সত্য প্রেম | উপন্যাস

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, রমণে রমণীয় হয় রমণী এবং রত্নশিল্পীর কলাকৌশলে নীল পাথর হয় নীলকান্তমণি। কিংবদন্তি হলেও রত্নবনিকরা বিশ্বাস করে এবং বাতাসে কানাঘুষো, নীলগিরির গুপ্ত গুহায় সংগুপ্ত নবরত্ন আছে। তা শুনে কেউ আষাঢ়ে গল্প আর কেউ বলে কোটারি যেমন কর্ণকুহরে প্রবেশ করতে পারে তদ্রুপ নীলগিরিতেও রত্নের খনি থাকতে পারে, এর মানে সত্যাসত্য জানার জন্য সন্ধানী হলে প্রকৃত তথ্য এবং রত্নের সন্ধান মিলবে। যেমন, অনুধ্যানে আত্মান্বেষীরা আত্মদর্শন করে এবং পরমসত্যান্বেষণে সত্যান্বেষীরা চিন্ময় হয়। তত্ত্বানুসন্ধানে সমাজতাত্ত্বিক না হতে পারলেও মনস্তাত্ত্বিক অথবা প্রত্নতাত্ত্বিক হওয়া যায় এবং আপখোরাকির জন্য স্বার্থান্বেষীরা তক্কেতক্কে ঘোরায়। এমন এক অন্বেষক জাঁকজমকপূর্ণ সামাজিক অনুষ্ঠানের অলোক-সুন্দরী উপস্থাপিকার কণ্ঠহারের মধ্যমণি দেখে নবরত্নের অন্বেষক হয়। তার নাম আনীল। বই অভিধান ঘেঁটে নবরত্নের নাম জানলেও নিশ্চিত হতে পারেনি, নীলাচলের নীলগিরি না ওড়িশার নীলগিরিতে তা লুক্কায়িত। গূঢ়তত্ত্ব জানার জন্য উপস্থাপিকার সাথে তথ্য লেনদেন করতে যেয়ে আপাতদৃষ্টে ভালোবাসার সূত্রপাত হয়। তথ্য চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত হলে, স্থিরচিত্তে সিদ্ধান্ত করে অভিযাত্রী বেশে বেরিয়ে দেশের নিগূঢ়তম প্রদেশে প্রবেশ করে ব্যস্ততার মিছিলে মিশে অদৃশ্য হলে তার অপেক্ষায় উপস্থাপিকা অপেক্ষিত হয়। বিশ বাইশ বছর পর ভরদুপুরে নীলা নামক যুবতীর মুখোমুখি হলে উদ্ভট কাণ্ড ঘটে। ভয়বিস্ময়ে ভিরমি খেয়ে নীলা এলিয়ে পড়লে আনীল চোখ বুজে অগ্নিমন্ত্র জপে বাতাসে হাত বোলায়। তার হাতের ছায়া মুখের উপর পড়লে চোখ মেলে তার মাথার উপর সূর্যকে দেখে নীলা চিৎকার করে। লোকজন জড়ো হলে নিলীয়মান আনীলের কণ্ঠ নীলার কানে প্রতিধ্বনিত হয়, “নভোনীল শাড়ি পরে নীলা হয়েছ তুমি নীলিমা হতে পারনি। আনীলে নীল মিলে নীলিমা হলেও নীলাঞ্জনাকে নীলা ডাকা যায় না। অলোক-সুন্দরীর নয়ন নীল হলে ওকে নীলনয়না না ডেকে নীলা ডাকা মানানসই।”

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

নীলকমল | উপন্যাস

আগামী মাসে দ্বাদশশ্রেণীর পরীক্ষা শুরু হবে। ছাত্র ছাত্রীদের শঙ্কিল মনে বেজায় আতঙ্ক। অনাবশ্যক এবং অত্যাবশ্যক শব্দের অর্থ জেনে ওরা প্রয়োজনে কথা বলে অপ্রয়োজনে একে অন্যকে এড়িয়ে চলে। পাঠানু-রাগী ছাত্র ছাত্রীরা পাঠাগারে বসে পাঠ্যক্রমানুযায়ী পঠন-পাঠনে ব্যস্ত। কলেজাঙ্গনে তাদের দেখা না পেয়ে আস্তেব্যস্তে অন্যরা যেয়ে এককাট্টা হয়। কারো হাতে মিঠা শরবত, কারো হাতে ঠাণ্ডামিঠাই। ইদানীং গায়ে পড়ে তাদের সাথে ভাব জমাতে সবাই মহাব্যস্ত। তা শুধু পরীক্ষা নাম্নী বিপদসংকেত বাতাসে প্রতিধ্বনিত হলে হয় এবং বরাবরই পরীক্ষাপত্রে শেষ অক্ষর লিখে, কলমের ভাবী কলমিলতা, পুঁথিশালার দুলাভাই চশমাআলা, এসব বলে কটূক্তি করে বিধায় বইপোকারা এবার লাই দিচ্ছে না। কলেজ কামাই করে যারা শিকে পোড়ে ঘুঘু খেয়ে গায়ে মাস লাগিয়েছিল, ওরা একপাশে বসে ভোঁতা বুদ্ধি ধারাবার জন্যে নিদিধ্যাসন করছে। চিন্তার সাগরে থই নেই বিধায় ওরা ঠাঁই পাচ্ছেনা এবং আক্কেলের বালোকাবেলায় বসে ভোঁতা বুদ্ধি ধারাতেও পারছে না।
কয়েক চশমাআলা এক বেঞ্চে বসে ঘি-চমচম চিবাচ্ছিল আর শরীর কাঁপিয়ে হাসছিল। হঠাৎ কাকতালীয় কণ্ঠস্বর বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়, “পরীক্ষাপত্রে প্রশ্নোত্তর লিখতে হবে না, শুধু প্রশ্ন-নম্বর বললে আমার চোদ্দোপুরুষ উদ্ধার হবে। পরীক্ষা পাশ করলে তোদেরকে আর ভড়কাব না।”
ওরা ঝম্পে উঠে বেঞ্চের পিছনে যেয়ে সভয়ে বললো, “মুহীব, তুই এখানে কী করছিস?”
পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি লম্বা মল্লের মত তাগড়া মস্তান দাঁড়িয়ে পাছা ঝাড়তে ঝাড়তে উদাসকণ্ঠে বললো, “বই মেললে ছাপারাক্ষরে প্রিয়তমার অবয়ব স্পষ্ট হয়। বিমনা হয়ে চোখ বুজলে, মনশ্চক্ষে মানসীর মুখচ্ছবি দেখি। মনশ্চাঞ্চল্যে বিচঞ্চল হলে, প্রাণোচ্ছল হয়ে খলখল করে হাসে। উদাসদৃষ্টে শূন্য হাতের দিকে তাকালে দেখতে পাই, মেন্দির রঙ্গে রাঙ্গা প্রেয়সীর হাত ধরে বনবাসে যাচ্ছি।”
একজন সভয়ে বললো, “এসব কীসব বলছিস বুঝিয়ে বল।”
মুহীব বিদ্রুপহেসে মাথা নেড়ে বললো, “ইউনিভার্সিটির উঠানে তোদের সাথে সাক্ষাৎ না হলে, বাপের জন্মে তোরা আর পরীক্ষার দেয়াল টপকাতে পারবে না।”
“কেন?”

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

হৃদনন্দী

ভালোবাসার_গল্প

ভরদুপুরে সময় নির্ণয় করার জন্য আকাশের দিকে তাকালে ঠাঠাপড়া রোদে সূর্যকানা হতে হয়। বৈশাখ মাস, ধান কেটে মাড়াই দিয়ে কৃষকরা আমোদ প্রমোদে মত্ত। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হলে প্রতি বছরের মত এবারও যুবক যুবতি ছুটি কাটাবার জন্য গ্রামে এসেছে। দুজনের নানাবাড়ী একগ্রামে। গ্রাম তাদের জন্য দুঃসাহসিক অভিযানের একদম উত্তম স্থান। অত্যধিক সাহসের প্রবণতা দেখে সবাই তাদেরকে যত্নআত্তি করে। ঠিক দুপুরবেলা পুকুর ঘাটের আমগাছের ডালপাতা নড়তে দেখে সুপিয়া সোঁটা টেনে দৌড়ে যায়। গ্রামের জোয়ানরা জানে ওর নানা এই গাছের আম খুব পছন্দ করেন। বিধায় হাজিসাহেবের পুকুর পারের গাছে কেউ ওঠানামা করে না। গাছে পাকা আম দেখে ওরা লোভের মুখে জলপাই গুঁজে মিঠা আমাকে চুকা বলে মনকে প্রবোধ দেয়। তা সুপিয়া জানে বিধায় সোঁটা সাথে নেয়। গাছের ডালে বসা পিরের নাতি গূঢ়তত্ত্ব জানেন না। উনি ডালে বসে বুলবুলির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পিরের নাতি হওয়ার সুবাদে উনি চুরি করেন না। উনার নানা বলেছেন চুরি করে হাতেনাতে ধরা পড়লে কব্জি কেটে ফেলবেন। সাধু মশাই বুলবুলির অপেক্ষায় অধৈর্য প্রায়। বুবুলিরা তেঁতুলগাছে বসে গুনুগুন করে উনার কাণ্ডকারখানা দেখছিল। সুপিয়া গাছের নিচে যেয়ে ভেটকি দিলে সাধুমশাই চমকে ওঠেন। উনি শহুরে মস্তান হলেও সুপিয়ার ধমকে উনার সাহসের বারোটা বাজে।
‘তোর এত সাহস, জেনেশুনে অথবা বুঝেশুঝে পুকুর পারের গাছের আম চুরি করতে এসেছিস। চোরের বৈরী বাটপাড়, আজ তোকে যমের জেলে চালান করব।’ বলে সুপিয়া শাড়ির আঁচল কোমরে গোঁজে সোঁটা দিয়ে গুঁতা মারার জন্য প্রস্তুতি নিলে সাধুমশাই বললেন, ‘দেখো, আমি হলাম দক্ষিণ পাড়ার পিরসাহেবের নাতি। আমি তোমার গাছের আম চুরি করে খাইনি। ডালে বসে বুললির জন্য অপেক্ষা করছি।’
‘এই সাধুর নাতি চোর, তুই কি জানিস না অপেক্ষাকৃত ভাবে বেশি সংক্রান্ত হলে বিভ্রান্ত হতে হয়। বুলবুলিরা তা জানে বিধায় এই গাছের আশে পাশে ওরা আসে না। দাঁড়া, আজ তোকে গুঁতিয়ে মারবো।’ বলে সুপিয়া সোঁটা উঁচায়। সাধুমশাই দোহাই দিয়ে বললেন, ‘হৃদনন্দী, দোহাই দিচ্ছি, সোঁটা দিয়ে গুঁতা মারিস না। জানে না মারলে, আমের কিরা খেয়ে নানাকে বলব তোর কাছে আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য।’
‘তোর মতো কাপুরুষকে আসি বিয়ে করবো? বিলাতি বিটেল, তুই আমাকে কী পেয়েছিস? বুঝেছিস সুন্দর চামড়া দেখে তোর প্রেমে মজে হাটু জলে গোসল করব? দাঁড়া, আজ তোকে সত্যি গুঁতিয়ে মারব।’
এমন সময় পিরসাহেব জোহরের নামাজের জন্য যাচ্ছিলেন। সুপিয়ার নানা উনাকে ডাকেননি বিধায় উনি দেখতে এসেছেন হাজি সাহেব সুস্থ আছেন কি না। উনাকে দেখে সুপিয়া মাথায় কাপড় দিয়ে সালাম করে সোঁটা নামিয়ে দূরে সরে বলল, ‘নানাজান হয়তো ফকেরা মালা নিয়ে ব্যস্ত।’
পিরসাহেবকে দেখে সাধুমশাই কেঁদে বললেন, ‘নানা গো, জল্লাদের নানি আমাকে সোঁটা দিয়ে গুঁতিয়ে মারাতে চায়।’
‘তাহির, আম গাছে তুই কী করছিস? নেমে আয়। আর মারবে না। আমি তোকে বলেছিলাম চুরি করলে কব্জি পর্যন্ত কেটে পেলব।’
গাছ থেকে নামতে নামতে তাহির বলল, ‘আমি চুরি করিনি। এই গাছের আম খাওয়ার জন্য ওরা আমাকে উসকিয়েছিল, বলেছিল এই গাছের আম বুলবুলিরাও খায় না। সত্যাসত্য জানার জন্য দুপুরবেলা ওঠেছিলাম। বুলবুলিরা আসেনি কিন্তু ঝকড়া হাতে হৃদনন্দী সত্যি এসেছে।’
‘আম খাসনি তো?’
‘না গো নানা, আমে হাত দেইনি। আমাকে আপনার সাথে নিয়ে যান নইলে এই ভূতের তাবিজ আমাকে ভূত বানিয়ে কবচে ভরে ডালে বাঁধবে।’ বলে তাহির পিরসাহেবের পিছনে লুকায়।
‘এটা তো ভূতের বৈরী। তার হাউমাউ শুনে আমার পোষ্য ভূতরা এবার গ্রাম ছাড়বে।’ বলে সুপিয়া মুখ বিকৃত করে চলে গেলে পিরসাহেব চোখ কপালে তুলে বললেন, ‘তোর মা বলেছিল তুই মস্ত মস্তান হয়েছিস। তোর ভয়ে টোলার লোকজন আতঙ্কিত। সুপিয়ার কোঁদায় তুই কাঁদতে শুরু করেছিস। ছি ছি, তোর লজ্জা হয়নি? এই ভয়ঙ্কর কাণ্ডকারখানা মাহীকে বলতে হবে। জয়জয়কারের জন্য এক হুংকারে দুঃসাহসিক অভিযানের বারোটা বাজিয়েছে।’
পিরসাহেব যখন তাহির সাথে কথা বলেন সুপিয়া তখন ডেকে বলল, ‘নানাজানা, হুজুর আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন এবং উনার বিলাতি নাতি উনার গলা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করছে।’
নানা দ্রুত বেরিয়ে বলল, ‘উনার কোনো বিলাতি নাতি নেই।’
‘একটা আছে, পুকুর পারে যেয়ে দেখুন।’
‘তোর যন্ত্রণায় যে কী করি? বৈশাখ মাসে তোর ভয়ে জোয়ান বুড়া বাড়ির ধারে পাশে আসে না। যাক, আজ বাড়ি এত নীরব কেন মা’র সাথে তোর নানি চলে গিয়েছি নাকি? রান্না কে করবে, খাব কী, তুই তো ভাত পাকাতে পারিস না?’
‘নামাজ পড়ে আসুন। তারপর দেখব কী কী খেতে পারেন, এবার আমি রাঁধাবাড়া শিখে এসেছি।’
‘খুব ভালো হয়েছে। সমস্যা হলো এখন আর তোকে বিয়ে দিতে পারব না। বিয়ে করাতে হবে।’
‘নানাজান, চাষিরা হালচাষ করে, বিয়ে বসে না। কাপুরুষকে আমি বিয়ে করব না।’
‘আচ্ছা ঠিকাছে। এখন রান্না ঘরে যা, তোর ভয়ে কাজের ঝি আসেনি।’
‘না আসার জন্য আমি ওকে বলেছিলাম।’
‘কী?’
‘নির্ভয়ে মসজিদে যান। আমি মারামারি করি না।’
উনি চলে গেলে সুপিয়া ভিতরে যেয়ে অজু করে নামাজ পড়ে মেঝেতে চাদর বিছিয়ে ভাত তরকারি সাজায়, এমন সময় মনের কানে হৃদনন্দী প্রতিধ্বনিত হলে নিম্নকণ্ঠে কয়েকবার হৃদনন্দী জপে অভিধান খুলে তন্ময় হয়। হঠাৎ নানা ডেকে বললেন, ‘সুপিয়া, ভাত দে।’
উনার দিকে তাকিয়ে সুপিয়া বলল, ‘হৃদয় এবং নন্দিনী শব্দদ্বয়ের মিলন সংক্ষেপ হৃদনন্দী হয় না।’
‘কানে সমস্যা হচ্ছে কিচ্ছু বুঝিনি।’
‘মিনমিনে আমাকে হৃদনন্দী ডেকেছিল। নন্দী নন্দিনীর চেয়ে অর্থের দিক দিয়ে অনেক গরীয়ান। নন্দী, ভক্তির ক্ষমতা রাখে।’
নানা বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘নিশ্চয় ভূতের ভয়ের য় এবং নী উহ্য করেছিল। এখন ভাত দে, পেটে ঝাঁগুড়গুড় শব্দ হচ্ছে।’
‘খাবার সাজিয়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করছি।’
‘থাল আরো দুইখান আন।’
‘শুধু আমরা খাব। আরো দুইখান দিয়ে কী করবেন?’
‘হুজুরের সাথে উনার নাতি আসবে।’
‘ভূতের ভায়রা, তওবা তওবা।’
‘তুই ভেবেছিলে মাহী, তাই না? তোর ভয়ে ভণ্ডামি ছেড়ে সে এখন সাধক হয়েছে। যাক, থাল এনে দিয়ে হৃদনন্দীর অর্থ খুঁজে বার কর।’ বলে নানা হাত দিয়ে ইশারা করেন। সুপিয়া থাল এনে দিয়ে পাকঘরে যেয়ে বিড়বিড় করে, ‘ও কেন আমাকে হৃদনন্দী ডাকলো? দয়িতাকে হৃদনন্দী ডাকা যায়। আমি কারো প্রেমিকা হতে চাই না। আমাকে বিরক্ত করার জন্য ভূতের ভায়রা গ্রামে এসেছে। বাগে পেলে তাকে আমি বানরের মত নাচাব।’
এমন সময় পাকঘরের পাশ দিয়ে তাহির হেঁটে যায়। তাকে দেখে সুপিয়া ঝাড়ু হাতে বেরিয়ে বলল, ‘এই দেখ আমার হাতে বাইলের ঝাড়ু। ভূত ঝাড়ার জন্য বানিয়েছি। শহুরে মস্তান, কলঙ্কের ঢোল পিটাবার জন্য কসবায় এসেছিস। দাঁড়া, আজ তোর একদিন কী আমার একদিন।’
তাহির দৌড়ে পালায় এবং নানা বেরিয়ে বললেন, ‘তোর যন্ত্রণায় যে কী করি। তুই আসলে বুলবুলিরাও আনাগোনা বন্ধ করে।’
‘ওরা ওকে চেতিয়েছিল তা আমি জানি, কিন্তু তার মাথায় কি বুদ্ধি নেই? লেখাপড়া করেও জানতে পারেনি মাথায় যে মগজ থাকে। বেআক্কেলের বন্ধু, বুদ্ধির খনির সন্ধান আজো পায়ানি।’
‘তুই কোন কলেজে পড়িস?’
‘নানাজান, ভূতের ভক্তরা আমার নামের তাবিজ ডরায়। ওরা জানে, ঝাড় ফুক শুরু করলে শহর গরম হয়। নাতনি কার দেখতে হবে তো।’
‘ওরে বাসরে! তুই কবে মহিলা সন্ত্রাসী হলে?’
‘নানাজান, ইতররা শয়তানের বেগার। পিরিতির মারিফতি ওরা জানে না। যে বেগার খাটে তার সাথে পিরিত করব কেমনে?’

-সমাপ্ত –

বইর নাম আঠারোটা অসমাপ্ত প্রমোপন্যাস

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

সুতনুকা | ভালোবাসার গল্প

ভালোবাসার_গল্প

সায়ংকালে সূর্য ডুবতে শুরু করেছিল। ভাসমান মেঘের সাথে চাঁদ লুকোচুরি খেলছিল। পরিবেশে মৃদুমন্দ বাতাস বইছিল। এক উদাসী তার প্রিয়তমার জন্য অপেক্ষা করছিল। নিঃসঙ্গ এবং মর্মাহত, সাগরসৈকতে হাঁটছিল এবং কড়ি কুড়াচ্ছিল। যা তার মনকে বিবেশ করছিল। যথেষ্ট কড়ি কুড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে বসে অগণ্য ঢেউ গোনছিল। অবুঝের মত পানিতে হাত দিয়ে চাঁদকে স্পর্শ করবে এমন সময় এক অপরূপা তার সামনে আবির্ভূত হয়ে বলল, ‘কা’র জন্য অপেক্ষা করছ?’
উদাসী চমকে ওর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমি আমার প্রিয়তমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’
অপরূপা একটা পাথরে বসে তার দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে। উদাসী এগিয়ে যেয়ে বলল, ‘আমি জানতে ইচ্ছুক, তুমি কে বা কী?’
‘বিরহিণী আমি আমার প্রিয়তমের জন্য অপেক্ষা করছি। আমার পাশে বসো।’
উদাসী মাথা নেড়ে বালিতে বসে কড়ি নিয়ে খেলতে শুরু করে আড়দৃষ্টে তাকিয়ে বলল, ‘ইতিপূর্বে তোমাকে দেখিনি।’
‘এখানে কি সচরাচর আসো?’
‘হ্যাঁ।’
‘তুমি কি নিঃসঙ্গ?’
‘হ্যাঁ।’
‘তোমার হাবভাবে মর্মব্যথা বিদ্যমান, কেন বলবে?’
উদাসী দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, ‘প্রেম একটা শব্দ মাত্র, তাই না?’
‘হ্যাঁ, প্রেম একটা শব্দ মাত্র।’ বলে অপরূপা বিচলিত হয়ে মাথা দুলায়। উদাসী পাথরে পিঠ রেখে সাগরে কড়ি ছুঁড়ে বলল, ‘প্রেম আরাধ্য এবং কাম ঘৃণ্য। কামিনীর কামনায় বারার কামার্ত হই।’
‘তুমি সত্যি মর্মাহত, তাই না?’
‘হ্যাঁ, আমাকে আমার প্রিয়তমা মর্মাহত করেছে।’
‘আমিও মর্মাহত।’ বলে অপরূপা দাঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করে। উদাসী চোখ বুজে চিৎকার করে বলল, ‘কেন প্রেমে মজেছিলাম বিরহানলে দগ্ধ হওয়ার জন্য?’
অপরূপা পিছন ফিরে বলল, ‘প্রমা নন্দে ভরপুর এবং প্রেম হল নন্দিত হওয়ার জন্য।’
‘সত্যাসত্য না জেনে আমি নন্দিত হওয়ার মানসে সানন্দে নিরানন্দ হয়েছি।’
‘আক্রোশে নিরাশ হলে তুমি নিষ্প্রতিভ হবে, সাঁতারুর জন্য নিষ্ফল আক্রোশ নিষ্প্রয়োজন।’
‘নিরাশ আমি মর্মাহত। স্বপ্নহীন শয়ন আমার জন্য কষ্টদায়ক, বিচ্ছেদের রাত স্যতি যন্ত্রনাদায়ক।’
অপরূপা পিছু হেঁটে বলল, ‘আমি তোমাকে কী ডাকব?’
উদাসী ঝম্পে ওঠে বলল, ‘কী ডাকতে চাও?’
অপরূপা দুষ্টুহাসি হেসে বলল, ‘প্রেমী ডাকি?’
‘আহ, বড্ড লেগেছে।’
‘আমি কী করলাম?’ বলে অপরূপা খিল খিল করে হাসে।
‘আমি জানি তুমি নরফাঁদ। দয়া করে ভোঁয়া ধরে টান দিয় না, সত্যি কষ্ট হয়।’
‘আমার প্রেমী আর কখনো ফিরবে না।’
‘আমিও অপেক্ষা করছিলাম মাত্র।’
‘কার জন্য?’
‘উদাসিনীর জন্য।’
‘কেন?’
‘আমি চাই দুঃখ ব্যথার ভাগ করি।’
‘আমার সাথে ভাগ করবে?’
‘প্রমা তুমি আমার জন্য দৃষ্টিভ্রম।’
অপরূপা হাসতে হাসতে বলল, ‘তুমি আমাকে প্রিয়তমা ডাকতে পারবে।’
উদাসী বুকের বামপাশে হাত রেখে বলল, ‘এখন তুমি আমার হৃদয় ধরে টানছ এবং আমার পেটে কাতুকুতু হচ্ছে।’
‘কেন?’
‘প্রিয়দর্শিনী তুমি স্বপ্নচারিণী।’
‘হয়তো। কিন্তু, তুমি হলে হস্থপূর্ণ এবং আমি তোমার বাহুতে আবদ্ধ হেত চাই। দয়া করে এগিয়ে এসে বলো, রূপসী আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
‘আমি বলতে চাই কিন্তু তুমি মানবিকা।’
‘নিঃসঙ্গ আমি অলোকসুন্দরী মাত্র।’
‘যৌবনমদমত্তা…।’
‘আমাকে একটা কবিতা শুনাও।’
‘আমি এক ব্যর্থ প্রেমিক।’
অপরূপা কাছে যেয়ে অনুপলে তার অধর চুমে বললল, ‘এখন কী?’
উদাসী ধপাস করে বালিতে বসে বললাম, ‘ওটা কী ছিল গো?’
অপরূপা অট্টহাসি হেসে বলল, ‘প্রেমচুম্বন।’
উদাসী দুহাত উঁচিয়ে বলল, ‘আমাকে আমার গন্তব্যে নিয়ে যাও।’
অপরূপা হাসতে হাসতে বলল, ‘সবাই বাঁচার জন্য মরনপণ করে। তুমি মরতে চাও কেন?’
‘আমি মরতে চাই, কারণ…।’
‘কথাগুলো বলো।’
উদাসী হাসতে হাসতে বলল, ‘আমাকে তোমার সাথে কাম করতে দাও। আমি তোমার কামনাকে ক্লান্ত করব, তুমি নন্দিতা হবে প্রাণবন্ত।
‘হে অনামিক।’
উদাসী হাঁটতে শুরু করে হাত নেড়ে বলল, ‘আমাকে প্রিয়তম ডাকো, ফিরে তাকাব।’
‘তোমার নাম বলো, হাত ধরে হেঁটে আমরা নিধুবনে যাব।’
‘আমি চাই আমার প্রিয়তমা আমার সাথে প্রেম করুক, আমি যেমন করে প্রেম করতে চাই।’
অপরূপা ডেকে বলল, ‘আমাকে ভালোবাসা শিখালে আমি তোমাকে ভালোবাসব।’
‘প্রেমে ঘাটের-মড়া মনকে উজ্জীবীত করে এবং প্রিয়তমা হলো প্রেমের জন্য।’
‘ফিরে তাকাও, দৌড়ে তোমার উরে আসব।’
‘পথচারী আমি পথ চলছি, পৃথিবী এখন প্রেমহীন, উদাস আমি হতাশ, প্রিয়তমা হলো আনন্দদায়িনী, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’
‘তোমার দুঃস্বপ্নের ভিতর প্রবেশ করে আমি তোমাকে ভয় দেখাতে চাই না। পিছন ফিরে তাকাও এবং আমাকে উরে টানো।’
‘ডান হাত বুকের উপর রেখে গলার জোরে বলো, পথিক আমি তোমাকে ভালোবাসি। ভালোবাসো আমাকে যেমন করে আমি ভালোবাসা চাই এবং নিঃসঙ্গতা সমাপন হবে ভালোবাসায়।’
অপরূপা দৌড়ে যেয়ে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘ভালোবাসি তোমাকে আমি ভালোবাসা চাই তুনপরশ।’
উদাসী ওর মুখের দিকে তাকিয়ে দুষ্টুহাসি হেসে বলল, ‘জেল্লায় উজ্জ্বল পরমা সুন্দরী মদলসা মোহিনী তুমি দুধে আলতা রূপে ধনি চিকনবরণী, আপাতদৃষ্টে তোমাকে দেখে আমি আকৃষ্ট হয়েছিলাম মোহিত। কামনা মনে কামেচ্ছা, চোখে নেশা, অধরমধু পান করিয়ে মাতোয়ালা করো আমাকে। তোমাকে হাসাবার জন্য ঝাঁপটে ধরে চাঁদকে টিপ বানিয়ে দেব কপালে। বাহুতে আসো, কামনার নিবৃত্তি করে দাও উদাসিপনার পরিসমাপ্তি, হাত ধরো বরণ করব, কলঙ্ক হবে না কেচ্ছা। কামর্ত আমি মনে কামেচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে দুজনার মনের ইচ্ছা। দুষ্ট পাজি লক্ষ্মীছাড়া অপদার্থ নই আমি নচ্ছার। দোহাই সদয় হয়ে বলো আচ্ছা। সুখিত হতে চাই আমি তোমার আঁজলায় রাখতে চাই আশায় পূর্ণ পেয়ালা, মনকে বানাব তোমার প্রহরী। দোহাই তুমি গাঁইগুইঁ কর না, অনেকে বলে প্রেম আজকাল অচল হয়েছে, ছলে বলে আমি তোমাকে রাজি করতে চাই না, তবে দুনিয়ার যত বাজে জিনিস দোকানিরা আমাকে দেয় গছিয়ে, একগাদা টাকা গেল সাথে দিতে চাই না আর গচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে দুজনার মনের ইচ্ছা।’
‘মনের বনে বিয়ের ফুল ফুটেছে, মেন্ধি গাছে নতুন পাতা গজিয়েছে দেখেছি আমি বনফুলে বরণ মালা গেঁথেছি। তুমিও যৌবনা হয়েছ, সাথি প্রয়োজন, জীবন পথ একা চলা যায় না। সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করার জন্য মরমি চাই, বান্ধব হব বান্ধবী হলে, মনে মনে মিলে কুষ্টির মিল করতে চাইলে গুরুজনরা শুভেচ্ছা প্রকাশ করবেন আশিস, নিশি ঘনাচ্ছে, সুখবাসরে তনুমিলন হবে দুহে, জানি কামর্তার মনে কামেচ্ছা।’
‘আমার মনে দানেচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে দুজনের মনের ইচ্ছা। অপরিসীম স্বাধীনতা ভোগের অলৌকিক শক্তি আছে মনে ভোগেচ্ছা পূর্ণ করার ক্ষমতা, নরীর ধর্মনষ্ট করা যায় বল খাঁটিয়ে ভালোবাসা আদায় করা যায় না। আমি তোমাকে ভালোবাসি, মরণপণ করেছি দেখো বরণ মালা হাতে, এগিয়ে আসো পবিত্র মনে বিশ্বাস করো আমাকে, হাতে রেখে হাত যা জানতে চাও জিজ্ঞেস করো যদি তোমার মনে থাকে পৃচ্ছা, দোহাই প্রকাশ করো না অনিচ্ছা। কামর্তের মনে কামেচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে দুজনের মনের ইচ্ছা। কামাজ্বরে তনে জ্বলছে কামাগ্নি, তাপে কামনা বাষ্প হবে ঘাম, স্বেচ্ছাচারকারী নই আমি উচ্ছৃঙ্খল, নিজ ইচ্ছার বশবর্তী হয়ে আমি নিজের খেয়ালখুশিতে কাজ করি, কাম করি না বিনাবেতনে, বরণ করে সাংসারী হলে দুজন সেবায় যুক্ত হব, সাধ কামনা মনে অভিলাষ আছে, শখ করে সাধে ধরা দাও স্বেচ্ছায় নিজের ইচ্ছা বাসনা পুরণ হবে সদিচ্ছা। বাহুতে আসো মিটবে মনের ইচ্ছা।’

-সমাপ্ত –

বইর নাম — আঠারোটা অসমাপ্ত প্রমোপন্যাস

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

শান্তিরক্ষক

শান্তিরক্ষকার_গল্প

রাক্ষস খোক্কসরা দেবশত্রু। নিজেকে অবিনশ্বর ভাবলেও ওরা মানুষের মত নশ্বর। রাক্ষসরা ক্রব্যাদ এবং তাদের দেশের নাম ক্রব্য। রাক্ষসরাও রাজা মানে। হিংস্রশ্রেষ্ট রাক্ষস তাদের রাজা। সেই রাক্ষুসে রাজার রাক্ষসপুরীতে রাক্ষসীর গর্ভে নরাশ এবং অনুশর জন্মে রাক্ষসবংশের যক্ষরক্ষ হয়। তাদের শিরায় রক্তবীজ। রাক্ষুসে রাজার আদেশে ওরা রাক্ষসকুলরক্ষণের ব্রত করে। হঠাৎ বিভ্রাটে পড়ে বিভ্রান্ত হয়ে অনুশর মনুষ্যরাজ্যে প্রবেশ করে এক মনুষীর প্রেমে পড়ে ক্রমাগত প্রথার ক্রমভঙ্গ করে। অনন্যসাধারণ মনুষী রূপেগুণে মনোমোহিনী এবং দুর্গতিনাশিনী। ওর হাসির শব্দে শোক সন্তাপের সর্বনাশ হয়। কুমারী রাক্ষসী নরাশকে ভালোবাসে। নরাশ ওকে সহ্য করতে পারত না। ওদের রেষারেষি এবং বিদ্বেষপূর্ণ প্রতিদ্বন্দিতায় রাক্ষসপুরে সুখ শান্তি নষ্ট হয়। রাক্ষুসি ছিল অত্যন্ত কুৎসিত আর মনুষী ছিল পরমা সুন্দরী।
মনুষীর খবর পেয়ে রাক্ষুসি এবং নরাশ মনুষ্যরাজ্যে অনুপ্রবেশ করে। নরাশের একমাত্র কাজ ছিল হানাহানি আর জুজুবুড়ি সেজে রাক্ষুসি মানুষকে কুমন্ত্রনা দিতো। মনুষ্যরাজ্যে এক কুটুনিবুড়ী ছিল। ওর নাতি মনুষীকে ভালোবাসতো। মনুষী ভালোবাসতো অন্য মনুষ্যকে। সেই মনুষ্য ছিল মনুষ্যরাজ্যের শান্তিরক্ষক। রাক্ষস আর রাক্ষুসির আগমনে মনুষ্যরাজ্যের শান্তি নষ্ট হয়। নরাশ মনুষীকে খুঁজে পায় না। কুটনিবুড়ী তাকে ঠিকানা বাতলে দিলে মনুষীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাতে মনুষ্যরা অসুখি হয়। সুখ এবং শান্তি রক্ষার জন্য মনুষ্য অসি হাতে নিলে শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। মানুষ মরে রাজ্য খালি হতে শুরু করে কিন্তু নরাশকে নাশ করা যায় না। তার গায়ে অসির ছেদ পড়লে রক্তবীজ থেকে শাতধিক রাক্ষস জন্মে।
মনুষ্যের বীরত্ব দেখে রাক্ষুসি তার প্রেমে পড়ে। মনুষীকে উদ্ধার করার মানসে মনুষ্য রাক্ষুসির সাথে চুক্তি করে। নরাশকে নাশ করার উপায় বাতলে দিলে নরাশকে ওর গোলাম বানিয়ে দেবে। রাক্ষুসি রাজি হয়ে উপায় বাতলে দেয়। মনুষীর তালপুকুরের ঠিক মাঝখানে এক কুঠুরি। সেই কুঠুরির মাঝখানে এক কোঠা আছে এবং সেই কোঠার ঠিক মাঝখানে সোনার পালঙ্কে মনুষীকে সংবেশ করে রেখেছে। শিথানে মরণকাঠি এবং পৈঠ্যনে জিয়নকাঠি। কাঠি দুটা উলট পালট করতে হবে। নরাশের প্রাণপাখি মনুষীকে সতর্ক পাহারা দেয়। সেই পাখিকে মারতে পারলে নরাশের সর্বনাশ হবে। পাখির রক্ত মাটিতে পড়লে অথবা পাখি মুক্ত হলে মনুষ্যরাজ্যে কল্পান্ত শুরু হবে। নরাশের প্রাণপাখি তো আর মামুলি নয় যে ঢিলে কুপোকাত হবে।
মনুষ্যরাজ্যের শান্তি রক্ষার একমাত্র পথ মনুষ্য অবলম্বন করে। অসি হাতে পুকুরে ঝম্পে ডুবে কুঠুরিতে ঢুকে সে হতবাক হয়। দেখতে হীরামনপাখির মত কিন্তু তার পাখনায় অসুরের শক্তি। উড়াল পাখির গায়ে ছেদ মারলে মাটিতে রক্ত পড়বে। দরজা ভেঙে বেরোলে কল্পান্ত শুরু হবে।
পাখি ছটপট শুরু করলে নরাশ টের পেয়ে দৌড়াতে শুরু করে এবং পুকুর পারে পৌঁছলে রাক্ষুসি তাকে কাবু করে। তখন পাখিকে ঝাপটে ধরে মনুষ্য কাঠি রদবদল করলে মনুষীর উজ্জীবীত হয়ে ওঠে বসে। মনুষ্য ওর হাতে অসি দিয়ে বলল, ‘ওগো বরণীয়া, সর্তকতার সাথে এই পাখির ধড় আলাদা করতে হবে, রক্ত মাটিতে পড়লে কল্পান্ত শুরু হবে।’
মনুষী কখনো ডাল থেকে ফুল ছিঁড়েনি, অসির ছেদে পাখির ধড় আলাদা করা ওরা জন্য আপাত-অসম্ভব। মনুষ্য ওকে সবিনয়ে বলল, ‘ওগো মনমোহিনী, মনুষ্যরাজ্যে এখন আর সুখশান্তি নেই। ভামিনী বেশে এই পাখির গর্দান নিলে তোমার রাজ্যে সুখ ফিরবে।’
মনুষী বিচলিত হয়ে বলল, ‘তুমি আমার সুখ হরণ করেছ।’
মনুষ্য সানন্দে হেসে বলল, ‘বরনারী তুমি পাখির গর্দান নিলে আমি তোমাকে বরণ করব।’
‘আমি প্রজায়িনী হতে চাই।’ বলে মনুষী হাঁটু গেড়ে বসে। দাঁত কটমট করে মনুষ্য পাখির ঠ্যাং এবং গর্দনা টেনে ধরে। মনুষী বাম হাতের আঁজলা পাখির গলার নিচে রেখে এক ছেদে ধড় আলাদা করলে নরাশ লুটিয়ে পড়ে হাত-পা ছুড়ে যমপুরে চলে গেলে মনুষ্যরাজ্যে আবার শান্তি-স্বস্তি প্রতিষ্টিত হয়।

বইর নাম — আঠারোটা অসমাপ্ত প্রমোপন্যাস

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র