কুসংস্কার এবং লৌকিক পরম্পরা

ধন এবং দ্বীন

ধন হলো বিষাক্ত সাপের মত। যত যতন করবে সাপ তত বিষাক্ত হবে এবং এক সময় মৃত্যুর কারণ হবে। তদ্রূপ ধন যত বেশি হয় আমরা তত লোভি এবং স্বার্থপর হই এবং ষড়রিপুরা তত কট্টর হয়। ধন সঞ্চয় করে আমরা নির্ধন হই। ধন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ধনীকে সংযত হতে হয়, সতর্ক হতে হয়, বিচক্ষণ হতে হয়। পরিণামদর্শী হতে হয়। ব্যবসার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ঠিক রাখতে হয়। ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়।

সন্তানদেরকে দ্বীন এবং ধন সম্বন্ধে যথেষ্ট শিক্ষা দিতে হয়। বৈধ্য অথবা অবৈধ্য ধনে ধনী হওয়া যায়, কিন্তু প্রকৃত ধনী হতে হলে ধার্মীক হতে হয়। দ্বীনের অভাবে মানুষ বেদ্বীন হয় তদ্রূপ ধনের অভাবে মানুষ নির্ধন হয়। দুনিয়ায় নির্ধনের সংখ্যা বেশি হলেও দ্বীনদারের সংখ্যা অত্যন্ত কম। মানুষ আয়েশপ্রিয়, সত্বরপ্রিয়, লো‍ভী, হিংসুক এবং অহংকারী। এসব কুস্বভাব মানুষকে নিকৃষ্টতম করে। দ্বীন থেকে দূর থাকতে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি এবং অজ্ঞাত কারণে আমরা নিশ্চিত হই ছদকা এবং যাকাতে ধন কমে। কিন্তু আল্লাহ বলেছেন…

[ সুরা আনফাল ৮:৩ ] সে সমস্ত লোক যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদেরকে যে রুযী দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। [ ৮:৪ ] তারাই হল সত্যিকার ঈমানদার! তাদের জন্য রয়েছে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক রুযী।

[ সুরা লাইল আয়াত নং ৯২: ১৮ ] যে স্বীয় সম্পদ দান করে আত্মশুদ্ধির জন্য, [ ৯২: ১৯ ] এবং তার প্রতিকারও অনুগ্রহের প্রতিদান হিসেবে নয়, [ ৯২: ২০ ] বরং শুধু তার মহান প্রতিপালকের মুখমন্ডল (সন্তোষ) লাভের প্রত্যাশায়; [ ৯২: ২১ ] সে তো অচিরেই সন্তোষ লাভ করবে।

[ সূরা ক্বাফ আয়াত নং ৫০: ১৬ ] আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার অন্তর তাকে যে কুমন্ত্রনা দেয় তা আমি জানি। আমি তার ঘাড়ের শাহ রগ অপেক্ষায় নিকটতর (জ্ঞানের দিক দিয়ে)।

[ সুরা আনকাবুত আয়াত নং ২৯: ৬৯ ] যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন।

[ সুরা ইমরান ৩:১৪ ] মানবকূলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশিকৃত স্বর্ণ-রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্ব, গবাদি পশুরাজি এবং ক্ষেত-খামারের মত আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্তু। আল্লাহর নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়।

[ সুরা হাদীদ আয়াত নং ৫৭:২০ ] তোমরা ভালোভাবে জেনে রেখো, দুনিয়ার জীবন তো খেল-তামাশা, জাঁকজমক, পারস্পরিক অহংকার প্রকাশ, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ব্যতীত আর কিছুই নয়, এর উপমা বৃষ্টি, যার দ্বারা উৎপন্ন শস্য-সম্ভার কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, অতঃপর ওটা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি ওটা হলুদ বর্ণ দেখতে পাও, অবশেষে তা খড় কুটায় পরিণত হয়। পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। দুনিয়ার জীবন ছলনাময় ধোঁকা ব্যতীত কিছুই নয়।

[ সুরা বাকারা আয়াত নং ২: ১৫২ ] সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না। [ ২: ১৫৩ ] হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন।

[ সুরা ইউনুস আয়াত নং ১০: ৬২ ] মনে রেখো যে, আল্লাহর বন্ধুদের না কোন আশঙ্কা আছে, আর না তারা বিষণ্ণ হবে। [ ১০: ৬৩ ] তারা হচ্ছে সেই লোক যারা ঈমান এনেছে এবং (গুনাহ হতে) পরহেয করে থাকে।

[ সুরা রা’দ আয়াত নং ১৩: ২৮ ] ওরা যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর যিকিরে তাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রেখো, আল্লাহর যিকিরেই অন্তর প্রশান্ত হয়। [ ১৩: ২৯ ] যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, কল্যাণ ও শুভ পরিণাম তাদেরই।

[ সুরা মুযযাম্মিল আয়াত নং ৭৩: ৮ ] সুতরাং তুমি তোমার প্রতি পালকের নাম স্মরণ কর এবং (অন্য ব্যস্ততা ছিন্ন করে) একনিষ্ঠভাবে তাতে মগ্ন হও। [ ৭৩: ৯ ] তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের প্রভু। তিনি ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই। অতএব, তাঁকেই কর্মবিধায়ক রূপে গ্রহণ কর।

[ সুরা নিসা আয়াত নং ৪: ১০৬ ] এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।

মোহর কাবিন এবং যৌতুক

মোহর হলো আল্লাহর বিধান অথবা আদেশ যা পালন করা আমাদের জন্য বাধ্যতামুলক। আকদের পর স্ত্রীর হাতে মোহর নগমোহর হলো আল্লাহর বিধান অথবা আদেশ যা পালন করা আমাদের জন্য বাধ্যতামুলক। আকদের পর স্ত্রীর হাতে মোহর নগদ দিতে হয়, না দিলে স্ত্রীসংগম অবৈধ। কাবিন এবং যৌতুকের সাথে ইসলাম ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। স্বামী সামর্থ্যানুযায়ী মোহর দেবে এবং স্ত্রীর মা বাবা স্বেচ্ছায় কিছু দিলে তা সানন্দে গ্রহণযোগ্য। স্বামীর জন্য স্ত্রীর ভরণপোষণ অবশ্যপালনীয় কর্তব্য। কিন্তু প্রভাবপ্রতিপত্তির জন্য বহ্বাড়ম্বরে কুসংস্কার এবং লৌকিক পরম্পরা ধর্মের নামে প্রচলিত হয়েছে। যৌতুক আর কৌতুক মুসলমানদের জন্য হারাম। আল্লাহর আদেশ থেকে লোকলাজ অগ্রগণ্য অথবা সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। ধর্ম এবং মোক্ষ বাদ দিয়ে আমাদের লক্ষ্য এখন মাত্র দুইটা হয়েছে, আর তা হলো অর্থ এবং কাম। অর্থলোভী এবং কামান্ধরা হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়। সত্য ধার্মিকরা কখনো কামান্ধ হয় না। মোক্ষলাভের জন্য ধর্মপালন করতে হয়। মনে রাখতে হবে, বিবাহ ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত। বিবাহে নরনারীর সম্পর্ক বৈধ হয়। অবৈধতায় বিপৎপাত হয়, বৈধতায় হয় ভাগ্যোদয়। ধর্ম এবং বিবাহ নিয়ে যারা বাড়াবাড়ি করে ওরা অভিশপ্ত। সীমালঙ্ঘনকারী শাস্তিপ্রাপ্ত হয় এবং অত্যাচারিকে কেউ পছন্দ করে না।

[ সূরা আর-রূম আয়াত: ২১ ] আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।

[ সূরা নিসা, আয়াত: ৪ ] আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশীমনে। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর।

[ সুরা মা’আরজি ৭০: ১৯ ] মানুষ তো সৃজিত হয়েছে অতিশয় অস্থির চিত্তরূপে। [ ৭০: ২০ ] যখন তাকে বিপদ স্পর্শ করে তখন সে হয় হা-হুতাশকারী। [ ৭০: ২১ ] আর যখন কল্যাণ তাকে স্পর্শ করে তখন সে হয় অতি কৃপণ; [ ৭০: ২২ ] তবে নামাযীরা এমন নয়।

[ সুরা আনকাবুত আয়াত নং ২৯: ৫৬ ] হে আমার মু’মিন বান্দারা! আমার পৃথিবী প্রশস্ত; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো। [ ২৯: ৫৭ ] জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রাহণকারী; অতঃপর তোমরা আমারই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে।

ত্রিশ বছর লেখালেখি করে যা জেনেছি তা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। সার্বিক সফলতার জন্য দয়া করে দোয়া করবেন।

লেখক এবং প্রকাশক মোহাম্মাদ আব্দুলহাক

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

চটির গল্প

চটির_গল্প

একাধিক অর্থ থাকা সত্ত্বেও আপত্তিকর অর্থে চটি শব্দ প্রচলিত হয়েছে এবং কামরিপুর তাড়নায় সন্তাড়িত হয়ে আমরাও ভুলেছি, অশ্লীলসাহিত্যের প্রভাবে মনোবল, মনের জোর এবং মানসিক শক্তি নষ্ট হয়। মনস্কামনা এবং মনের ইচ্ছায় যৌনতা প্রভাব বিস্তার করে। মনোবিবাদের জের ধরে প্রিয়জনের সাথে মনোবিচ্ছেদ হয়। কামোন্মত্ততা চিত্তচাঞ্চল্যের সাথে সম্পৃক্ত এবং স্বাভাবিক কিন্তু কামজ্বরে মনোবিকার হয়। কামরিপু বিশ্বপ্রকৃতিকে চটকদার রাখলেও যৌন বিকৃতির কারণ সাহিত্য এবং সমাজে মহাসমস্যা হচ্ছে। চটি শব্দে আসক্ত হওয়ার ফলে ভারসাম্য হারিয়ে যুবসমাজ এখন আত্মিক এবং মানসিক রোগে ভোগছে। অশ্লীলতায় সমাসক্ত হয়ে মানবতা বিকারগ্রস্ত হচ্ছে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব যৌবন এবং যুবক যুবতীরা মানবতার ধারক এবং বাহক। যার যৌবন নষ্ট তার জীবন নষ্ট। তিক্ত এবং কষ্টদায়ক সত্য হলো, নিঃসন্তানরা নির্বংশ এবং নিষ্কামরা নিষ্ফলা গাছের মত কালাকালে কয়লা হয়।

অসুস্থ সমাজেক সুস্থ করতে হলে মৃতপ্রায় সাহিত্যকে উজ্জীবিত করতে হবে। অশ্লীলসাহিত্যে মনোবৃত্তি নীচ হয়। অশ্লীল চিন্তায় কামশক্তি এবং চিন্তাবৃত্তি নষ্ট হয়ে মনের ব্যাধি বাড়ে। চটির কারণ চটুকের চটক নষ্ট হয়। চটির কারণ বিদ্বদ্গোষ্ঠীর ভুষ্টিনাশ হচ্ছে। অসুস্থ আত্মাকে সুস্থ করার জন্য এবং বিকারগ্রস্ত বিবেককে জাগ্রত করার জন্য সাহিত্যসাধনরা প্রয়োজন। ফাঁকফোক পেয়ে গ্রন্থাগারেও অশ্লীলসাহিত্য প্রেবেশ করেছে এবং বাণিজ্যিক পর্যায়ে সমাদৃত হওয়ায় মুনাফাখোররা লাভের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করে। ওরা জানে অর্থ শক্তি আনে এবং অশ্লীলতা অর্থ আনে।

মনে রাখতে হবে, ধর্মগ্রন্থ হলো সাহিত্যের আত্মা এবং ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ হলো মানবজীবনের চারটি লক্ষ্য। কামনাশূন্য মনে কামেচ্ছা থাকে না। নির্লোভ, নির্মোহ হলে মানুষ ভোগবাসনাবিমুখ হয়। পাপ-তাপ-শাপের জড় হওয়া সত্ত্বেও সর্বার্থসাধক কাম আমাদেরকে সম্পূর্ণ সাফল্যমণ্ডিত করে। সর্বার্থসিদ্ধির জন্য ষড়রিপুকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কামরিপু নিয়ন্ত্রিত হলে অন্য রিপুরা আপসে বশীভূত হয়। আদিরসের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার দরুন আদিম ব্যবসা এবং অশ্লীলসাহিত্যকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না, তবে সাধ্যসাধনায় নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

যাক, #গল্প লিখে #গাল্পিক হওয়ার পায়তারা শুরু হয়েছিল সেই কবে, হয়তো কয়েক হাজার বছর আগে। গল্পে কল্পনা থাকে, থাকে জল্পনা, থাকে রোমহর্ষক বাস্তবতা, থাকে বিষাক্ত ভালোবাসার বর্ণনা। নিষিদ্ধ গল্প লেখার জন্য নিষিদ্ধপল্লিতে যেতে হয় না। অভিশপ্ত ভালোবাসার গল্পে নাগর নাগরালী করলে নাগরী কলঙ্কিনী হয়। ঠনঠনে কলসি কাঁখে ঠাটঠমক টসকে হাঁটে রসবন্ত নাগরী। রসবতী রূপসির সাথে রসরঙ্গ করার জন্য রসিক হয় নাগর।

এমন এক নিষিদ্ধ গল্পের দৃশ্য …

চটি বই হাতে চটিতে যাওয়ার পথে বিজল্পিত পটে চটপটিওয়ালার সাথে চাটুবাদীর কথা কাটাকাটি করে …

চটপটিওয়ালা ঃ ‘চাটনি চেটে চাটুকা আজ চটচটে হবে। নিষিদ্ধ প্রেমে মজলে কুটুনীবুড়ির পেটিকোটে গিট লাগবে। বেশি চটচট করলে চাট্টি চটা ভাগে পড়বে।’
চাটুবাদী ঃ ‘বুঝেছি, কুঁজিকাঠি গুঁজে তোকে কুঁজড়ো করার জন্য কুঁজিকে ঘুষ দিতে হবে।’
চটপটিওয়ালা ঃ ‘নিখরচা চটপটি খেয়ে আজ যথেষ্ট চটপটে হয়েছ এবং চটিজুতো পায়ে দিয়ে যথেষ্ট চটাচটিও করেছ। এখন ঝটপট বকেয়া আদায় করলে ভীমরতির গতী বাড়বে।’

চাটুভাষিণী সশব্দে হেসে বলল, ‘কাঁজি গিলে পাজিরা কাজিয়া করছে। কাজ ফেলে কাজি বাজারে যাচ্ছে। ও চাটুবাদী, বারুণী পান করতে যাচ্ছি নাকি?’
চাটুবাদী ঃ ‘শুনেছি, চটাচটি করে ভিটেমাটি চাটি হারলে বাড়ইর মানসিক চাঞ্চল্য বাড়ে। নেশায় টান মারলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে চটির দোয়ারে।’
চাটুভাষিণী ঃ ‘নিশুতিরাতে ঘুম চটলে বন্ধুত্ব চটে, উকুনের রাজত্ব জোটেবুড়ির জটে।’
চাটুবাদী ঃ ‘কামনায় কামার্ত হলে কামিনী কামকেলির জন্য কামুকের শরণাপন্ন হয়।’
চাটুভাষিণী ঃ ‘চটকদার সাজে চটুকে সাজার আসল উদ্দেশ্য হলো মনস্কামনা অথবা মনোবাসনা পূরণ করা। কথিত আছে, কামান্ধ হয়ে রথীমহারথীরা যুদ্ধ হেরেছেন। মৈথুনে আত্মিক এবং মানসিক শান্তি লাভ হয়। রমণে রমণীকে হারাতে হলে কামশাস্ত্র অধ্যয়ন করতে হয়।’

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

শুধু দীর্ঘশ্বাস

শুধু_দীর্ঘশ্বাসের_গল্প

বাংলাদেশ হলো অহংকারীদের আখড়া! অহংকারীকে আল্লাহ ঘৃণা করেন। আমার কথা বিশ্বাস করতে হবে না, চাইলে সত্যাসত্য যাছাই করতে পারবেন। সরকার শব্দের প্রকৃত অর্থ সকলে জানে না। বেশির ভাগ এই বিশ্বাস মনে পোষণ করে, সরকার শব্দের আওতায় যেতে পারলেই হলো, টাকার পাহাড়র বানাতে সময় লাগবে না। রীতি নীতি না বুঝে প্রতিপত্তিশালী হওয়ার জন্য গণ্ডমূর্খরা মৃত্যুর ঠিকাদারি করে। চোরকুঠুরিতে শুয়ে আরাম করে চূড়ামণি, হল্লাগাড়ি করে চোর-ছ্যাঁচড় আর মার্কামারা চোরে। দেশ ভরছে ঠগ বাটপাড়ে, জং ধরে সত্যনিষ্ঠ শব্দ নষ্ট হচ্ছে।
মনে রাখতে হবে, প্রতিবাদে পরিবর্তন হয়, প্রতিবাদীরা প্রতিদ্বন্দী নয়।

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র