স্বয়ম্বরা

“বিশ্বমানের শহুরে নারীর গল্প”

নায়ক নায়িকা বৃটিশ বাংলাদেশি এবং পূর্ব লন্ডনে থাকে। নায়িকা ডাকসুন্দরী এবং তালাক বিশেষজ্ঞ আইনজীবী। নায়ক হলো বাবার রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার। ওরা বাল্য বন্ধু এবং এক সাথে লেখাপড়া করে। স্কুল থেকে একে অন্যকে ভালোবাসলেও মুখে না বলার কারণ অন্য কাউকে ভালোবাসে ভেবে হতাশ্বাস হয়। এক পর্যায়ে নায়িকা নায়ককে বিয়ের প্রস্তাব করলে নায়ক নিরুত্তর থাকে। নায়িকা আধুনিকতা এবং অধিকার সম্পর্ক সচেতন। নায়ক সাধারণভাবে জীবনযাপন করতে চায়। সে জানে মানুষ ভুল করে এবং তুচ্ছ বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ পর্যন্ত হয়। এক বিকালে ওরা বেড়াতে যায় এবং তার মোবাইল থেকে নায়িকা ওর ভাইর সাথে কথা বলে এবং পরে নায়িকার বাবা জেরা করে পেটের খবর জেনে নায়কের মোবাইলে ফোন করেন এবং কথায় কথায় বাবারা আসল বিষয় বুঝতে পেরে তাদের বিয়ের সুবন্দোবস্ত করেন এবং বিয়ের পর ওরা সাধারণভাবে জীবনযাপন করে।

অপরাহ্নে লোকজন ভিক্টোরিয়া পার্কে হাঁটাহাঁটি এবং দৌড়াদৌড়ি করছিল। পেশিবহুল বলিষ্ঠ যুবক ঝিলের পারে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত সূর্যকে জলে হাবুডুবু খেতে দেখে নিম্ন কণ্ঠে বললো… “মানসী, আমি তোমাকে আজীবন ভালোবাসব।”
এমন সময় গাড়ি থেকে বেরিয়ে এক যুবতী দু হাত নেড়ে উচ্চকণ্ঠে বললো… “সরণ! ওখানে কী করছ?”
সরণ মাথা তুলে তাকিয়ে হাঁটতে শুরু করে বললো… “সুরভি, কেমন আছ?”
ডবকা শারিকার মত ঠাট ঠমক ঠসকে হেঁটে যেয়ে উচ্ছলকণ্ঠে সুরভি বললো… “আমি ঠিকঠাক আছি, তোমার খবর বলো।”
সুরভি :.. “মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানে দাঁড়িয়ে থাকার পণ করেছিলাম।”
সুরভি অপলকদৃষ্টে তাকিয়ে বললো… “পণরক্ষার জন্য কুড়ি গণ্ডা মন্ডা মানত করতে হবে নাকি?”
সরণ হাসার চেষ্টা করে বললো… “তিন সত্যের আসল সত্য হলো, মানসীর সাথে গপসপ করার জন্য ঝিলের পারে দাঁড়িয়েছিলাম।”
সুরভি :.. “তুমি নিশ্চয় জানো, পোড়ো বাড়িতে ভূতরা ঠিকাদারি করে এবং পড়ো-পড়ো বাড়িতে কেউ বেড়াতে যায় না। আজ অন্তত অন্তরের কথা বলো, একলা-একলি এখানে কী করছিলে?”
সরণ :.. “লীলায়িত ললিতার লীলা দেখার জন্য লালায়িত হয়ে আমি লীলাকাননে এসেছিলাম। তুমি কেন এসেছ?”
সুরভি :.. “জড়ি-বুটি গলায় পরে ডাকসুন্দরী হওয়ার জন্য টোটকা চিকিৎসা করাবার বেজায় ইচ্ছা। তাই আজ কবিরাজের আজুরা জোগাড় করে বাজারে এসেছি।”
সরণ :.. “উদ্দেশ্যসিদ্ধির চেষ্টায় ভাগ্য পরিবর্তন হয় গন্তব্য পরিবর্তন হয় না।”
সুরভি :.. “ভাবুক হওয়ার জন্য লোকজন ভাব ধরে। তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তোমার উপর অভাবের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।”
সরণ :.. “আমাদের মাঝে ভাব আছে তাই আমরা সহজে ভাবুক হই। বেশি ভাবুক হওয়ার জন্য অভীক শব্দের অর্থ জেনে আমি বোকা বনেছিলাম।”
সুরভি :.. “পার্কে প্রবেশ করার সময় সাপ ধরার মন্ত্র জপে বেজির লেজে পাড়া মেরেছিলে নাকি?”
সরণ :.. “লাল নীল পানি গিলে মাতাল হতে চাই না। প্রেমের নেশা বড় নেশা। আঁখিজল পান করে আমি মাতোয়ারা হই। একবার আঁখিজল পান করলে আবে হায়াতের পানি ফিকে হয়।”
তার চোখের দিকে তাকিয়ে মুখের ভাব বদলিয়ে সুরভি বললো… “আজ আমি অত্যন্ত দুঃখিত, আমার দুঃখ শুনার জন্য তোমার কি সময় হবে?”
সরণ :.. “বলতে শুরু করলে মনোযোগ দিয়ে শুনব, আজ আর হুতুমের মতো মুখ বানাব না।”
সুরভি :.. “হাতের কাজ ফেলে বাসায় পৌঁছে জানতে পেরেছিলাম, ফুসমন্তরে আব্বু আম্মুকে ফুসলিয়ে ওরা কেনাকাটায় গিয়েছে।”
“তুমি চাইলে এখুনি ওদেরকে ধাওয়া করতে পারবে এবং মহা উদ্যমে আমি তোমাকে উৎসাহিত করব। আমার দিকে তাকিয়ে দেখো, উনপাঁজুরে হলেও আজ আমি বীর হওয়ার জন্য প্রস্তুত।” বলে সরণ ডান হাত উঁচালে মেঘে ভিজা কউতরের মত শিউরে সুরভি বললো… “আমার মনে অনেক আশা, ওদেরকে ধাওয়া করে পটোলতোলা যেতে চাই না। দয়া করে আস্তে কথা বলো, কাকরা শুনলে উদ্যোক্তা হবে এবং এই টোলার উদ্বিড়ালরা খামোখা দৌড়াদৌড়ি করবে।”
সরণ :.. “ঠিকাছে, তোমাকে খুশি করার জন্য এখুনি নিরুদ্যম হব।”
সুরভি :.. “আজ তোমার কী হয়েছে?”
সরণ :.. “শুনেছিলাম গরিবের দুঃখে হারীর মন কাঁদে।”
সুরভি :.. “কার কথা বলছ?”
সরণ :.. “দুঃখের সাথে হারী যোগ হলে দুঃখহরীর অর্থ হয়, যে দুঃখ হরণ করে।”
সুরভি :.. “অবশেষে বিশ্বাস করতে শুরু করেছি, বাদীর মত তুমিও নৈরাশ্যবাদে বিশ্বাসী।”
সরণ :.. “দুঃখবাদীর সাথে আমার কখনো বনিবনা হয়নি তা শুধু আমি জানি। যাক, এখন চাইলে ওদেরকে ধাওয়া করতে পারবে।”
“ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চিন্তা বাদ দাও। গাড়িতে উঠেই বলবে, আমার ভালোবাসার নাম মানসী এবং আমি ওকে আজীবন ভালোবাসব।” বলে সুরভি আড়চোখে তাকা‌য়। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে সাধারণকণ্ঠে সরণ বললো… “চাইলেও বাল্যপ্রেম ভুলা যায় না। স্যতাসত্য তুমি জানো এবং আমিও অপারগ।”
সুরভি :.. “শুনেছি সাধ্যসাধনায় অসাধ্য সাধন হয়।”
সরণ :.. “হ্যাঁ, এমন খবর আমিও শুনেছিলাম।”
সুরভি :.. “তাইলে চেষ্টা করো না কেন?”

তারপর পড়ার জন্য ইবই ডাউনলোড করুন

স্বয়ম্বরা

© Mohammed Abdulhaque