দশচক্রের গল্প

দশচক্রের_গল্প

ধর্ম মানুষকে সুশৃঙ্খল করে। শিক্ষার অভাবে মানুষ ধর্মাধিকারীকে ধর্মের মালিক মনে করে। ধর্ম অথবা স্রষ্টাকে জানতে হলে পড়তে হয়। পড়ার জন্য আমাদের হাতে সময় নেই। ধর্মাধিকারী শব্দের অর্থ বিচারক। ধর্মোদ্দেশে অনেক নারী বশ্যা হয়। ধর্মের ষাঁড় অনেকের বাগান নাশ করে। ইদানীং ধর্মারণ্যে গোপনে অনিষ্ট হয়। বকধার্মিকের খপ্পরে পড়ে অসহায় সতি অসতি হওয়ার পর দশচক্রে দেশবাসী দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। পরমান্ন পাতে দিয়ে বলা হয়েছে, অনশন ধর্মঘট প্রত্যাহার না করলে এই অনশন তোমাদের জন্য প্রায়োপবেশন হবে। অতঃপর এক খাবলা নুন পান্তা মুখে পুরে ঠ্যাং টেনে হাঁটতে শুরু করে মৃত্যুকামী বলল, মর্মঘাতী আর্তনাদে পরিস্থিতি মর্মান্তিক হবে। তার কপালে গুলি করে শান্তিরক্ষী বললো, শান্তিভঙ্গ করে পাপিষ্ঠ হয়েছিস, পাপমোচনের জন্য নরকে যা। তার মৃত্যুর পর জীবন থামেনি এবং থামবেও না। নিরাপত্তার সাথে সংসারাশ্রমে সাধনা করতে হবে। পিছেনে তাকাবার সময় নেই। পাপের প্রায়শ্চিত্ত এবং শাপমোচনে আত্মশুদ্ধি করতে হবে। গতানুগতিক ধারায় জীবন চলবে। গতানুশোচনে গতায়ু হলে গন্তব্য রৌরব হবে। গন্ধ দূর করার জন্য গন্ধনকুল কখনো সুগন্ধি ফুলের রসে গোসল করে না। জমিজিরেতের জের ধরে মারামারি করলে চিরাচরিত প্রথানুযায়ী মাথায় বাড়ি পড়বে। তপোময় তপোনিধিরা তপোলোক প্রবেশ করার জন্য তপোবনে বসে জপতপ তপস্যা করেন। তপোধনের জন্য তপস্বীরা সাধ্যসাধনা করেন। সস্তা জনপ্রিয়তা এবং খামোখা গ্যাঁজানোর জন্য আমরা স্বেচ্ছায় তপস্যার অবসান করে শান্তি এবং স্বস্তি নষ্ট করি।

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র