্তবিক হয়ে জেনেছি, বাড়াবাড়ি করার জন্য বরাবর বারোটায় ভূত পেতনীর সাথে কেউ দেখা করতে চায় না এবং পুরাণ কথা পুনরায় লিখে নামের আগে নকুলে লাগাতে চাই না, বিধায় সমন্বয়সাধনে স্বকপোলকল্পিত গল্প লিখতে চাই। সমস্যা হল, সামঞ্জস্যসাধন ল্যাংড়ার হাতে লাঠি নয় এবং মেঘালয়ের তরাই থেকে কোঁদাকুঁদি করলে কুঁদরুবন থেকে কুঁদুলি তেড়ে আসবে, বেশি কোঁতাকুঁতি করলে ভয়ে কুঁজড়া হতে হবে, এসব ভেবে ভাবুক হওয়ার দুর্ভাবনা বাদ দিয়ে বটতলে বসেছিলাম। দূরের দৃশ্যপটে ঝাঁঝাঁ রোদের প্রখর তাপে মাটি থেকে ভাপ ওঠছিল। বরাবর মাথার উপর সূর্য আসার সাথে সাথে রৌদ্রাভাবে আকাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পরিবেশ ঝঞ্ঝাসমাকুল হয়। ঘনঘন বিজলি চমকে কড়কড় কড়াৎ শব্দে বাজ ফেটে ভূমিকম্পবলয় থেকে খপুষ্পরা বেরিয়ে অপচ্ছায়ার মত অস্পষ্টালোকে লুকালে, শুরু হয় ধাধসপুরে বারবেলা।
অবিশ্বাস্য ভাবে ভূতাত্মাদের আবির্ভাবে ভূতাবিষ্ট লোকজনের অসংগত এবং অবান্তর ব্যবহারে পরিপার্শ্বে ক্রমবিপর্যয় দেখা দেয়। আরশোলা পাখির মত ওড়ে, নেংটি ইঁদুররা নির্ভয়ে দৌড়ে। বন্যকুকুর এবং নেকড়েরা বনগহন থেকে বেরিয়ে আসে। স্কুল কলেজ ছুটি হয়েছে। ছাত্র ছাত্রীদের মনে পালাই ভাব। কেউ তড়বড় করছে, কেউ তরতর করে হাঁটছে, কেউ একছুটে বাড়ি পৌঁছেছে। কলেজের সামনে গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভার দোনোমনো করে। কলেজের বাগানে এক জোড়া শ্যামা আধার খাওয়ায় ব্যস্ত। হঠাৎ অলোক থেকে ফস করে দাঁড়কাক উড়ে যেয়ে একটাকে ছোঁ মেরে ধরতে চায়। ছোবল থেকে ফসকে আড়ংবাড়ং করে উড়ে অন্যটার সামনে দিয়ে গেলে দুটা মিলে কাক ধাওয়া করে বাতাসে হাপিশ হয়। পরিস্থিতি এবং পরিবেশে অস্থিরতা অনুভব করে পেশিবহুল ওজস্বী যুবক ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে বিড়বিড় করছিল, “জিন অজিন কালাজিন। জিনের তৈরি পাতলুন পিন্ধে জয়শীল জোয়ান ঘোড়ার পিঠের জিনে বসে যুযুৎসা জিনের মুখোমুখি হয়।”
এমন সময় বিধুবদনা চিকনবরণী কলেজ থেকে বেরিয়ে ডাকাডাকি করে, “আয়মান ভাই, আয়মান ভাই; তুমি কোথায়?”
“কী হয়েছে, হাঁকাহাঁকি করছিস কেন?”
“আমার ভয় হচ্ছে। দৌড়ে আসো।”
“তুই চলে যা আমি পরে যাব।”
“এখন কোথায় যাবে?”
“আমার অনেক কাজ আছে। ড্রাইভার, সরসীকে নিয়ে বাড়ি যাও।”
“ড্রাইভারকে চলে যেতে বলো, আমি তোমার সাথে যাব।” বলে সরসী অগ্রসর হয়ে থমকে দাঁড়ায়। কিছু ওর পথরোধ করে। হতবাক হয়ে হাতড়ে অদৃশ্য দেয়ালের মত কিছু অনুভব করে পিছু হেঁটে গাড়িতে উঠে বসলে ড্রাইভার দ্রুত চালিয়ে চলে যায়। আয়মান নিম্নকণ্ঠে সুরা নাস পড়ে। ফকিরামালা হাতে এক ফকির তার নিকটবর্তী হয়ে গম্ভীরকণ্ঠে বললেন, “অবিশ্বাস্য হলেও দত্যিদানো আছে। সুরা আল জিনের অনুবাদ পড়লে সত্যাসত্য জানতে পারবে। সব বিশ্লেষিত আছে। নির্ধূম আগুনে সৃষ্ট গুপ্ত সত্তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে বসবাস করে। তাদের মাঝে আস্তিক নাস্তিক পাষাণ এবং পাষণ্ড আছে।”
আয়মান সাধারণকণ্ঠে বলল, “আদম আঃকে সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে অত্যন্ত সূক্ষ্ম হয়ে অতুষ্ণ বায়ূতে পরিণত আগুন থেকে আবুল জিন্নাত সামূমকে সৃষ্টি করে আল্লাহ তার কামনা জানতে চাইলে বলেছিল, আমরা সবাইকে দেখব কিন্তু আমাদেরকে যেন কেউ না দেখে এবং আমরা যেন পৃথিবীতে অদৃশ্য হতে পারি আর আমাদের বৃদ্ধরা যেন যুবক হয় মৃত্যুর পূর্বে। তার দুই কামনা পূরণ করা হয়। জিনরা বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুর পূর্বে আবার যুবক হয়। পাঁচ প্রজাতের জিন আছে। জিন হল জিন্নাত বা জিনজাতির এক বিশেষ প্রজাতি। আমির মানুষের সাথে থাকে। আরওয়াহ মানুষের সামনে আসে। শয়তান হল অবাধ্য। ইফরীত্ব শয়তানের চাইতেও বিপজ্জনক। ইফরীত্ব শব্দের অর্থ ভূত। জিনদের দেহ সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম। ওরা চাইলে যেকোনো কঠিন পদার্থের বাধা অতিক্রম করতে পারে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে বিশেষ কিছু কথা ও কাজ শিক্ষা দিয়েছেন। যদ্বারা ওরা আকৃতি বদলিয়ে রূপ দেখে রূপান্তরিত হতে পারে। বেশিরভাগ সময় ওরা সর্পাকৃতিতে চলাফেরা করে। মানবজাতির আবির্ভাবের আগে জিনরা পৃথিবীতে রাজত্ব করত। অবাধ্যতার অপরাধে উৎখাত হয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীতের নির্জন স্থানসমূহে ওরা বসবাস করছে। আঙুলের মতো ক্ষুদ্রকায় বালখিল্য সম্বন্ধেও জেনেছি।”
“অর্থাৎ, মৌলিক এবং দুর্জ্ঞেয় তত্ত্বে তুমি তত্ত্বজ্ঞ হয়েছ।” বলে ফকির মৃদু হেসে মাথা দুলালে আয়মান বলল, “যা জেনিছি তা যথেষ্ট নয়। আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু জানার আছে।”
“সজ্ঞানে যা জেনেছি এবং বাস্তবে যা অভিজ্ঞতা করেছি তা তোমাকে বলব। জ্ঞাতব্য জেনে অভিজ্ঞতা অর্জন করলে তুমি জ্ঞানী এবং অভিজ্ঞ হবে। কী জানতে চাও?”
“জাদুকররা অমরত্বে বিশ্বাসী। জ্যোতিষীরা চকখড়ির সাহায্যে কোষ্ঠী বিশ্লেষণে অতীত বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ গণনা করতে পারে। তা কী করে সম্ভব সামান্য বিশ্লষণ করতে পারবেন?”
“হ্যাঁ নিশ্চয়। তবে তার আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশ্লেষণ করলে বিষয় বিশ্লেষিত হবে।”
“আপনি বিরক্ত না হলে আমি কৃতার্থ এবং উপকৃত হব।”

তারপর পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করে e-book download করুন…

এডভেঞ্চার উপন্যাস | রোমাঞ্চকাহিনী | রহস্যউপন্যাস | ফিকশন | কিংবদন্তী | সামাজিক উপন্যাস | প্রেমোপন্যাস

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s