জাতে বাংলাদেশি

স্বজাতীয় সমস্যার সারাংশ

নায়ক বৃটিশ বাংলাদেশি আর নায়িকা শুধু বাংলাদেশি। কেমব্রিজ শহরে তাদের প্রথম দেখা হয় এবং অনিচ্ছাসত্ত্বেও দম্পতি পরিচয়ে বাসা ভাড়া করে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুজন ভর্তি হয়। চলিত ভাষা বুঝলেও নায়ক শুধু সিলেটের মৌখিক এবং ইংরেজি ভাষা কথা বলতে পারে। নায়িকা আঞ্চলিক ভাষা বুঝে না শুধু চলিত এবং ইংরেজি ভাষা কথা বলতে পারে। শুরুতে টক মিষ্টি ঝাল হলেও আস্তে ধীরে তাদের সম্পর্ক মধুর হয়, এবং প্রেমের পবিত্রতা বজায় রাখার জন্য দুজন আপ্রাণ চেষ্টা করে। নায়ক থাকে বাংলা টাউনের আশে পাশে। নায়কের দুলাভাই দেশে যাওয়ার দিন নাটকীয়ভাবে নায়িকা নায়কের বোনের সাথে পরিচিত হয় এবং বোন ওকে সাথে নিয়ে আসে এবং সবার সাথে পরিচিত হয়ে মৌখিক ভাষা শিখতে শুরু করে। স্নাতকোত্তরের পর মা বাবার সাথে নায়িকা দেশে চলে গেলে মা বাবা বুঝতে পারেন ওরা একে অন্যকে ভালোবাসে এবং বিয়ের আয়োজন করেন। জাতে বাংলাদেশি কোনো আষাঢ়ে গল্প নয়। বিদেশে যত বাংলাদেশি আছি আমরা সবাই জাতে বাংলাদেশি। দেশিরা বিদেশ গিয়ে বিদেশি হলেও জাত বদলাতে পারে না।
স্বকপোলকল্পিত গল্পের নায়ক নায়িকার নাম সামী এবং পাপিয়া। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির উদ্দেশ্যে ওরা কাকভোরে রওনা হয় এবং চলন্ত ট্রেনে বসে বাড়ি ভাড়ার বিবরণ পড়ে পাপিয়া যখন অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে মোবাইল ব্যাগে রাখে, সামী তখন ব্যাকপ্যাক পিঠে নিয়ে নামার জন্য প্রস্তুত হয়।
সময় তখন আনুমানিক সকাল নয়টা এবং কেমব্রিজ রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থামলে প্রথম বগি থেকে সবার আগে সামী বেরোয় এবং শেষ বগি থেকে সবার শেষে ট্রলি লাগেজ ঠেলে পাপিয়া বেরিয়ে চারপাশে তাকায়। ট্রেন চলতে শুরু করলে পাপিয়া ব্যতিব্যস্ত হয়ে কিছু খুঁজে না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পাবলিক টেলিফোন থেকে মা বাবার সাথে কথা বলে।
সামী স্টেশন থেকে বেরিয়ে বাড়ি ভাড়া করার জন্য শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে ক্ষুধা তৃষ্ণায় ক্লান্ত হয়ে অপরাহ্নে ত্বরিতাহার্যের দোকানে ঢুকার সময় পাপিয়ার কোঁকানি কোঁথানি শুনে ট্রলি ঠেলে সাহায্য করে সরে দাঁড়ায়। পাপিয়া বুক ভরে শ্বাস টেনে পিছন ফিরে তাকিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে সারিতে দাঁড়িয়ে পছন্দের খাবারের অর্ডার করে উৎসাহিত হওয়ার জন্য উৎসাহমূলক উক্তি এবং প্ররণামূলক প্রবাদ পড়ে… "কার্পণ্যে কৃপণ কষ্টভোগ করে। বনাগ্নিতে পুড়ে বনের সৌন্দর্য বাড়ে। ক্ষমাগুণে ক্ষমী অক্ষমকে ক্ষম্য করে। আপাতদৃষ্টিতে সম্মোহনী শক্তি থাকে এবং ভালোবাসা জীবনকে আনন্দদায়ক করে।”
সামী হাতের ইশারায় খাবারের ছবি দেখিয়ে বিল পরিশোধ করে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে নিম্নকণ্ঠে কবিতা পাঠ করে… "সংসারজীবনে প্রবেশ করতে চাইলে কারো হাত ধরতে হয়, সংসার সাজাতে চাইলে টাকাপয়সার প্রয়োজন হয়, সংসার চালাতে হলে আপ্রাণ খেটে অর্থোপার্জন করতে হয়, ভালোবাসাবাসির জন্য ভালো বাসার প্রয়োজন হয়, বাসা ভাড়ার টাকার জন্য আঠারো ঘণ্টা কাজ করতে হয়, আমি তোমাকে ভালোবাসি জপে সংসার চালানো সম্ভবপর নয়।”

[ ] আধানেংটা টেটিয়া একটা দোকানে প্রবেশ করে। তার হাতে বালা নাকে ফুল গলায় টোটকা-তাবিজ দেখে অবসাদগ্রস্তরা বিষাদ ভুলে রহস্যসন্ধানী হয়। আকস্মিকভাবে তার মোবাইলে অস্বাভাবিককণ্ঠে রিং বাজে... “না খেয়েছে বাঘে, না খেয়েছে রাক্ষসে, দুর্বলের দল কি হাপিশ হয়েছে?"
টেটিয়া বাঁ হাতে ট্রাউজার্স টেনে ডান হাতে মোবাইল কানে লাগিয়ে কর্কশকণ্ঠে বললো... “অবশেষে জানাজানি হয়েছে, দুঃস্বপ্নের ভয়ে ওরা ঘুমের বড়ি গিলেছে।” 
টেটিয়ার হাঁটাহাঁটি এবং কথা কাটাকাটি শুনে দোষদর্শীদের মাথায় ঠাঠা পড়ে আক্কেলগুড়ুম হয়। [ ] 

সামী তার দিকে তাকিয়ে নিম্নকণ্ঠে বললো... "এই পাজি আজ নিজের ইজ্জত মেরে অন্যকে বেইজ্জত করবে। পেন্টালুন নামিয়ে নেংটি টানে। এই উবরা যার উপরে পড়বে তার ঠাট বাটের বারোটা বাজবে।”
কর্মচারী তাদের সামনে খাবার রেখে গেলে বিনা বাক্যব্যয়ে দুজন খেতে শুরু করে। টেটিয়া পাপিয়ার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে নেংটি টেনে বেরিয়ে যেতে যেতে বললো... "ইকড়ি মিকড়ি কামড়া কামড়ি আমি ডরাই।"
পাপিয়া চোখ বুজে শিউরে উঠে। সামী খাবার খেয়ে আধা কুলি পানক গিলে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে নিম্নকণ্ঠে বললো... "ইয়া আল্লাহ, আমি আপনার উপাসনা করি। উপায়ান্তর হলে কী করতে আমি জানি না। আশ্রয় এবং আহার্যের জন্য আমি কখনো দুশ্চিন্তা করিনি। সূর্যাস্তের সময় হচ্ছে, আমার আশ্রয়ের আয়োজন এখনো হয়নি।"
পাপিয়া তখন টিসুতে মুখহাত মুছে অস্পষ্ট শব্দে আলহামদুলিল্লাহ বলে দাঁড়ালে দুজন চোখা-চোখি হয়। পাপিয়া মাথা নত করে লাগেজের উপর হাত ব্যাগ রেখে দরজা টেনে খুলতে ব্যর্থ হলে, সামী দরজা খুলে হাত দিয়ে ইশারা করে বললো... “আপনার পরে আমি বেরোব।”
পাপিয়া হাসার চেষ্টা করে বেরিয়ে যেতে যেতে বললো… ‘আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।”
সামী মাথা দুলিয়ে স্বগতোক্তি করে… "ধন্যবাদ থেকে বাদ বাদ দিয়ে আকার যোগ করলে ধন্যা সৌভাগ্যশালী হয়ে আমার ঘরে আসলে দুজনের ভাগ্যপরিবর্তন হবে।”
পাপিয়া দোকান থেকে বেরিয়ে দরজার পাশ থেকে সরে দাঁড়িয়ে নিম্নকন্ঠে বললো... "স্বস্তি এবং স্বাচ্ছন্দ্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে ধন্যাকে সৌভাগ্যশালী করে ফেলেছে।”
[ ] একে অন্যের অসংলগ্ন কথাবার্তায় কান না দিয়ে ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে দেখছিল। দোকানের দেওয়াল-বিজ্ঞাপনে বাসা ভাড়া দেওয়া হবে লিখিত দেখে ব্যতিব্যস্ত হয়ে যেয়ে হাতে লেখা শর্তাদি পড়ে দুজন হতাশ্বাস হয়। [ ]
সামী রেগে বিরক্ত হয়ে বললো... “সাধু উদ্দেশ্যে সদুপায় হওয়া পর্যন্ত বেচেবর্তে থাকার জন্য আমি এখন বউ পাব কোথায়?”
পাপিয়া দাঁতে দাঁত পিষে বললো... "অভদ্র কোথাকার! জোড়াতাড়া দিয়ে জড়াজড়ি করাবার জন্য তুমি জোড়াজুড়ি খুঁজতে থাকো। ভালোমানুষ জুটি হলে তার সাথে ভালো বাসার ভাড়া ভাগ করব নতুবা আজীবন ট্রলি ঠেলব।”

ইবুক ডাউনলোড করার জন্য এখানে ক্লিক করুন

© Mohammed Abdulhaque