Mohammed Abdulhaque

Mohammed Abdulhaque

Book Printing And Publishing
Book publisher
Mohammed Abdulhaque

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

চটির গল্প

চটির_গল্প

একাধিক অর্থ থাকা সত্ত্বেও আপত্তিকর অর্থে চটি শব্দ প্রচলিত হয়েছে এবং কামরিপুর তাড়নায় সন্তাড়িত হয়ে আমরাও ভুলেছি, অশ্লীলসাহিত্যের প্রভাবে মনোবল, মনের জোর এবং মানসিক শক্তি নষ্ট হয়। মনস্কামনা এবং মনের ইচ্ছায় যৌনতা প্রভাব বিস্তার করে। মনোবিবাদের জের ধরে প্রিয়জনের সাথে মনোবিচ্ছেদ হয়। কামোন্মত্ততা চিত্তচাঞ্চল্যের সাথে সম্পৃক্ত এবং স্বাভাবিক কিন্তু কামজ্বরে মনোবিকার হয়। কামরিপু বিশ্বপ্রকৃতিকে চটকদার রাখলেও যৌন বিকৃতির কারণ সাহিত্য এবং সমাজে মহাসমস্যা হচ্ছে। চটি শব্দে আসক্ত হওয়ার ফলে ভারসাম্য হারিয়ে যুবসমাজ এখন আত্মিক এবং মানসিক রোগে ভোগছে। অশ্লীলতায় সমাসক্ত হয়ে মানবতা বিকারগ্রস্ত হচ্ছে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব যৌবন এবং যুবক যুবতীরা মানবতার ধারক এবং বাহক। যার যৌবন নষ্ট তার জীবন নষ্ট। তিক্ত এবং কষ্টদায়ক সত্য হলো, নিঃসন্তানরা নির্বংশ এবং নিষ্কামরা নিষ্ফলা গাছের মত কালাকালে কয়লা হয়।

অসুস্থ সমাজেক সুস্থ করতে হলে মৃতপ্রায় সাহিত্যকে উজ্জীবিত করতে হবে। অশ্লীলসাহিত্যে মনোবৃত্তি নীচ হয়। অশ্লীল চিন্তায় কামশক্তি এবং চিন্তাবৃত্তি নষ্ট হয়ে মনের ব্যাধি বাড়ে। চটির কারণ চটুকের চটক নষ্ট হয়। চটির কারণ বিদ্বদ্গোষ্ঠীর ভুষ্টিনাশ হচ্ছে। অসুস্থ আত্মাকে সুস্থ করার জন্য এবং বিকারগ্রস্ত বিবেককে জাগ্রত করার জন্য সাহিত্যসাধনরা প্রয়োজন। ফাঁকফোক পেয়ে গ্রন্থাগারেও অশ্লীলসাহিত্য প্রেবেশ করেছে এবং বাণিজ্যিক পর্যায়ে সমাদৃত হওয়ায় মুনাফাখোররা লাভের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করে। ওরা জানে অর্থ শক্তি আনে এবং অশ্লীলতা অর্থ আনে।

মনে রাখতে হবে, ধর্মগ্রন্থ হলো সাহিত্যের আত্মা এবং ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ হলো মানবজীবনের চারটি লক্ষ্য। কামনাশূন্য মনে কামেচ্ছা থাকে না। নির্লোভ, নির্মোহ হলে মানুষ ভোগবাসনাবিমুখ হয়। পাপ-তাপ-শাপের জড় হওয়া সত্ত্বেও সর্বার্থসাধক কাম আমাদেরকে সম্পূর্ণ সাফল্যমণ্ডিত করে। সর্বার্থসিদ্ধির জন্য ষড়রিপুকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কামরিপু নিয়ন্ত্রিত হলে অন্য রিপুরা আপসে বশীভূত হয়। আদিরসের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার দরুন আদিম ব্যবসা এবং অশ্লীলসাহিত্যকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না, তবে সাধ্যসাধনায় নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

যাক, #গল্প লিখে #গাল্পিক হওয়ার পায়তারা শুরু হয়েছিল সেই কবে, হয়তো কয়েক হাজার বছর আগে। গল্পে কল্পনা থাকে, থাকে জল্পনা, থাকে রোমহর্ষক বাস্তবতা, থাকে বিষাক্ত ভালোবাসার বর্ণনা। নিষিদ্ধ গল্প লেখার জন্য নিষিদ্ধপল্লিতে যেতে হয় না। অভিশপ্ত ভালোবাসার গল্পে নাগর নাগরালী করলে নাগরী কলঙ্কিনী হয়। ঠনঠনে কলসি কাঁখে ঠাটঠমক টসকে হাঁটে রসবন্ত নাগরী। রসবতী রূপসির সাথে রসরঙ্গ করার জন্য রসিক হয় নাগর।

এমন এক নিষিদ্ধ গল্পের দৃশ্য …

চটি বই হাতে চটিতে যাওয়ার পথে বিজল্পিত পটে চটপটিওয়ালার সাথে চাটুবাদীর কথা কাটাকাটি করে …

চটপটিওয়ালা ঃ ‘চাটনি চেটে চাটুকা আজ চটচটে হবে। নিষিদ্ধ প্রেমে মজলে কুটুনীবুড়ির পেটিকোটে গিট লাগবে। বেশি চটচট করলে চাট্টি চটা ভাগে পড়বে।’
চাটুবাদী ঃ ‘বুঝেছি, কুঁজিকাঠি গুঁজে তোকে কুঁজড়ো করার জন্য কুঁজিকে ঘুষ দিতে হবে।’
চটপটিওয়ালা ঃ ‘নিখরচা চটপটি খেয়ে আজ যথেষ্ট চটপটে হয়েছ এবং চটিজুতো পায়ে দিয়ে যথেষ্ট চটাচটিও করেছ। এখন ঝটপট বকেয়া আদায় করলে ভীমরতির গতী বাড়বে।’

চাটুভাষিণী সশব্দে হেসে বলল, ‘কাঁজি গিলে পাজিরা কাজিয়া করছে। কাজ ফেলে কাজি বাজারে যাচ্ছে। ও চাটুবাদী, বারুণী পান করতে যাচ্ছি নাকি?’
চাটুবাদী ঃ ‘শুনেছি, চটাচটি করে ভিটেমাটি চাটি হারলে বাড়ইর মানসিক চাঞ্চল্য বাড়ে। নেশায় টান মারলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে চটির দোয়ারে।’
চাটুভাষিণী ঃ ‘নিশুতিরাতে ঘুম চটলে বন্ধুত্ব চটে, উকুনের রাজত্ব জোটেবুড়ির জটে।’
চাটুবাদী ঃ ‘কামনায় কামার্ত হলে কামিনী কামকেলির জন্য কামুকের শরণাপন্ন হয়।’
চাটুভাষিণী ঃ ‘চটকদার সাজে চটুকে সাজার আসল উদ্দেশ্য হলো মনস্কামনা অথবা মনোবাসনা পূরণ করা। কথিত আছে, কামান্ধ হয়ে রথীমহারথীরা যুদ্ধ হেরেছেন। মৈথুনে আত্মিক এবং মানসিক শান্তি লাভ হয়। রমণে রমণীকে হারাতে হলে কামশাস্ত্র অধ্যয়ন করতে হয়।’

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

শৈলী | গল্প

সুরের_দেশের_রানীর_গল্প

গাইন হওয়ার জন্য পলাশতলে বসে পলাশমিঞা দিনমান গুনগুন করে। একদিন হঠাৎ ঝম্পে উঠে ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে এক্কা দুক্কা খেলার ঘুঁটির মতন পাথর দেখে কপাল কুঁচকে দাঁড়ায় এবং পরখ করে তাকিয়ে পা দিয়ে মাটি সরিয়ে অগ্রসর হয়। পলাশ গাছের নিচে যেয়ে কপাল কুঁচকে দ্রুত অগ্রসর হয়ে মাথা উঁচিয়ে গাছের দিকে তাকায়। এমন সময় একটা ফুল ঝরে পড়ে। ফুল যেখানে পড়ে সেখানে যেয়ে চিন্তিত হয়ে অপলদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। কিছুক্ষণ পর হাঁটু গেড়ে বসে হাত দিয়ে বালি সরায়। শিল পাথরে খোদাই করা লেখা দেখে অত্যাশ্চর্য হয়ে দ্রুত তা হাতে নিয়ে আরো আশ্চর্য হয়। শিলাপাথরে যা লেখা তা একটা গান। পলাশ তাল লয় জানে না। সে যখন গান গায় তখন আড়ালে যায়ার জন্য কাক কোকিলে উড়াল দেয়। তার গান শোনে ভরা যৌবনে কেউ আড়কালা হতে চায় না। শিলা হাতে পলাশ হাঁটতে শুরু করলে গাছ থেকে অঝোরে ফুল ঝড়ে। যেন অভ্যর্থনার জন্য ফুল ছিটিয়ে কেউ তাকে মানদানে বন্দনা করছে। পলাশ সেদিকে খেয়াল না করে দ্রুত তার কামরায় যেয়ে কম্পিউটার চালিয়ে কানে হেডফোন লাগিয়ে গানের সপ্টওয়্যার খুলে শব্দে সুরারোপ করায় ব্যস্ত হয়, ‘তোমার লগে আইজ নিশাত খেইড় খেলাইমো, খেইড় খেলাইমো বন্ধু খেইড় খেলাইমো। হাতে মেন্ধি গায়ে হলুদ পায়ে আলতা লাগাইমো, কুম কুম দিয়া আইজ তোমারে রাঙাইমো, তোমার লগে আইজ নিশাত খেইড় খেলাইমো- বন্ধু খেইড় খেলাইমো। কড়ি আইনছি ঘুঁটি আইনছি আরো আইনছি মইন, যৌবন পণ ধইরা আমি দান ফালাইমো, বন্ধু দান ফালাইমো, আইজ রাইতে তোমার লগে পাশা খেলাইমো, তোমার লগে আইজ নিশাত খেইড় খেলাইমো বন্ধু খেইড় খেলাইমো। ষোলো ঘুঁটির তিন দান জিতলে সোগাগিনী হইমো, কড়ি ফালাইয়া পাশা খেলাত হারলে রিতরস পাইমো, তোমার লগে আইজ নিশাত খেইড় খেলাইমো বন্ধু খেইড় খেলাইমো। গাঙগো নয়া পানি আইছে নৌকা বাইচ করমো, পুকরির ফন পানিত বন্ধু তোমার লগে লাই খেলাইমো, অতদিনে পাইছি তোমারে বন্ধু আইজ খেইড় খেলাইমো, তোমার লগে আইজ নিশাত খেইড় খেলাইমো বন্ধু খেইড় খেলাইমো।’
হঠাৎ বারোটার ঘণ্টি বাজলে আড়মোড়া দিয়ে শেষ বারের মত গান শুনার জন্য হেডফোন হাতে নিলে শান্ত-নারীকণ্ঠ বলল, ‘পলাশ, তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
পলাশ চমকে বুকে থু থু দিয়ে চারপাশে তাকিয়ে কম্পিতকণ্ঠে বলল, ‘কে আমার সাথে কথা বলছ?’
‘আমার প্রেমীকবর আমাকে শৈলী ডাকতো। তুমিও আমাকে শৈলী ডাকতে পারবে। শৈলী শব্দ শুনতে নারী বাচক তাই না?’
‘জি, শুনতে মেয়েদের নামের মতন। তবে শৈলী শব্দের অর্থ রীতি, প্রণালী। আচার-ব্যবহার অথবা আহার-বিহারের বিশিষ্ট রীতি। শিল্প প্রভৃতির সম্পূর্ণ নিজস্ব ধাচ। গান নিশ্চয় আপনি লিখেছিলেন?’
‘হ্যাঁ, বন্ধুর সাথে খেইড় খেলাতে পারিনি।’
‘আমি আসলে গান গাইতে পারি না। আমি নতুন একটা গান লিখেছিলাম। আপনি শুনতে চাইলে শুনাব। আপনার কি সময় হবে?’
‘হ্যাঁ, শুনাও।’
পলাশ কথা না বলে গান চালায়, ‘প্রাণো বন্ধু রে বন্ধু ফিরে আও ঘরে, তোমার বিহনে সোনার তনু পইড়া আছে ঘরের দোয়ারে, প্রাণো বন্ধু রে, বন্ধু নিথর দেহ মুখে নাই রা মনের দুঃখ খুলে বলব কারে? বন্ধু তুমি নাই মোর বুকের মাঝারে, প্রাণো বন্ধু রে বন্ধু ফিরে আও ঘরে। প্রাণো বন্ধু রে, বন্ধু মনের দুঃখ মনে রইল অনুতাপ অন্তরে, ঘোর নিদানে বান্ধব নাই কেউ, সাথি নাই মোর আইন্ধার কইবরে, প্রাণো বন্ধু রে, বন্ধু ফিরে আও ঘরে।’

পলাশ থেমে বুক ভরে শ্বাস টানলে শান্ত নারীকণ্ঠ বলল…
‘জানো পলাশ? তোমার গান আমি তন্ময় হয়ে শুনি। তাল লয়, যতি ছেদ মাত্রা গুনে গায়করা গান গায়। তোমার মতো সাধকের শৈলী এবং শৈল্পিক চেতনা থেকেই শিল্পির জন্ম হয়। তুমি সাহস করে নিয়ম রীতি ভেঙে বিশিষ্ট রীতি তৈরী করো। মনের ভাব একাধিক ভাবে প্রকাশ করা যায়, তদ্রুপ একটা গান অনেক তাল লয়ে গাওয়া যায়। প্রচলিত সুরে না গেয়ে নতুন সুর এবং রাগে গাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়, শুধু সাধকরা তা পারে।’
‘আপনার কথা এবং উপস্থিতি আমাকে বিত্রস্ত করেছে। আমার গায়ে বার বার কাটা দিচ্ছে। আমি এখন টুনিজানির বগলে যেতে চাই।’ বলে পলাশ কান্নার ভান করে ডানে বাঁয়ে তাকালে নারীকণ্ঠ খিলখিল করে হেসে বলল, ‘শাঁকচুন্নি নই আমি হলাম সুরের দেশের রানী।’

-সমাপ্ত –

বইর নাম — আঠারোটা অসমাপ্ত প্রমোপন্যাস

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

ঘুমে গুম

গুমের_গল্প

গল্প করার জন্য এক গল্পবাজ বাজারে গিয়েছিল। গল্প করার বিষয় মনের কাগজে খুঁজে না পেয়ে চুনো থেকে শুরু করে চাঁইকে নিয়ে গালগল্প শুরু করে। গল্প শুনে বিরক্ত হয়ে গল্পের ভক্তরা তাকে তাড়া করে। জল্পনা করে কল্পনার সাথে দেখা করা জন্য গল্পবাজ আড়াআড়ি দৌড়ে বাড়ি পৌঁছে স্ত্রীর সাথে গল্প শুরু করে। গল্প শুনে স্ত্রী বলল, আজ তো ভালো গল্প শোনিয়েছ! এত মজার গল্প সাজালে কমনে? বাজারে নিশ্চয় আরো মজার গল্পকার এবং গল্প ছিল? স্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে গল্পবাজ ভাবলো, আনাড়ির মত গল্প বলার কারণ হয়তো আজ কপাল ভেঙেছে। তো কী হলো, গল্প বাদ দিয়ে অল্প সল্প কল্পনা করে গল্পবাজ ঘুমিয়ে পড়ে এবং ভোরে কাক কোকিলের কানাকানি শুনে তার চোখ কপালে ওঠে। যাদেরকে নিয়ে গল্প গুজব করেছিল আজগুবিভাবে ওরা তাকে ঘুমে গুম করেছে।

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র

what happens next

what_happens_next

What happens next is, the sun will start to heat up, water and air will evaporate from the atmosphere, death will touch everyone’s soul. Many do not even want to know that the propertied and the destitute will die.

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র