অধর্মাচরণ

অধর্মাচরণ

দীনহীন অসহায়রা সবসময় দুঃখভোগ করে, কষ্টে ক্লিষ্ট হয়, তেষ্টায় অতিষ্ট হয়ে মরে, ক্ষমতাশালী এবং সম্পদশালীর সেবা করে। তিক্ত সত্য হলো এতিম অনাথরা এখন অনাত্ম্য। প্রভাবপ্রত্তিশালীর মনোরঞ্জনের জন্যই যেন দুর্বলের জন্ম। অজাত বজ্জাতের ইজ্জাত নেই। অধিকার নেই। নিরাপত্তা নেই। নিশ্চয়তা নেই। বিবেক নেই, বুদ্ধি নেই। বোকা এবং নির্বাক। ন্যায্য আজুরা নেই, আয় নেই, উন্নতি নেই। নিপীড়িত নির্যাতিত এবং নিষ্পেষিত হয়ে শমনদ্বারে কড়া নাড়ে। দীনহীনরা সংখ্যায় অগণনীয়। ওরা যেন লবণসমুদ্রের জলরাশি। পিপাসায় মরলেও লবণজল পান করা যায় না, কিন্তু লবণাক্ত জল শুকালে বাতাস এবং বৃষ্টির ভুষ্টিনাশ হবে। হাঘর হাভাতেরা চক্রের চাকা ঘুরিয়ে জগৎসংসারকে সচল রাখে। প্রভাবপত্তিশালীরা ভোগ এবং সম্ভোগে ব্যস্ত। অন্যায় অত্যাচার এবং অভিচারের অর্থ নির্থক হয়েছে। অধর্মাচরণে ধনীরা ধনীই হচ্ছে, দীনহীনরা অনাহারে মরছে। জন্ম মৃত্যু স্বর্গ নরকের সাথে সম্পৃক্ত। ধনমদে ধনীরা মাতাল। নির্ধনরা অন্নের জন্য হন্যের মত দৌড়ে। আপত্তি বিপত্তির অর্থ আমরা জানি না। প্রাকৃতিক শক্তিকে আমরা তোয়াক্কা করি না। আমাদের নিত্যকৃত্যে মৌলিকতা নেই, সবকিছুতে এখন কৃত্রিমতা। অপ্রাকৃত ক্রিয়াকর্মে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে। কৃত্রিমতা হলো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের নিগূঢ় রহস্য, স্বার্থোন্মত্ততা এবং স্বার্থচিন্তায় বিপর্যস্ত হয়েছে সমাজব্যবস্থা। কৃতজ্ঞতা এবং অকৃতজ্ঞতা অর্থ না জানার দরুন আমাদের সাথে তাল দিয়ে বিশ্বপ্রকৃতি বেপরোয়া হচ্ছে। আল্লাহ বলেছেন সকলের জীবিকা আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে এবং আমরাই আমাদের অনিষ্ট করি।

© Mohammed Abdulhaque

সাহিত্যসমগ্র