চটির গল্প

চটির_গল্প

একাধিক অর্থ থাকা সত্ত্বেও আপত্তিকর অর্থে চটি শব্দ প্রচলিত হয়েছে এবং কামরিপুর তাড়নায় সন্তাড়িত হয়ে আমরাও ভুলেছি, অশ্লীলসাহিত্যের প্রভাবে মনোবল, মনের জোর এবং মানসিক শক্তি নষ্ট হয়। মনস্কামনা এবং মনের ইচ্ছায় যৌনতা প্রভাব বিস্তার করে। মনোবিবাদের জের ধরে প্রিয়জনের সাথে মনোবিচ্ছেদ হয়। কামোন্মত্ততা চিত্তচাঞ্চল্যের সাথে সম্পৃক্ত এবং স্বাভাবিক কিন্তু কামজ্বরে মনোবিকার হয়। কামরিপু বিশ্বপ্রকৃতিকে চটকদার রাখলেও যৌন বিকৃতির কারণ সাহিত্য এবং সমাজে মহাসমস্যা হচ্ছে। চটি শব্দে আসক্ত হওয়ার ফলে ভারসাম্য হারিয়ে যুবসমাজ এখন আত্মিক এবং মানসিক রোগে ভোগছে। অশ্লীলতায় সমাসক্ত হয়ে মানবতা বিকারগ্রস্ত হচ্ছে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব যৌবন এবং যুবক যুবতীরা মানবতার ধারক এবং বাহক। যার যৌবন নষ্ট তার জীবন নষ্ট। তিক্ত এবং কষ্টদায়ক সত্য হলো, নিঃসন্তানরা নির্বংশ এবং নিষ্কামরা নিষ্ফলা গাছের মত কালাকালে কয়লা হয়।

অসুস্থ সমাজেক সুস্থ করতে হলে মৃতপ্রায় সাহিত্যকে উজ্জীবিত করতে হবে। অশ্লীলসাহিত্যে মনোবৃত্তি নীচ হয়। অশ্লীল চিন্তায় কামশক্তি এবং চিন্তাবৃত্তি নষ্ট হয়ে মনের ব্যাধি বাড়ে। চটির কারণ চটুকের চটক নষ্ট হয়। চটির কারণ বিদ্বদ্গোষ্ঠীর ভুষ্টিনাশ হচ্ছে। অসুস্থ আত্মাকে সুস্থ করার জন্য এবং বিকারগ্রস্ত বিবেককে জাগ্রত করার জন্য সাহিত্যসাধনরা প্রয়োজন। ফাঁকফোক পেয়ে গ্রন্থাগারেও অশ্লীলসাহিত্য প্রেবেশ করেছে এবং বাণিজ্যিক পর্যায়ে সমাদৃত হওয়ায় মুনাফাখোররা লাভের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করে। ওরা জানে অর্থ শক্তি আনে এবং অশ্লীলতা অর্থ আনে।

মনে রাখতে হবে, ধর্মগ্রন্থ হলো সাহিত্যের আত্মা এবং ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ হলো মানবজীবনের চারটি লক্ষ্য। কামনাশূন্য মনে কামেচ্ছা থাকে না। নির্লোভ, নির্মোহ হলে মানুষ ভোগবাসনাবিমুখ হয়। পাপ-তাপ-শাপের জড় হওয়া সত্ত্বেও সর্বার্থসাধক কাম আমাদেরকে সম্পূর্ণ সাফল্যমণ্ডিত করে। সর্বার্থসিদ্ধির জন্য ষড়রিপুকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কামরিপু নিয়ন্ত্রিত হলে অন্য রিপুরা আপসে বশীভূত হয়। আদিরসের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার দরুন আদিম ব্যবসা এবং অশ্লীলসাহিত্যকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না, তবে সাধ্যসাধনায় নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

যাক, #গল্প লিখে #গাল্পিক হওয়ার পায়তারা শুরু হয়েছিল সেই কবে, হয়তো কয়েক হাজার বছর আগে। গল্পে কল্পনা থাকে, থাকে জল্পনা, থাকে রোমহর্ষক বাস্তবতা, থাকে বিষাক্ত ভালোবাসার বর্ণনা। নিষিদ্ধ গল্প লেখার জন্য নিষিদ্ধপল্লিতে যেতে হয় না। অভিশপ্ত ভালোবাসার গল্পে নাগর নাগরালী করলে নাগরী কলঙ্কিনী হয়। ঠনঠনে কলসি কাঁখে ঠাটঠমক টসকে হাঁটে রসবন্ত নাগরী। রসবতী রূপসির সাথে রসরঙ্গ করার জন্য রসিক হয় নাগর।

এমন এক নিষিদ্ধ গল্পের দৃশ্য …

চটি বই হাতে চটিতে যাওয়ার পথে বিজল্পিত পটে চটপটিওয়ালার সাথে চাটুবাদীর কথা কাটাকাটি করে …

চটপটিওয়ালা ঃ ‘চাটনি চেটে চাটুকা আজ চটচটে হবে। নিষিদ্ধ প্রেমে মজলে কুটুনীবুড়ির পেটিকোটে গিট লাগবে। বেশি চটচট করলে চাট্টি চটা ভাগে পড়বে।’
চাটুবাদী ঃ ‘বুঝেছি, কুঁজিকাঠি গুঁজে তোকে কুঁজড়ো করার জন্য কুঁজিকে ঘুষ দিতে হবে।’
চটপটিওয়ালা ঃ ‘নিখরচা চটপটি খেয়ে আজ যথেষ্ট চটপটে হয়েছ এবং চটিজুতো পায়ে দিয়ে যথেষ্ট চটাচটিও করেছ। এখন ঝটপট বকেয়া আদায় করলে ভীমরতির গতী বাড়বে।’

চাটুভাষিণী সশব্দে হেসে বলল, ‘কাঁজি গিলে পাজিরা কাজিয়া করছে। কাজ ফেলে কাজি বাজারে যাচ্ছে। ও চাটুবাদী, বারুণী পান করতে যাচ্ছি নাকি?’
চাটুবাদী ঃ ‘শুনেছি, চটাচটি করে ভিটেমাটি চাটি হারলে বাড়ইর মানসিক চাঞ্চল্য বাড়ে। নেশায় টান মারলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে চটির দোয়ারে।’
চাটুভাষিণী ঃ ‘নিশুতিরাতে ঘুম চটলে বন্ধুত্ব চটে, উকুনের রাজত্ব জোটেবুড়ির জটে।’
চাটুবাদী ঃ ‘কামনায় কামার্ত হলে কামিনী কামকেলির জন্য কামুকের শরণাপন্ন হয়।’
চাটুভাষিণী ঃ ‘চটকদার সাজে চটুকে সাজার আসল উদ্দেশ্য হলো মনস্কামনা অথবা মনোবাসনা পূরণ করা। কথিত আছে, কামান্ধ হয়ে রথীমহারথীরা যুদ্ধ হেরেছেন। মৈথুনে আত্মিক এবং মানসিক শান্তি লাভ হয়। রমণে রমণীকে হারাতে হলে কামশাস্ত্র অধ্যয়ন করতে হয়।’

© Mohammed Abdulhaque

উপন্যাস সমগ্র