জাতে বাংলাদেশি

জাতে বাংলাদেশি | সামাজিক উপন্যাস |
অনলাইন পড়ার জন্য অথবা ডাউনলোড করার জন্য ক্লিক করুন ….

একজোড়া নরনারী ভালো বাসা খুঁজার জন্য চাল-চিঁড়ে গাঁটে ভরে কাকভোরে বেরিয়েছিল। কায়ক্লেশে ক্লান্ত দুজন মধ্যাহ্নের শেষ অথবা অপরাহ্নের শুরুতে ত্বরিতাহার্যের দোকানে প্রবেশ করে খাদ্যতালিকা দেখে পছন্দের খাবার দেওয়ার জন্য বলে সামনাসামনি টেবিলে বসে। স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মাথা তুলে তাকিয়ে চোখা-চোখি হলে, অপরিকল্পিত ভাবে ভালোবাসার কাঁইবিচি তাদের অন্তর-জোতে উপ্ত হয়। এমন সময়, আধা ফেলে আধা খাই জপে আধানেংটা টেটিয়া একটা দোকানে প্রবেশ করে। হাতে বালা নাকে ফুল গলায় টোটকা-তাবিজ দেখে অবসাদগ্রস্তরা বিষাদ ভুলে রহস্যসন্ধানী হয়। আকস্মিকভাবে তার মোবাইলে অস্বাভাবিককণ্ঠে রিং বাজে, “না খেয়েছে বাঘে, না খেয়েছে রাক্ষসে, দুর্বলের দল কি হাপিশ হয়েছে?”
বাঁ হাতে ট্রাউজার্স টেনে ডান হাতে মোবাইল কানে লাগিয়ে কর্কশকণ্ঠে টেটিয়া বললো, “অবশেষে গূঢ়তত্ত্ব ফাঁশ হয়েছে, ক্ষমতাসীনরা অক্ষমকে গুম করেছে।”
টেটিয়ার হাঁটাহাঁটি এবং কথা কাটাকাটি শুনে দোষদর্শীদের মাথায় ঠাঠা পড়ে আক্কেলগুড়ুম হয়। তার দিকে তাকিয়ে নিম্নকণ্ঠে নর বললো, “এই লোকটা আজ নিজের ইজ্জত মেরে অন্যকে বেইজ্জত করবে। পেন্টালুন নামিয়ে নেংটি টানে। এই উবরা উপরে পড়লে ঠাট বাটের বারোটা বাজবে।”
নারী কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে মির্মির দৃষ্টে নরের তাকায়। এক কর্মচারী দ্রুত তাদের সামনে খাবার রেখে গেলে বিনা বাক্যব্যয়ে দুজন খেতে শুরু করে। নারীর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে নেংটি টেনে আধা খেয়ে আধা ফেলে বেরিয়ে যেতে যেতে টেটিয়া বললো, “ইকড়ি মিকড়ি কামড়া কামড়ি আমি ডরাই।”
নারী চোখ বুজে শিউরে উঠে এবং খাবার খেয়ে আধা কুলি পানক গিলে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে নিম্নকণ্ঠে নর বললো, “ইয়া আল্লাহ, আমি আপনার উপাসনা করি। উপায়ান্তর হলে কী করতে আমি জানি না। আশ্রয় এবং আহার্যের জন্য আমি কখনো দুশ্চিন্তা করিনি। সূর্য নামতে শুরু করেছে, আশ্রয়ের আয়োজন এখনো হয়নি।”
নারী তখন টিসুতে মুখহাত মুছে অস্পষ্ট শব্দে আলহামদুলিল্লাহ বলে দাঁড়ালে আবার দুজন চোখা-চোখি হয়। নারী মাথা নত করে দ্রুত হেঁটে বেরোতে চাইলে নর দরজা খুলে হাত দিয়ে ইশারা করে বললো, “After you.”
‘Thank you very much.” বলে নারী হাসার চেষ্টা করে বেরোলে, নর নিম্নকন্ঠে বললো, “অনবদ্য শব্দ ধন্যবাদ থেকে বাদ বাদ দিলে ধন্যা সৌভাগ্যশালী হয়।”
ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে নিম্নকন্ঠে নারী বললো, “স্বস্তি এবং স্বাচ্ছন্দ্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যাকে সে সৌভাগ্যশালী করেছে।”
দোকানের দেওয়াল-বিজ্ঞাপনে Flat to let (couple only) লিখিত দেখে দুজন হতাশ্বাস হয়ে কাঁধ ঝোলায়। নর রেগে বিরক্ত হয়ে বললো, “আক্কেলমন্দের নাতি বেআক্কেল কোথাকর, বেচেবর্তে থাকার জন্য আমি এখন বউ পাব কোথায়?”
নারী দাঁতে দাঁত পিষে বললো, “অভদ্র কোথাকার! জোড়াতাড়া দিয়ে জড়াজড়ি করাবার জন্য তুমি জোড়াজুড়ি খুঁজতে থাকো। ভালোমানুষ জুটি হলে ভালো বাসার ভাড়া তার সাথে ভাগ করব।”
কপাল কুঁচকে নারীর দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে নর বললো, “এমন সম্মোহক কিছুর সম্মুখীন আমি কখনো হইনি। হয়তো সত্যপ্রেমের মুখোমুখি হয়েছি? সত্যাসত্য জানার জন্য সুন্দরীকে প্রশ্ন করে সম্মোহিত হলে, সামান্যতম ভুলের জন্য উত্তমরূপে দুরস্ত করা হবে। শুনেছি সুন্দরীদের নাকের ডগায় রাগ থাকে। গায়ে পড়ে ভাব জমাতে চাইলে অত্যহিত হবে। বিপদগ্রস্ত হলে গাছতলে বসে ভেবেচিন্তে সহজে স্থিরসিদ্ধান্ত করতে পারবে। আমার মুখ থেকে যুগলমিলনের ভবিষ্যদ্বাণী শুনলে খালি পায়ে দৌড়াবে।”
তার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে অস্পষ্টকণ্ঠে নারী বললো, “বিপাকে পড়ে সে-ও কি আমার মত ভালো বাসা খোঁজাখুঁজি করছে, জিজ্ঞেস করব? দেখতে টেটন মনে হচ্ছে। লন্ডনের বাতাস গিলে হয়তো বিপর্যয়গ্রস্ত হয়েছে। ওটার মত হলে মঙ্গলকামীর অমঙ্গল হবে।”
অনিমিখে নারীর আপাদমস্তক দেখে অস্পষ্টকণ্ঠে নর বললো, “গড়ন-গঠনে রূপলাবণ্যবতী। কথার সাথে কাজের সংগতি। হাবভাবে আশ্বস্ত হয়েছি সুন্দরী এখনো কুমারী। আমি বিশ্বাস করি, নিয়তির নিয়ন্ত্রণে নিয়তাত্মা। জুতসই ভাবপ্রকাশে হতে পারবো একাত্মা।”
“তার চোখের দিকে তাকালে আমার অন্তরাত্মা আশ্বস্ত হয়। আচার-আচরণে সংযমীরাই প্রকৃত কৃতাত্মা।” বলে নারী আড়চোখে তাকালে দৃঢ়কণ্ঠে নর বললো, “বেশি ঘাবড়ালে সাহসীরা বলেন, সাহসের নাম লক্ষ্মী। অসমসাহসীর মত প্রস্তাব করব?”
নারী কপাল কুঁচকে অস্পষ্টকণ্ঠে বললো, “অপহারকের মত তাকিয়েছে কেন? রোমহর্ষক চোরাচাহনির প্রভাবে ভয় এবং উত্তেজনায় শিরশির করে শিহরিত হয়েছি। চিন্তা চেতনায় অলীক ভাব বাসা বানাচ্ছে। অবেলায় অপহৃত হলে অসহায় হবো। বৃহস্পতির বারবেলায় একী ভেলকি লাগলো?”
বিজ্ঞাপনের দিকে তাকিয়ে কপালে আঘাত করে নর বললো, “হায় রে হায়! আজেবাজে চিন্তা করতে চাই না আমি এখন বউ পাব কোথায়?”
তার মাথায় হাত দেখে হতাশ হয়ে নারী বললো, “হোটেলে থাকলে এক রাতের জন্য এক সপ্তার বাসা ভাড়া দিতে হবে। দূর ছাই, টেনেটুনে আমি এখন কোথায় যাই?”
নয় ছয় ভেবে এদিক-ওদিক তাকিয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে নর বললো, “বাসা ভাড়া করতে চাই। সমস্যা হলো এই বাসার মালিক নবদম্পতির কাছে বাসা ভাড়া দেবে। আমাকে মারধর করলেও আমি এখন বিয়ে করব না। তাবিজ টোটকা আমি ডরাই।”
নারী অবাককণ্ঠে বললো, “আমার সাথে কথা বলছেন নাকি?”
“জি হ্যাঁ।” বলে নর স্বগতোক্তি করে, “ওর বিয়ে হয়ছে কি না জানতে চাইলে কিভাবে জিজ্ঞেস করব, আপনি বিবাহিতা না অবিবাহিতা? বিয়ে করেছ কি? আপনার বিয়া হইগিছেনি?”
“কী হলো, কথা বলছেন না কেন?” বলে নারী চোখের দিকে তাকালে নর বললো, “খামোখা দুশ্চিন্তা করে কণ্ঠনালী পরিশুষ্ক হয়েছ।”
“দয়া করে বুঝিয়ে বলুন।”
“আপনি অবিবাহিতা হলে ভালো বাসার মালিককে বুঝিয়ে বলব, আপনি হলেন আমার নানার চাচাতো ভাইর একমাত্র নাতিবৌ।”
“কী বললেন?” বলে নারী কপাল কুঁচ করলে নর বললো, “আস্তে আস্তে কথা বললে অবুঝে বোঝাব, নইলে উটের মত উঠে পড়ে দৌড়াব।”
“ঠিকাছে আস্তেধীরে কথা বলব। কী জানতে চান দয়া করে বুঝিয়ে বলুন।”
“না মানে আপনার মতামত জানতে চাই। আপনি কি বিবাহিতা? হ্যাঁ বললে খোঁজাখুঁজি সার হবে বলে রাখলাম। সকলে না জানলেও আমি জানি, ছুমন্তর ফুঁকে সাপুড়িয়া খেলা দেখায় আর বারবার এক কাপড় দেখিয়ে কাপুড়িয়ায় চোখে ধান্ধায় লাগায়।”
“আপনার একটা কাথাও আমি বোঝিনি। কী বলতে চান প্লিজ বুঝিয়ে বলুন। দুশ্চিন্তায় মাথা ভার হয়েছে, কিচ্ছু চিন্তা করতে পারছি না।”
“আউলা ঝাউলা মানুষ আমি অবুঝ, কিচ্ছু বুঝিয়ে বলতে পারি না। আপনি সিলটি ভাষা বুঝেন না?”
“আমি কখনো সিলেট যাইনি। আপনি সিলটি নাকি?”
“জি হ্যাঁ। আপনি কোথা থেকে এসেছেন?”
“আমার জন্ম ঢাকায়। গ্রামে কখনো যাইনি।”
“আপনার কথাবার্তা না বুঝলেও এই লোকের সকল কথা ভালোমতো বোঝব। মাতামাতি না করে আপনি শুধু আমার মুখের দিকে থাকিয়ে খলখল করে হাসবেন। দেন-দার হয়ে আমি লেনা-দেনা করব এবং পরে আমরা আপোশে দেনা-পাওনা চুকাব। এখন কনিষ্টাঙুল ধরে আমার বগলে আসো।” বলে নর হাত দিয়ে ইশারা করলে, অবাককণ্ঠে নারী বললো, “যা বলেছিলেন দয়া করে বুঝিয়ে বলুন, আমি কিচ্ছু বোঝিনি।”
“আমি বলেছি, আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আপনি খালি খলখল করে হাসবেন।”
“ইয়া আল্লাহ, একী বিপাকে পড়লাম? যাক, আমার নাম পাপিয়া আপনার নাম কী?”
“আকিকা করার আগে বাবার বাবা আমার নাম সামী রেখেছিলেন। এখন সঙ্গিনী হয়ে আমার সঙ্গে আসো পরে অঙ্গাঙ্গি হতে চাইলে চৌদ্দগোষ্ঠীর নাম ঠিকানা হাতেকলমে লিখে দেব।” বলে সামী মাথা দিয়ে ইশারা করে।

তারপর পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করে e-book download করুন…

| প্রেমোপন্যাস | ফিকশন | কিংবদন্তী | সামাজিক উপন্যাস |

জাতে বাংলাদেশি
প্রচ্ছদ

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s