উদাসির বাঁশি | গল্প

বাঁশির_গল্প

পলাশমিঞার জানে শান্তি স্বত্বি নেই। কামকাজ করে না। বাউণ্ডুলের মত দিনমান ঘুরে বেড়ায়। তার গ্রামের অবলারা তাকে দুই চোখে দেখতে পারে না। তার ভয়ে ওরা ভরদুপুরে ঘর থেকে বেরোতে পারে না। অনেকে তাকে ভূতের ভায়রা ডাকে। ত্রিসন্ধ্যায় বাঁশঝাড়ের জড়ে বসে যে বাঁশি বাজায় তার জন্য ভূতের ভায়রা নামটা মানানসই। অন্যরা প্রতিবাদ করলেও আমি অবলাদের দলে। কারণ আমিও ভূত ডরাই। বেচারা পলিশামিঞা। উঠতি বয়সে ডানাকাটা পরির প্রেমে মজেছে। গায়ে পড়ে প্রেম করার জন্য ডাকসাইটের সুন্দরিরা তাকে আমশি চটা বানিয়ে দেয়। সে চোখ পাকিয়ে বলে, ‘চুকা খেলে দাঁতে পোকায় ধরে। আমি চুকা খাই না। বড়ুই আমি ডরাই।’
দাদি নানির কাছে নালিশ করেও কোনো লাভ হয়নি। বিধায় অবালারা পলাশমিঞার সজনির নাম ঠিকানা জানার জন্য আড়াইটা এণ্ডা মানত করে নয় জনে চড়ুইভাতি করেছে। এতে তাদের মানত পূরা হয়। এক অবলা ঘোষ দিয়া পলাশমিঞার দরদিকে গুপ্তচর বানায়। পলাশমিঞার সব খবর সে অবলাকে জানায়।
আজ পলাশমিঞার মন বিমনা। বাঁশ ঝাড় থেকে বাঁশ কেটে বাঁশি বানিয়েছে এবং বাদ নিশা নদীর পাড়ে বসে বাঁশি বাজায় …
ঝাড়ের বাঁশ দিয়া আমি মোহনবাঁশি বানাইলাম, রাখালের হাতপাও ধরিয়া বাঁশিবাজানি শিখিলাম। সজনি লো,নিরালায় বইয়া আমি বাজাই বাঁশি, বারিষায় নাও ভাসাইয়া ভরাগাংগে ভাসি। ঝাঁড়ের বাশ দিয়া আমি বানাইলাম মোহনবাঁশি। তোরে দেখার লাগি একলা আমি উজাগরি করলাম, নিশা রাইতে বাঁশি বাজাইয়া কত পরি নামাইলাম। তোর লাগি পছিয়াঁ বাতাসে বাঁশির সুর পাঠাইলাম, সজনি লো, তোরে পাওয়ার লাগি উদাসি হইলাম। রাখালের হাতপাও ধরিয়া বাঁশি বাজানি শিখিলাম।।

তার গান শুনে ডানাকাটা পরি একটা দৌড়ে আসে।

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র